শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২১ উপলক্ষে ছুটির নোটিশ

বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপনী লগ্ন ‘বিজয়া দশমী’ উপলক্ষে ‘গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস’-এ আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২১ (শুক্রবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। প্লুরালিস্ট সোসাইটি ও গুরুকুলের জীবনদর্শন গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ বিনির্মাণে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। গুরুকুল মনে করে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনা হবে এমন এক মিলনমেলা যেখানে সকল ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষ তাদের স্ব-স্ব বিশ্বাস ও সংস্কৃতি নিয়ে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে সহাবস্থান করবে। শারদীয় দুর্গাপূজার এই ছুটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং প্রতিটি সম্প্রদায়ের উৎসবকে সম্মান জানানোর মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার একটি সনিষ্ঠ প্রয়াস। ছুটির বিস্তারিত সময়সূচী প্রশাসন বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী: ছুটির তারিখ: ১৫ অক্টোবর ২০২১ (শুক্রবার)। কার্যক্রম পুনরায় শুরু: ১৬ অক্টোবর শনিবারের ছুটির ধারাবাহিকতায় আগামী ১৭ অক্টোবর ২০২১ (রবিবার) থেকে ক্যাম্পাসের সকল ক্লাস, পরীক্ষা এবং দাপ্তরিক কাজ পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী যথারীতি পরিচালিত হবে। নিরাপত্তা ও ভ্রাতৃত্বের নির্দেশনা উৎসবকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও উৎসবের পবিত্রতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। গুরুকুল বিশ্বাস করে, উৎসবের আনন্দ যখন বৈষম্যহীনভাবে সকলের মাঝে ভাগ করে নেওয়া হয়, তখনই একটি সুন্দর ও সহনশীল সমাজ গড়ে ওঠে। কর্তৃপক্ষের বার্তা গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের প্রশাসন বিভাগ জানিয়েছে, “গুরুকুল পরিবার বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যে বিশ্বাস করে। আমাদের ক্যাম্পাসে সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই আমাদের প্রকৃত শিক্ষার পরিচয়। বিজয়া দশমীর এই পুণ্য তিথিতে আমরা সকল ধর্মাবলম্বীদের মাঝে মৈত্রী ও সংহতির জয়গান গাই।” গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস পরিবারের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়াবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমীর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। আরও দেখুন: গুরুকুল ক্যাম্পাসে দ্বীন ও ধর্ম বিষয়ক নীতিমালা
যুব উন্নয়নে ক্রীড়ার ভূমিকা
যুব উন্নয়নে ক্রীড়ার ভূমিকা : সারাবিশ্বের কাছে দ্রুত উন্নয়নশীল বাংলাদেশের পরিচিতি এখন লক্ষ্যনীয়। এই অর্জনের অন্যতম অংশীদার বাংলাদেশের। ক্রীড়াঙ্গন। বাংলাদেশ অধিকাংশ MDG সহ অন্যান্য সূচক অর্জনের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়া। বর্তমানে আমাদের দেশ SDG অর্জনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যা অর্জনের জন্য প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম এবং নিয়মনীতি। সুতরাং এটি অর্জনের জন্য যুব ও ক্রীড়ার উন্নয়ন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ক্রীড়ার মধ্যদিয়ে প্রশিক্ষিত যুব সমাজকে সুসংঘটিত ও সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তুলে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের মধ্যদিয়ে যুবকদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশলাভ করার পাশাপাশি তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা সৃষ্টি, আত্নবিশ্বাস প্রতিষ্ঠাসহ আত্ননির্ভরশীল করে গড়ে তোলা যায়। ফলে পরিবার, সমাজ তথা দেশের আপামর জনসাধারণের শারীরিক ও মানসিক উন্নয়নে সুস্থ যুব সমাজ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারে। ক্রীড়া কি? শুধুমাত্র শারীরিক কসরতই ক্রীড়া নয়। সুনিদিষ্ট, সুনির্ধারিত, নিয়মনীতি সম্বলিত, কৌশলপূর্ণ শারীরিক কার্যক্রমকেই ক্রীড়া বলা হয়। অন্যভাবে বলতে গেলে নিছক আনন্দ লাভ নয় বরঞ্চ পরিকল্পনামাফিক সুনির্ধারিত কার্যক্রমই ক্রীড়া। মূলত ক্রীড়া হচ্ছে সংগঠিত, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, বিনোদনধর্মী এবং দক্ষতাসূচক শারীরিক কার্যকলাপ প্রদর্শনের উত্তম ক্ষেত্র। যুব কি? যুব শব্দটি অতি পরিচিত হলেও এর কোন বৈশ্বিক সংজ্ঞা পাওয়া যায় না। তদুপরি প্রথাগতভাবে আমরা বলতে পারি, শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত সময়ের মধ্যবর্তী সময়কালই হল যুব সময়। African Youth Forum, UNESCO, UN এর ভাষ্যমতে ১৫-২৪ বত্সর বয়স্ক কুসংস্কারবিহীন ব্যক্তি যুব বা যুবক। Sub-Sahara African-দের মতে ১৫-৩০/৩৫ বৎসর বয়স্ক ব্যাক্তি হল যুবক। Youth Dictionary এর সংজ্ঞা অনুযায়ী সেইসব ব্যক্তিবর্গ যুবক বা খুব যারা এখনও পর্যন্ত প্রাপ্তবয়স্ক সময়ে পদার্পণ করেনি। Cambridge English সংজ্ঞা অনুযায়ী যুব হচ্ছে তারা যারা মনে করে তারা তরুণ এবং তরুণ থাকতে চান। সর্বোপরি বাংলাদেশের যুবনীতি মতে, বর্তমানে বাংলাদেশের ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়স্ক নাগরিক যুবক হিসেবে সংজ্ঞায়িত। যুবকদের স্বাস্থ্য উন্নয়নে ক্রীড়া : প্রতিনিয়ত ক্যামিকেলযুক্ত খাবার গ্রহনের ফলে আমাদের স্বাস্থ্য ক্রমান্বয়ে হুমকির মুখে সম্মুখীন হচ্ছে। এছাড়া নম কমিউনিকেবল ডিজিজ(NCD) যথা: ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার ইত্যাদি মরনব্যাধি আক্রান্ত হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। তাই যুবকদের স্বাস্থ্যের উন্নয়ন না হলে প্রতিযোগিতামূলক পৃথিবীতে টিকে থাকা অসম্ভব। মানুষের সু-স্বাস্থ্য গঠনে ক্রীড়া অর্থনী ভূমিকা পালন করতে পারে। ক্রীড়ার মাধ্যমে যেসব শারীরিক উন্নয়ন হয় তার অন্যতম হলঃ শারীরিক কাঠামো শক্তিশালী হওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, অধিক পরিশ্রম করার ক্ষমতা তৈরি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, বিষণ্ণতা, হতাশা ইত্যাদি রোগ হতে মুক্তি ইত্যাদি। শিক্ষা উন্নয়নে ক্রীড়া : একটা দেশের মান নির্ভর করে সেদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর। প্রবাদ আছে যে জাতি যত শিক্ষিত সে জাতি তত উন্নত। জাতিকে উন্নত করতে যেমন শিক্ষার বিকল্প নেই তেমনি শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষার পাশাপাশি সুস্থ বিনোদনের প্রয়োজন। সুস্থ বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হল ক্রীড়া। এ বিবেচনা থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন আঙ্গিকে ক্রীড়াকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ২০১২ সালে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণী পর্যন্ত শারীরিক শিক্ষা স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা’ নামক একটি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল যা শিক্ষার্থীকে ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে এ বিষয়টি শিক্ষা কারিকলাম থেকে বাদ দেয়ায় ক্রীড়া ক্ষেত্রে অংশ গ্রহণ অনেকাংশে কমে গিয়েছে। স্কুল পর্যায় হতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক কর্মসূচী, প্রশিক্ষণ প্রভৃতির ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীদের মধ্য হতে হতাশা, মাদক গ্রহণ, জঙ্গিবাদ, কর্মবিমুখতা ইত্যাদি দূরীভূত করা সম্ভব হবে। ক্রীড়া সুস্থ দেহ সুস্থ মন, জ্ঞানার্জনে মনোনিবেশসহ উন্নত ও আলোকিত মানুষ সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। সামাজিক উন্নয়নে ক্রীড়া : জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বিজয় নয় সংগ্রাম, সমাজকে সর্বদা সংগ্রামের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। সমাজের কারিগররা যদি দুর্বল বা সংগ্রামে ভীত হয় তবে সমাজ সমানে অগ্রসর হতে পারেনা। সমাজকে উন্নয়নের দিকে অগ্রসর করার পূর্ব শর্ত হল সমাজকর্মীদের সুস্থ, সুশিক্ষিত ও শক্তিশালী করা। তাই ব্যরন পিয়ারে দ্যা কুবার্তে বলেছিলেন।”খেলাধুলা না করিলে নিছক বিদ্যানুশীলন জীবনের উদ্যম, শক্তি ও কর্মক্ষমতার অপচয় করিবে”। ক্রীড়া যুবকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বোধ তৈরি, নেতৃত্বদানের গুণাবলী, মানুষের মধ্যে আন্তঃ সম্পর্ক তৈরি, অধিক পরিশ্রমী করা, পরাজয়ে ধৈর্য্য ধারণ ও জয়ে আতৃবিশ্বাসী হওয়া, জাতি, ধর্ম,ও বর্ণগত বৈষম্যবিহীন সমাজ বিনির্মাণ, সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন, নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনে উৎসাহিত ও সময় সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে ক্রীড়া : বর্তমান বিশ্বে বহুল প্রচলিত একটি কথা হল “প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব।”। প্রত্যেকটা দেশ এ প্রতিযোগিতায় নিজেদেরকে সক্রিয় অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। এ প্রতিযোগিতার মূল বিষয় হল অর্থনৈতিকভাবে দেশকে সমৃদ্ধ করা। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে গতিশীল করার জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে যুব সমাজ। আর যুব সমাজকে এ জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত করতে পারে একমাত্র ক্রীড়া। এছাড়া বর্তমান বিশ্বে বহু উন্নত দেশের যুবকরা ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছে। স্বল্প সময়ে অধিক বৈধ অর্থ উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম হল ক্রীড়া। এ বিষয়টি এখন সকলের কাছে স্পষ্ট ইউরোপ-আমেরিকার ফুটবলার, টেনিস খেলোয়াড়সহ সারা বিশ্বের অনেক অপরিচিত ইভেন্টের খেলোয়াড়ও এখন আর্থিকভাবে সাবলম্বী। দেশের অনেক খেলোয়াড় এখন রীতিমত ধনী। সুতরাং অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে ক্রীড়া। ক্রীড়ার মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা বাড়লে উপার্জনশীলতা বৃদ্ধি পায়, চিকিৎসা ব্যয় কমে, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় ও অধিক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। মনস্তাত্বিক উন্নয়নে ক্রীড়া : যুবকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি কাজ করে তা হল সিদ্ধান্তহীনতা। যে কোন কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে যুবকরা এ জটিলতার সম্মুখীন হয়। গবেষণায় দেখা যায় যে, ২০-৪০ বছর বয়সী একটি সুস্থ মস্তিস্কে প্রতি সেকেন্ডে ৫০টি সিদ্ধান্ত প্রবেশ ও বাহির হতে পারে। কিন্তু যুবক যদি ক্রীড়ার সাথে সম্পৃক্ত হয় তবে ক্রীড়া তাকে সব দুঃশ্চিন্তা থেকে দূর করে একটি লক্ষ্যের দিকে মনকে স্থির করে। এতে যুবকদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে অনেকাংশে সহযোগিতা করে এবং নিন্দিষ্ট কাজের প্রতি বিশেষ একাগ্রতা তৈরী করে। ক্রীড়ায় অংশ নেওয়ার ফলে যুবকদের মধ্যে যেসব ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করা যায় তমধ্যে মানসিক চাপ নেয়ার মত ক্ষমতা তৈরী, কোন বিশেষ বিষয়ের প্রতি একাগ্রতা সৃষ্টি, দুশ্চিন্তা মুক্ত হওয়া, হতাশা দূর হওয়া ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধি অন্যতম। বাংলাদেশে ক্রীড়ার বর্তমান অবস্থা: বাংলাদেশে ক্রীড়া উন্নয়নে যে সব প্রতিষ্ঠান কাজ করে থাকে তাদের মধ্যে রয়েছে ক্রীড়া পরিদপ্তর, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) ও বঙ্গবন্ধু ক্রীড়া সেবী ফাউন্ডেশন। ক্রীড়া পরিদপ্তরের মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলায় অবস্থিত জেলা ক্রীড়া অফিস ও ৬টি বিভাগীয় পর্যায়ে স্থাপিত শারীরিক শিক্ষার মাধ্যমে ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জেলা পর্যায়ে ক্রীড়া ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন জেলা ক্রীড়া অফিসারের অন্যতম দায়িত্ব। ৬টি শারীরিক শিক্ষা কলেজের মাধ্যমে ১০০০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে বিপিএড এবং ১০০জন ছাত্র-ছাত্রীকে এমপিএড কোর্সের মাধ্যমে ডিগ্রী প্রদান করা হয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নিয়ন্ত্রণে ৩৫টি ফেডারেশন ও ১৪টি এসোসিয়েশন রয়েছে যারা বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে। বিভিন্ন ক্রীড়ার আয়োজন করে থাকেন। দেশে বর্তমানে ৮টি ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ৫টি বিভাগীয় স্টেডিয়াম, ৬২টি জেলা স্টেডিয়াম, ৭টি ইনডোর স্টেডিয়াম, ২টি ফুটবল স্টেডিয়াম, ২০টি সুইমিং পুল ও ৬টি মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স রয়েছে। এছাড়াও সম্প্রতি সরকার ৪৯০টি উপজেলায়
কারিগরি শিক্ষার উপবৃত্তি বিষয়ে জরুরী নোটিশ। গুরুকুল

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত উপবৃত্তি কর্মসূচির আওতায় গুরুকুল-এর শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নোটিশ জারি করা হয়েছে। ২০২১ শিক্ষাবর্ষের ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেক্সটাইল শিক্ষাক্রমের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল পদ্ধতিতে উপবৃত্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আবেদনের আওতাভুক্ত শিক্ষার্থীগণ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের স্টাইপেন্ড এমআইএস (Stipend MIS) সফটওয়্যারে তথ্য অন্তর্ভুক্তির জন্য নিম্নোক্ত পর্বের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে বলা হয়েছে: ১ম পর্ব (নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী) ২য়, ৪র্থ ও ৬ষ্ঠ পর্ব (নিয়মিত শিক্ষার্থী) প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও জমা দেওয়ার নিয়মাবলী আবেদন ফরম (SAF) যথাযথভাবে পূরণ করে আগামী ১৫ এপ্রিল ২০২১ (বৃহস্পতিবার) তারিখের মধ্যে নিজ নিজ বিভাগীয় প্রধানের দপ্তরে জমা দিতে হবে। ফরমের সাথে অবশ্যই নিচের নথিপত্রগুলো সংযুক্ত করতে হবে: ১. শিক্ষার্থীর ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি। ২. শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্ম নিবন্ধনের স্পষ্ট ফটোকপি। ৩. পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ফটোকপি। অনলাইন ফরম সংগ্রহ শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আবেদনের ফরমটি (SAF_2) অনলাইন লিংকে আপলোড করা হয়েছে। নিচের লিংকে ক্লিক করে ফরমটি ডাউনলোড করা যাবে: SAF_2 কর্তৃপক্ষের বিশেষ নির্দেশনা গুরুকুল প্রশাসন বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের পরে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। উপবৃত্তিপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে তথ্য পূরণের সময় অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, বিশেষ করে ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংকিং সংক্রান্ত তথ্যে যেন কোনো ভুল না থাকে। কারিগরি শিক্ষার প্রসারে গুরুকুলের অঙ্গীকার গুরুকুল বিশ্বাস করে, কারিগরি শিক্ষার বিস্তার ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান একটি দক্ষ জাতি গঠনের মূল চাবিকাঠি। শিক্ষার্থীদের এই সরকারি সুযোগ পৌঁছে দিতে গুরুকুল সদা তৎপর। কোনো শিক্ষার্থীর ফরম পূরণে সমস্যা হলে নিজ বিভাগের ইনচার্জ বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে “অপারেশন জ্যাকপট” এর দ্বিভাষিক তথ্যচিত্র তৈরি করলো “ইতিহাস গুরুকুল”

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে “অপারেশন জ্যাকপট” এর দ্বিভাষিক তথ্যচিত্র তৈরি করলো “গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্ক”। গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্ক এর “ইতিহাস গুরুকুল” চ্যানেল থেকে প্রকাশিত হল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ভিত্তিক ঘটনার উপরে নির্মিত তথ্যচিত্র “অপারেশন জ্যাকপট”। অপারেশন জ্যাকপট বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নৌ-সেক্টর পরিচালিত সফলতম গেরিলা অপারেশন। অপারেশন জ্যাকপট ছিল সংশপ্তক [ আত্মঘাতী ] অপারেশন। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর পরিকল্পনায়, সদ্য গঠিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নেতৃত্বে, অপারেশন জ্যাকপট ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট রাত ১২টার পর শুরু হয়। অপারেশন জ্যাকপট অচল করে দেয় চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর এবং দেশের অভ্যন্তরে চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর। ১০নং সেক্টরের নৌ কমান্ডো যোদ্ধাদের অসীম সাহসিকতার নিদর্শন এই অপারেশন জ্যাকপট। অপারেশন জ্যাকপট নামের এই গেরিলা অপারেশনে পাকিস্তানি বাহিনীর অনেকগুলো অস্ত্র ও রসদ-বাহী জাহাজ ধ্বংস করে, বড় রকমের ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাকিস্তান। বন্দরে পাকিস্তানি বাহিনীকে সাহায্যকারী অনেকগুলো বিদেশি জাহাজও থাকায় এই অপারেশন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং যোদ্ধাদেরকে সারা বিশ্বে পরিচিতি পাইয়ে দেয় রাতারতি । সারা বিশ্ব বুঝতে পারে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই লড়ছে বাংলাদেশ। আজকের আয়োজন সেই দুর্ধর্ষ অপারেশনের গল্প নিয়ে। আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইতিহাস গুরুকুল এর নিবেদন। শ্রদ্ধা জানাই মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সকল শহীদ, বীরাঙ্গনা মা-বোন, সকল মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং সহায়তাকারী বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের প্রতি । অপারেশন জ্যাকপট : অপারেশন জ্যাকপট বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নৌ-সেক্টর পরিচালিত সফলতম গেরিলা অপারেশন। এটি ছিল একটি আত্মঘাতী অপারেশন। এ অপারেশন ১৯৭১-এর ১৫ আগস্ট রাত ১২টার পর অর্থাৎ ১৬ আগস্ট প্রথম প্রহরে চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর এবং দেশের অভ্যন্তরে চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরে একই সময়ে পরিচালিত হয়। ১০নং সেক্টরের অধীনে ট্রেনিং প্রাপ্ত নৌ কমান্ডো যোদ্ধাদের অসীম সাহসিকতার নিদর্শন এই অপারেশন জ্যাকপট। এই গেরিলা অপারেশনে পাকিস্তানি বাহিনীর অনেকগুলো অস্ত্র ও রসদবাহী জাহাজ ধ্বংসপ্রাপ্ত ও বড় রকমের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত জাহাজগুলোর মধ্যে পাকিস্তানি বাহিনীকে সাহায্যকারী অনেকগুলো বিদেশি জাহাজও থাকায় এই অপারেশন বাংলাদেশের যুদ্ধ এবং যোদ্ধাদেরকে সারা বিশ্বে পরিচিতি পাইয়ে দেয়।সারা বিশ্ব বুঝতে পারে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই লড়ছে।এটি বাংলাদেশের ইতিহাস এর খুবই গুরুত্বপূর্ণ মিশন। নৌ-কমান্ডো সেক্টর: বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের সময় যে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল তার মধ্য দেশের অভ্যন্তরীন সকল নৌ চলাচল, বন্দর এবং উপকূলীয় এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছিল ১০নং সেক্টর বা নৌ সেক্টর। এ সেক্টরের কোন নির্দিষ্ট সেক্টর কমান্ডার ছিল না। যখন যে সেক্টরে অপারেশন চলত তখন সেই সেক্টরের কমান্ডারদের সহযোগীতায় নৌ-গেরিলাদের কাজ করতে হত। তারা সরাসরি মুজিবনগর হেডকোয়ার্টারের অধীনে কাজ করতেন। পেছনের কথা: মার্চের শুরুর দিকে পাকিস্তানি সাবমেরিন পি এন এস ম্যাংরো ফ্রান্সের তুলন সাবমেরিন ডকইয়ার্ডে যায় পাকিস্তানি সাবমেরিনারদের প্রশিক্ষন দেয়ার জন্য। সেই ৪১ জন সাবমেরিনারদের মধ্যে ১৩ জন ছিলেন বাঙালি অফিসার। তারা আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যমে ২৫ মার্চের গণহত্যার কথা শুনে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে ৮ জন ৩০ মার্চ বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ৯ এপ্রিল ১৯৭১ তারা দিল্লিতে এসে পৌছান। এখানে তাদের নাম উল্লেখ করা হলোঃ ১. মোঃ রহমতউল্লাহ। ২. সৈয়দ মোশাররফ হোসেন। ৩. শেখ আমানউল্লাহ। ৪. মোঃ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী। ৫. মোঃ আহসানউল্লাহ। ৬. মোঃ আবদুর রকিব মিয়া। ৭. মো আবদুর রহমান আবেদ। ৮. মোঃ বদিউল আলম। তারপর উক্ত ৮জনের সাথে আরো কয়েকজনকে একত্র করে ২০ জনের একটি গেরিলা দল গঠন করে তাদের ভারতে বিশেষ ট্রেনিং দেয়া হয়। তারপর তারা দেশে আসলে তাদের সাথে কর্নেল ওসমানীর দেখা করানো হয়। তখন ওসমানী নৌ-কমান্ডো বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। গেরিলা ট্রেনিং পর্ব: ওসমানীর সিদ্ধান্তে নৌ-কমান্ডো সেক্টর খোলার পর বাছাইকৃত গেরিলাদের ট্রেনিং দেয়ার উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক পলাশীর স্মৃতিসৌধের পাশে ভাগীরথী নদীর তীরে ২৩ মে ১৯৭১ তারিখে একটি গোপন ট্রেনিং ক্যাম্প খোলা হয়। এই ট্রেনিং ক্যাম্পের সাংকেতিক নাম দেয়া হয় সি-২ পি (C-2 P)। এখানে ট্রেনিং দেয়ার উদ্দেশ্যে অন্যান্য সেক্টরসমূহের বিভিন্ন শিবির থেকে মে মাসের শুরুর দিকে প্রায় ৩০০ জন বাছাইকৃত যোদ্ধা সংগ্রহ করা হয়। ট্রেনিং ক্যাম্পে এদের কি ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে সে বিষয়টি এতই গোপনীয় ছিল যে, সেক্টর কমান্ডারদের মধ্যেও শুধুমাত্র যার এলাকায় অপারেশন চালানো হবে তিনি ব্যতীত আর কেউ এই সম্পর্কে জানতেন না। ট্রেনিং শুরু হবার আগেই বাছাইকৃত যোদ্ধাদের বলে দেয়া হয় যে এটি একটি সুইসাইডাল অপারেশন বা আত্মঘাতী যুদ্ধ হবে। তাই অপারেশনের সময় যেকোন মূল্যে অপারেশন সফল করার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনে তাদের প্রাণ দিতে হতে পারে। তাই প্রশিক্ষণের শুরুতেই প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীদের ছবিসহ একটি সম্মতিসূচক ফর্মে স্বাক্ষর নেয়া হতো।ফর্মে লেখা থাকতো যে, আমি দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বিসর্জন দিতে সম্মত হয়েই এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছি, আর যুদ্ধে আমার মৃত্যু ঘটলে কেউ দায়ী থাকবে না। নৌ-কমান্ডোদের ঐ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন ভারতীয় নেভাল অফিসার কমানডার এম.এন.সামানত, ও ট্রেনিং দেয়ার দায়িত্বে ছিলেন লেঃ কমান্ডার জি এম মার্টিস, এবং আরও ভারতীয় ২০ জন প্রশিক্ষক তারা হলেনন লেঃ দাস, লেঃ ভি.পি. কফিল। প্রশিক্ষকদের মধ্যে ফ্রান্স থেকে পালিয়ে আসা ৮ জন সাব-মেরিনার ছাড়াও আরো ছিলেন ভারতীয় নৌ-বাহিনীর লিডিং সি,মান কে.সিং, লিডিং সি,মান গুপ্ত, এল সিং, মারাঠি নানা বুজ এবং সমীর কুমার দাশসহ আরো কয়েকজন। ট্রেনিং এর দুটো অংশ ছিল। সবাইকে প্রয়োজনীয় স্থলযুদ্ধ যেমনঃ- গ্রেনেড নিক্ষেপ, এক্সপ্লোসিভের ব্যবহার, স্টেনগান রিভলবার চালানো, আন-আর্মড কমব্যাট(খালি হাতে যুদ্ধ) ইত্যাদি শিখতে হতো। আর জলযুদ্ধের ট্রেনিঙের মধ্যে ছিল বিভিন্ন ধরনের সাতার যেমনঃ- বুকে ৫-৬কেজি ওজনের পাথর বেধে সাতার, চিৎ সাতার, কোন মতে পানির উপরে নাক ভাসিয়ে একটানা অনেক্ষন সাতার, পানিতে সাতরিয়ে এবং ডুব সাতার দিয়ে লিমপেট মাইন ব্যবহার, স্রোতের প্রতিকূলে সাতার, জাহাজের কেবল ভাঙা ইত্যাদি কঠিন সব প্রশিক্ষণ দেয়া হত তীব্র খরস্রোতা ভাগীরথী নদীতে। শীত-বর্ষায় একটানা ৪৮ ঘণ্টা পানিতে থাকার অভ্যাস করতে হয় সব যোদ্ধাকে। প্রায় টানা তিন’মাস ট্রেনিং এর পর আগস্টের প্রথম সাপ্তাহে তাদের ট্রেনিং শেষ হয়। অপারেশনের বর্ণনা : যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের শেষদিকে এসে আক্রমণের পরিকল্পনা সাজানো হতে থাকে। একই সাথে একই সময়ে দুই সমুদ্র বন্দর ও দুই নদী বন্দরে আক্রমণ চালানোর জন্য চার সেক্টরের পরিকল্পনার সমন্বয় ঘটানো হয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রথম ব্যাচকে চার স্থানে আক্রমণের উদ্দেশ্যে মোট চারটি দলে ভাগ করা হয়েছিল। ৬০ জনের ২টি দল এবং ২০ জনের আরো ২টি দল। চারটি দলের চারজন লিডার ঠিক করে দেয়া হয়েছিল। টিম লিডারদের অপারেশন পরিচালনার জন্য শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল বিশেষ গোপনীয় পদ্ধতি যা টিমের অন্যান্য সদস্যদের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল। টিম কমান্ডারদের বলা হয়েছিল যে, দুটি বাংলা গানকে সতর্ক সঙ্কেত হিসেবে ব্যবহার করা হবে। গান দুটি প্রচার করা হবে কলকাতা আকাশবানীর পক্ষ থেকে পূর্বাঞ্চলীয় শ্রোতাদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানে সকাল ৬টা থেকে ৬:৩০ মিনিট অথবা রাত ১০:৩০ মিনিট থেকে রাত ১১টায়। এই ফ্রিকোয়েন্সির নাম ও গান দুইটি শুধু টিমের কমান্ডারই জানতো। গান দুটি অথবা তাদের সঙ্কেত হলোঃ- প্রথম সংকেত ছিল পঙ্কজ মল্লিকের গাওয়া “আমি তোমায় যত শুনিয়েছিলাম গান”এর অর্থ হল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আক্রমণ করতে হবে বা
শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২০ উপলক্ষে ছুটির নোটিশ

বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে ‘গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস’-এ একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৬ অক্টোবর ২০২০ (সোমবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বহুত্ববাদী সমাজের প্রতিচ্ছবি ও গুরুকুল আদর্শ গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ গঠনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। যেখানে প্রতিটি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সমান মর্যাদা দেওয়া হয়। গুরুকুল বিশ্বাস করে, উৎসবের কোনো কাঁটাতার নেই; বরং এটি সকল ধর্মের মানুষের মাঝে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। শারদীয় দুর্গাপূজার এই ছুটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বিরতি নয়, বরং বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যের যে সৌন্দর্য গুরুকুল লালন করে, এটি তারই বহিঃপ্রকাশ। ছুটির বিস্তারিত সময়সূচী প্রশাসন বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী: ছুটির তারিখ: ২৬ অক্টোবর ২০২০ (সোমবার)। কার্যক্রম পুনরায় শুরু: ২৭ অক্টোবর ২০২০ (মঙ্গলবার) থেকে সকল শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা ও নিরাপত্তা উৎসবের এই বিশেষ সময়ে গুরুকুল কর্তৃপক্ষ সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসবকালীন নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রেখে নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে বিজয়া দশমী উদযাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের বার্তা প্রশাসন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “গুরুকুল এমন একটি আদর্শিক ক্ষেত্র তৈরি করতে চায় যেখানে সকল মত ও পথের মানুষ তাদের ধর্মীয় উৎসবগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করতে পারে। এই উৎসবের আনন্দ আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।” গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস পরিবারের পক্ষ থেকে সকলকে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। আরও দেখুন: গুরুকুল ক্যাম্পাসে দ্বীন ও ধর্ম বিষয়ক নীতিমালা
চাকরির ইন্টারভিউ [ Job Interview ] প্রস্তুতি সিরিজের প্রচার শুরু হয়েছে । গুরুকুল বাংলাদেশ
শিক্ষা জীবন শেষ করার পরে, আমরা যে জিনিসটি সবাই মরিয়া হয়ে উঠি, তা হল প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি চাকরি বা কাজ। আমাদের মনে হতে থাকে চাকরিটা আসলে গতকাল দরকার ছিল। আমাদের মনে হয় আমার হাতে এতদিন ধরে লেখাপড়া করার স্বীকৃতি স্বরূপ একটা সার্টিফিকেট আছে। তাই চাকরিটা পেতে দেরি হবে কেন। আমাদের মাথায় থাকে আমাদের সার্টিফিকেটটি আমাদের চূড়ান্ত যোগ্যতার স্বীকৃতি। আর কোন যোগ্যতার স্বীকৃতি বা পরিচয় দেয়ার প্রয়োজন নেই। এই যুগে এস মানতে কষ্ট হলেও একটি সত্য মেনে নিতে হবে, তা হল, লেখাপড়ার সার্টিফিকেট অর্থই Employability বা “নিয়োগ উপযুক্ত” নয়। সার্টিফিকেট এর পাশাপাশি সার্টিফিকেট সংশ্লিষ্ট হার্ড স্কীল, কমন সফট স্কীল, বিশেষ চাকরিটির জন্য প্রয়োজনীয় সফট স্কীল সহ নানাবিধ বিষয় আজ Employability র পূর্ব শর্ত। এই সবকিছু ছাপিয়ে আর একটি দক্ষতা অত্যন্ত জরুরী, যা হল একটি ভাল কাজের সাক্ষাতকার দেয়া, বা নিজেকে সম্পূর্ণ ভাবে চাকুরিদাতার শর্ত অনুযায়ী মেলে ধরার যোগ্যতা। মনে রাখা দরকার, বর্ণিত সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও, শুধুমাত্র চাকরির ইন্টারভিউ এর সময়, সঠিক উপস্থাপন, সঠিক প্রশ্নের উত্তর, সঠিক ভাবে যোগাযোগ স্থাপন না করতে পারলে অনেক সুযোগ হাতের বাইরে চলে যেতে পারে। অন্য ভাবে বললে, আজকের এই প্রতিযোগিতামূলক চাকুরীর বাজারে, চাকরি নিশ্চিত করার অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে – একটি সফল চাকরির ইন্টারভিউ বা চাকরির সাক্ষাতকার। আপনি যতই স্মার্ট আর যোগ্য হন না কেন, মনে রাখাতে হবে চাকরির সাক্ষাৎকার একটি ভিন্ন ধরণের প্রস্তুতি। চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাবার জন্য, আপনার নিজেকে, সকল যোগ্যতার পাশাপাশি, আলাদা করে প্রস্তুত করতে হবে। চাকরির সাক্ষাৎকার এটি এমন একটি জায়গা, যেই জায়গাতে ভুল করলে, পরবর্তী সুযোগ পাওয়া খুবই কঠিন। তাই যদি আপনার মনে হয়, চাকরির সাক্ষাৎকারের জন্য, আলাদা করে প্রস্তুতি নেয়ার কী আছে, তাহলে আপনি বড় ভুল করছেন। মনে রাখতে হবে, অন্য সব হার্ড স্কীল বা সফট স্কীল যেভাবে প্রস্তুতি সহ নিয়মিত পরিশ্রম করে অর্জন করতে হয়, ঠিক একইভাবে, সফল চাকরির সাক্ষাৎকার দেবার জন্যে, আলাদা করে প্রস্তুতি নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়। বিভিন্ন কৌশল ও বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ শিখতে হয়। সেই প্রস্তুতি না নিলে, আজকের চাকরির বাজারে, নিজের আলাদা যোগ্যতার প্রমাণ দেয়া কঠিন। আর সেটা না পারলে প্রতিযোগীদের থেকে এগিয়ে প্রত্যাশিত চাকরিটিও পাওয়া কঠিন। চাকরির ইন্টার্ভিউ বিষয়টি দেখতে যতটা সহজ মনে হয় বা বিষয়টি শুনতে যতটা সহজ, বাস্তবে সেই বিষয়টি সফলতার সাথে শেষ করা ততটাই কঠিন। সুতরাং বুঝতে নিশ্চয় অসুবিধা হচ্ছে না যে এই প্রস্তুতি কতটা জরুরী। গুরুত্ব যদি বুঝে থাকেন তবে শুরু করুন চাকরির সাক্ষাৎকার এ বসার জন্য শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি। আপনার সফল সাক্ষাৎকার নিশ্চিত করতে সহায়ক হিসেবে গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্ক [GOLN] রয়েছে আপনার সাথে। আমাদের এই সিরিজে চাকুরীর সাক্ষাৎকার বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন গুরুকুলের প্রশিক্ষক শিহাব হাসান নিয়ন। উত্তর দিয়েছেন গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। এই সাক্ষাৎকার সিরিজ দেখে আপনার যদি আরও কোন প্রশ্ন মনে আসে, তবে সেটি আমাদের ভিডিওগুলোর নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিন। আমরা সময় ও সুযোগ মতো সেই উত্তর দেবার চেষ্টা করবো। চাকরির ইন্টারভিউ ছাড়াও এসব আয়োজনে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্কের চ্যানেল ও পাতায় যুক্ত হয়ে নিন:
গুরুকুল কো কারিকুলার [Co curricular ] ও এক্সট্রা কারিকুলার [ Extra Curricular ] পরিচয় কালেন গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর
গুরুকুল কো-কারিকুলার ও এক্সট্রা-কারিকুলার গুরুকুলের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এই কোর্সগুলোর মাধ্যমে, আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের অতি প্রয়োজনীয় বিষয়সমুহ (অথচ একাডেমীতে যা পড়ানো হয় না), শেখাতে চাই। সেই শেখানো বিষয়টি শুধুমাত্র পড়ানো বা দেখানো নয়। সেটা শেখানো হয় শিক্ষার্থীদের একটি এক্সারসাইজ ও অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে নিয়ে গিয়ে। সেই সিলেবাসে এমন সব প্রশিক্ষণ এবং অনুশীলন থাকে, যেটা শিক্ষার্থীকে নানা রকম বাস্তব অভিজ্ঞার মধ্য দিয়ে নিয়ে যাবে। কোর্সগেুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের, একজন পূর্ণ মানুষ হবার যে দীর্ঘ যাত্রা, সেই যাত্রার প্রস্তুতির জন্য তৈরি করে দেয়া হয়। এক কথায় বললে শিখতে শেখানো হয়, জানতে শেখানো হয়, দেখতে শেখানো হয়। কাটানো হয় শেখার ভয়। যেমন ধরুন শিক্ষার্থীকে শোনার-বোঝার-বলার সব জড়তা কাটানোর চেষ্টা করা হয়। শেখানো হয় বিভিন্ন স্থান, কাল ও পাত্রের সাথে হাটা-চলা-কথা বলা। শিক্ষার্থীকে সাবলীল করা হয় অপরিচিত জনের সাথে দেখা করতে, কথা শুরু করতে, একটি বিষয় নিয়ে কথা বলতে, কোন বিশেষ তথ্য সংগ্রহ করতে, মত বিনিময় করতে। নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয় যেন সেই শিক্ষার্থী তার জীবনে নতুন কোন ক্ষেত্রে গিয়ে অসহায় বোধ না করে। শিক্ষার্থীকে শেখানো হয় উপস্থাপনা। উপস্থাপনা হতে অফিসের প্রেজেন্টেশন বিষয়ে বা হতে পারে, বা যেকোনো সভায় কোন রিপোর্ট উপস্থাপন বিষয়েও হতে পারে। শিক্ষার্থীকে দক্ষ করার চেষ্টা করা হয় অনুসন্ধান বিষয়ে। [ গুরুকুল কো কারিকুলার [ Co curricular ] ও এক্সট্রা কারিকুলার [ Extra Curricular ] পরিচয় ] শেখানো নিজের আশেপাশে, বাজারে অনুসন্ধানের পাশাপাশি হয় সাইবার জগতে অনুসন্ধান। ইংরেজি প্রধান ভাষা না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষায় কিছুটা দুর্বলতা থাকে। তাই বাংলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষার জড়তা কাটানোর বিভিন্ন ধরনের প্রাকটিক্যাল উদ্যোগ নেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে শেখানো হয়। সবসময় উৎসাহ দেয়া হয় এবং শেখানো হয় ‘কিভাবে শিখতে হবে”। এটা গুরুকুলের প্রধানতম উদ্যোগ। কারণ সারা জীবন বিভিন্ন প্রয়োজনে শিক্ষার্থীকে শিখতে হবে। শিক্ষার্থী সেটা নিজে এবং দ্রুত সময়ে যেন শিখে নিতে পারে সেভাবে প্রস্তুত করা চেষ্টা করা হয়। প্রযুক্তি বা যেকোনো কারণে পেশাদারী জীবনে সংকট এলে নিজ যোগ্যতায় নতুন করে শিখে নিয়ে উৎরে যেতে পারে। অভ্যস্ত করা হয় – শুনতে, বলতে, লিখতে মনোযোগী হতে। সভা পরিচালনা সহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান পরিচালনা শেখানো হয়। মিশতে শেখানো হয় অপরিচিত ও অপছন্দের মানুষদের সাথে। পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় সংস্কৃতি, ইতিহাস ও দর্শনের দরজা। রীতিমতো পরিকল্পনা করে কাটানো হয় সব রকমের ভয়, প্রেজুডিস এবং ইগো। আর সারা জীবনের জন্য তৈরি করিয়ে দেয়া হয় মেন্টর বা জীবনের পরামর্শক। আপাতত শুনতে খুব বিশেষ হয়ত মনে না হচ্ছে না, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের দীর্ঘ গবেষণা বলে- এগুলোর বেশিরভাগ আমরা ঠিকমতো পারি না। জীবন ও পেশায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হেরে যাবার কারণ এগুলোই। আর আমরা কোন ভাবেই চাইনা যে আমাদের কোন জীবনে কোন পর্যায়ে হেরে যাক বা হেরে যাওয়াকে মেনে নিক। একটি ভিডিও সিরিজে গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর গুরুকুল কো-কারিকুলার ও এক্সট্রা-কারিকুলার এর এই বিষয়গুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। ভিডিওগুলো রয়েছে গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্কের ইনডেক্স চ্যানেলে। নিচে সংযুক্ত প্লেলিস্ট বা ভিডিওগুলো দেখুন।
পলিটেকনিক বাংলা ৬৫৭১১ [BTEB Polytechnic ] বিষয়ের সকল ভিডিও ক্লাস “বাংলা গুরুকুল” এ প্রকাশ শুরু হয়েছে
![পলিটেকনিক বাংলা ৬৫৭১১ [BTEB Polytechnic ] বিষয়ের সকল ভিডিও ক্লাস "বাংলা গুরুকুল" এ প্রকাশ শুরু হয়েছে 7 বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পলিটেকনিক বিভাগের বাংলা (৬৫৭১১) বিষয়ের সকল ভিডিও ক্লাস "বাংলা গুরুকুল" চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে](https://gurukul.edu.bd/wp-content/uploads/2020/09/Bangla-Class-Available-on-GOLN-Bangla-Gurukul-Channel-1-1024x576.jpg)
পলিটেকনিক বাংলা ৬৫৭১১ [BTEB Polytechnic ] বিষয়ের সকল ভিডিও ক্লাস “বাংলা গুরুকুল” এ প্রকাশ শুরু: এতদ্বারা সকলের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের, পলিটেকনিক এর, ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়গুলো “বাংলা (৬৫৭১১)” সাবজেক্টটির সকল ভিডিও ক্লাস “বাংলা গুরুকুল” চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে। এখন থেকে দেশের সকল শিক্ষার্থীদের জন্য উক্ত ক্লাস সমূহ উন্মুক্ত করা হলো। চ্যানেলের লিংক : “বাংলা গুরুকুল ইউটিউব চ্যানেল” বাংলা ওয়েবসাইট এর লিংক : গুরুকুল বাংলা বাংলা ৬৫৭১১ কোর্সের উদ্দেশ্য : মাতৃভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা লাভ। ভাষার ব্যবহারে প্রায়োগিক যোগ্যতা অর্জন। বাংলা সাহিত্য পঠন-পাঠনের মাধ্যমে জাতীয় চেতনা, দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, শুদ্ধাচার, নীতি ও মূল্যবোধের উন্মেষ ঘটানো। বাংলা ৬৫৭১১ কোর্সের সংক্ষিপ্ত বিবরণী : মাতৃভাষা ও সৃজনশীলতা : বাংলা ভাষা রীতির বিচিত্রতা, বানান রীতি, পত্র রচনা এবং কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, উপন্যাস ও ছোট গল্প। বাংলা ৬৫৭১১ – তাত্ত্বিক অংশ – বাংলা ভাষার প্রয়োগ অধ্যায়-ক। বাংলা ভাষা ১.১ ভাষা বিষয়ক প্রাথমিক জ্ঞান (ভাষার সংজ্ঞা, মাতৃভাষা, মাতৃভাষা হিসেবে বাংলা এবং বাংলা ভাষার প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য) ১.২ বাংলা ভাষার উপপত্তি, ক্রমবিকাশ ও যুগ বিন্যাস ১.৩ বাংলা ভাষা রীতি – সাধু, চলিত, (সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য, পার্থক্য ও উদাহরণ) ১.৪ আঞ্চলিক বা উপভাষা অধ্যায়-খ। বাংলা বানান রীতি ও শব্দ প্রয়োগ ১। বাংলা একডেমির প্রমিত বানান রীতি ও ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধি ১.১ বাংলা একডেমির প্রমিত বানান রীতি ১.২ ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান ২। শব্দ ও শব্দের শ্রেণি বিভাগ (সংজ্ঞা, শব্দের গঠন, উৎস বা উৎপত্তি ও অর্থগত) ২.১ শব্দের সংজ্ঞা ২.২ শব্দের শ্রেণীবিভাগ ও গঠন ৩। বাক্য প্রকরণ ও গঠন রীতি (সংজ্ঞা, বাক্য গঠন এবং প্রকার) ৩.১ বাক্যের সংজ্ঞা ৩.২ বাক্যের গঠন ৩.৩ বাক্যের প্রকার ৩.৪ বাক্য পদ-সংস্থাপনার ক্রম ৪। পত্র রচনা ৪.১ পত্র ও এর শ্রেণিবিভাগ ৪.২ পত্রের অংশ ৪.৩ দরখাস্তের নিয়ম তাত্ত্বিক অংশ – বাংলা কবিতা ১। কবিতা (নিচের প্রতিটি কবিতার লিংক এ কবিতা পাঠ, বিশ্লেষণ ও প্রশ্নোত্তর অনুশীলন যুক্ত করা হয়েছে) ১.১ বঙ্গভাষা – মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১.২ সোনার তরী – রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর ২.৩ উমর ফারুক- কাজী নজরুল ইসলাম ৩.৪ বাংলার মুখ আমি – জীবনানন্দ দাশ ৪.৫ আসাদের শার্ট – শামসুর রাহমান ৫.৬ স্বাধীনতা শব্দটি কি করে আমাদের হলো? – নির্মলেন্দু গুণ ২। প্রবন্ধ (নিচের প্রতিটি প্রবন্ধের লিংক এ প্রবন্ধ পাঠ, বিশ্লেষণ ও প্রশ্নোত্তর অনুশীলন যুক্ত করা হয়েছে) ২.১। অর্ধাঙ্গী – রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ২.২। বইকেনা – সৈয়দ মুজতবা আলী ৩। একাঙ্কিকা (নিচের প্রতিটি একাঙ্কিকা -র লিংক এ একাঙ্কিকা পাঠ, বিশ্লেষণ ও প্রশ্নোত্তর অনুশীলন যুক্ত করা হয়েছে) ৩..১ মানুষ – মুনীর চে․ধুরী ৪। উপন্যাস (নিচের প্রতিটি উপন্যাসের লিংক এ উপন্যাস পাঠ, বিশ্লেষণ ও প্রশ্নোত্তর অনুশীলন যুক্ত করা হয়েছে) ৪.১। লালসালু – সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহ ৫। ছোট গল্প: (নিচের প্রতিটি ছোটগল্পের লিংক এ ছোটগল্প পাঠ, বিশ্লেষণ ও প্রশ্নোত্তর অনুশীলন যুক্ত করা হয়েছে) ৮.১। ক্সহমন্তী – রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর ৮.২। একুশের গল্প – জহির রায়হান ৮.৩। পাতালেহাসপাতালে – হাসান আজিজুল হক বাংলা ৬৫৭১১ – ব্যবহারিক [ ব্যবহারিক অংশে যোগ করা হয়েছে ব্যবহারিক উদাহরণ] ১। বক্তৃতা : (নিচের প্রতিটি বিষয়ের লিংক এ বক্তৃতার ভিডিও সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করা হয়েছে) ১. নির্ধারিত বক্তৃতা ১.১ নির্ধারিত বক্তৃতার প্রস্তুতি নির্ধারিত বক্তৃতার স্ক্রিপ্ট লিখবো কীভাবে? ১.২ নির্ধারিত বক্তৃতার কিছু নমুনা : একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নির্ধারিত বক্তৃতা / ভাষণ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নির্ধারিত বক্তৃতা / ভাষণ বিজয় দিবস উপলক্ষে নির্ধারিত বক্তৃতা / ভাষণ মুজিব নগর দিবস উপলক্ষে নির্ধারিত বক্তৃতা / ভাষণ জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে নির্ধারিত বক্তৃতা / ভাষণ মে দিবস উপলক্ষে নির্ধারিতবক্তৃতা / ভাষণ বাংলাদেশ ও বাঙালি সাস্কৃতি বিষয়ক নির্ধারিত বক্তৃতা / ভাষণ রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে নির্ধারিত বক্তৃতা / ভাষণ নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষে নির্ধারিত বক্তৃতা / ভাষণ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা অমার্জনীয় বিষয়ক নির্ধারিত বক্তৃতা / ভাষণ ২. উপস্থিত বক্তৃতা (নিচের প্রতিটি বিষয়ের লিংক এ বক্তৃতার ভিডিও সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করা হয়েছে) ২.১ উপস্থিত বক্তৃতার প্রস্তুতি কিভাবে উপস্থিত বক্তৃতার প্রস্তুতি নিতে হবে? ২.২ উপস্থিত বক্তৃতার কিছু নমুনা আত্মপরিচয়ের সংকটে বাঙ্গালির তারুণ্য প্রযুক্তি ও তারুণ্য বাংলা নববর্ষ ৩. প্রাতিষ্ঠানিক বক্তৃতা ৩.১ প্রাতিষ্ঠানিক বক্তৃতার প্রস্তুতি প্রাতিষ্ঠানিক বক্তৃতার প্রস্তুতি কিভাবে নিতে হবে? ৩.২ প্রাতিষ্ঠানিক বক্তৃতার কিছু নমুনা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আগমন (শিক্ষামন্ত্রী) নবাগত ছাত্রছাত্রীদের বরণ ২। আবৃত্তি : ২.১ আবৃত্তির প্রস্তুতি কিভাবে আবৃত্তির প্রস্ততি নেবেন? ২.২ নমুনা আবৃত্তি: মানুষ – কাজী নজরুল ইসলাম আকাশ নীলা – জীবনানন্দ দাশ পল্লী জননী – জসীম উদ্দীন ছাড়পত্র – সুকান্ত ভট্টাচার্য তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা – শামসুর রাহমান নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় – হেলাল হাফিজ ৩. বিতর্ক ৩.১ বিতর্কের প্রস্তুতি কিভাবে বিতর্কের প্রস্ততি নেবেন? ৩.২ নমুনা বিতর্ক: তথ্য প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারই যুব সমাজেরঅবক্ষয়ের মূল কারণ সংস্কৃতিই আধুনিক মানুষের ধর্ম গতানুগতিক শিক্ষা নয় কর্মমুখি শিক্ষাই অর্থ‣নতিক মুক্তির চাবিকাঠি চালকের অসাবধনতাই সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মূলমন্ত্র প্রযুক্তির বিকাশই প্রকৃতি বিনাশের একমাত্র কারণ ৪. প্রতিবেদন প্রণয়ন ও উপস্থাপন: ৪.১ প্রতিবেদন প্রণয়ন, তৈরি বা রচনা: কিভাবে প্রতিবেদন প্রণয়ন, তৈরি বা রচনা করবেন? কিভাবে প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন? ৪.২ নমুনা প্রতিবেদন: বন্যাদুর্গত এলাকায় কয়েকটি রিলিফ ক্যাম্পের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে প্রতিবেদন রচনা। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রচনা। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রচনা। সকল ব্যবহারিক বিষয়ের প্রশ্নোত্তর অনুশীলন প্রতি অধ্যায়ের সাথে আমাদের বাংলা ওয়েবসাইটে থাকছে – প্রশ্নোত্তর অনুশীলন (অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর ও রচনা মূলক প্রশ্নোত্তর)। বাংলা ওয়েবসাইটে থাকছে – অধ্যায়ের সকল প্রশ্ন একত্রে, অধ্যায়ের প্রশ্ন বিশ্লেষণ। প্রেস রিলিজ: গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্ক এর “বাংলা” গুরুকুল
পূর্ব পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা (১৯৬৪): সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত ও পর্যালোচনা
পূর্ব পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা (১৯৬৪): সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত ও পর্যালোচনা – সজীব কুমার বণিক ও খালেদা চৌধুরী । The aim of this paper is to explore the interrelationship between the East Pakistan riot of 1964 and the growth of Bengali nationalism. The 1964 East Pakistan riot refers to the massacre of Bengali Hindus and some of the cases Bengali Muslims by the Pakistani Bihari in the wake of and alleged theft of what was believed to be the profhet’s hair from the Hazratbal shrine in Jammu and Kashmir. But the main effect of this riot is the growth of Bengali nationalism which led the East Pakistan to the liberation war of 1971. The language movement of 1952 of the then East Bengal can be depicted as the rising period of language based on Bengali nationalism against the Muslim religion based Pakistani nationalism. This Bengali nationalism had been flourished by the mass uprising of Bengali people against the Pakistani Bihari massacre and ethnic cleansing of Bengali Hindus in 1964. Progressive minded Bengali Political leaders, Journalists, Cultural Activists such as Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, Ataur Rahman Khan, Tofazzal Hossain, Abdus Samad, Sufia Kamal and so on stood against the Bihari rioters. Students and general people of East Pakistan did the same. This all created a sense of Bengali nationalism, on the basis of this nationalism Bangladesh becomes independent in 1971. বাংলাদেশ পৃথিবীতে সম্ভবতঃ একমাত্র দেশ যা দু’বার স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে। ১৯৪৭ সালে প্রথম ব্রিটিশ ভারত থেকে স্বাধীনতার পর যে অবিভক্ত পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল তাকে পুনরায় বিভক্ত করে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল বাংলাদেশ। ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে ভাগ্য বিপর্যয়ের পর বাংলা প্রায় দুই শতাব্দীব্যাপী ব্রিটিশ পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ হয়। এই দুইশত বছরের ব্রিটিশপনিবেশিকঔ শাসনের অধীনে বাংলা কেবল অর্থনৈতিকভাবে শোষিত বা নিপীড়িত হয়েছে তাই নয় ব্রিটিশরা তাদের ভাগ কর ও শাসন কর নামক কূটনীতির দ্বারা বাংলার আবহমান কাল ধরে বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সেদ্ধহার্দ্যকে বিনষ্ট করে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন এলিট শ্রেণিপূর্বতন ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় এবং পূর্ব পাকিস্তানকে একটি উপনিবেশ হিসেবে বিবেচনা করে শাসন পরিচালনা করে। আর এখানে যাতে বাঙালিদের মধ্যে কখনো জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটতে না পারে এবং দীর্ঘদিন এ অঞ্চলকে যাতে শাসন ও শোষণ করা যায় সেজন্য বাঙালি হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িক ঐক্য বিনষ্ট করার লক্ষ্যে নানাভাবে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূচনা ঘটায়। মূলত ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তি তথা পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রে বিভিন্ন সময় -দাহাঙ্গামা সংঘটিত হতে থাকে। এর মধ্যে ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানে সরকারেরউস্কানিতে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয় বলে ধারণা করা হয়। ১/ আরও মনে করা হয় যে, পূর্ব পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা আইয়ুব খান অত্যন্ত কেদ্ধশলী পন্থায় প্রদেশের ঐক্য ও সংহতি বিনষ্ট করার লক্ষ্যে গভর্ণর মোনায়েম খানের প্রত্যক্ষ তত্বাবধানেই ঘটেছিল। ২/ প্রকৃতপক্ষে ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানে যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয় তা দাঙ্গার ব্যাপকতা ও প্রসারতার কারণে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ দাঙ্গা প্রথমে হিন্দু-মুসলমান, পরে বাঙালি-বিহারিতে রুপান্তরিত হয়।৩ এ দাঙ্গায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যালঘু বাঙালি হিন্দু সাম্প্রদায় যাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এসময় পার্শ্ববর্তী ভারতেদেশ শরণার্থী হিসেবে চলে যেতে বাধ্য হয় এবং ১৯৬৪ সালের পর হিন্দুদের দেশত্যাগ অব্যাহত থাকে। ১৯৬৪ সালে যে ঘটনার পরিপে‘ক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত হয় তার উৎস পূর্ব পাকিস্তান নয় বরং ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর। তৎকালীন করাচি হতে প্রকাশিত ইংরেজি দৈনিক‘“DAWN”’ পত্রিকাতে ১৯৬৪ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাঙ্গার উৎস সম্পর্কে কিছুটা তথ্য পাওয়া যায়। প্রথম দাঙ্গার সূত্রপাত হয় ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের অন্তর্গত হজরতবাল মসজিদে সংরক্ষিত হযরত মুহাম্মদ (স.) এর পবিত্র কেশ অপহরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এ ঘটনার পরিপে‘ক্ষিতে ভারতে বিশেষ করে পশ্চিম বাংলার কলকাতার পাশাপাশি পূর্ব পাকিস্তানেও সরকারি মদদে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত হয়। ‘ “DAWN”’ পত্রিকাতে প্রকাশিত সংবাদ হতে জানা যায় যে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মতানুযায়ী ১৯৬৩ সালের-২৭২৬ ডিসেম্বর রাতে হজরতবাল সজিদম হতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর পবিত্র কেশ চুরি হয়। কিন্তু‘“DAWN”’ পত্রিকার ভাষ্য মতে, এ চুল চুরি হয় পূর্ববর্তী -রাত্রি৫টার৩মধ্যে। ২৬-২৭ ডিসেম্বর রাতে চুরি হওয়া অসম্ভব কেননা সেদিন বৃহস্পতিবার রাত হওয়ায় অসংখ্য ভক্তরা সজিদম প্রাঙ্গনে সমবেত ছিল। কিন্তু এটি পূর্ববর্তী রাতে চুরি করা খুবই সহজ। প্রত্যক্ষদর্শী এক গোয়ালার সাক্ষ্য ঐ রাতে অনুযায়ী ৭ জন দুর্বৃত্ত ভারতীয় সেনাবাহিনীর গাড়িতে মসজিদে আসে এবং মহানবীর চুল অপসারনের পর তারা গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। দুর্বৃত্তদের মধ্যে কাশ্মীরের ন্যাশনাল কনফারেন্সের সাধারন সম্পাদক বখশী আব্দুর রশীদ উপস্থিত ছিল। যখন এই পবিত্র স্মৃতি চুরি হবার সংবাদ বাইরে ছড়িয়ে পড়ে তখন হাজার হাজার মুসলমান এ ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে। ২৮ ডিসেম্বর কাশ্মীরে প্রায় ২ লক্ষ জনতা হাতে কালো ও সবুজ রংয়ের পতাকা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা যখন লাল চকের [ Lal Chowk ] দিকে অগ্রসর হচ্ছিল তখন নিরাপত্তা বাহিনী তাদের বাধা ধেয় এবং গুলিবর্ষণ করে। ফলে মুহূর্তেরমধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ পর্যায়ে কাশ্মীরের স্টেট কংগ্রেস এর সভাপতি শফি কোরেশী, পলিটিক্যাল কনফারেন্স এর সভাপতি গোলাম মহিউদ্দিন কারা এবং গণভোট ফ্রন্টের মোজাহিদ ঘটনাস্থলে পেদ্ধঁছে বিক্ষোভকারীদের শান্ততে হও জামিয়া মসজিদে চলে যেতে রাজি করাতে সক্ষম হয়। এসময় হঠাৎ করেই ন্যাশনাল কনফারেন্স এর সেক্রেটারী বখশী আব্দুর রশীদ ও শ্রীনগর ন্যাশনাল কনফারেন্স এর সভাপতি আম্মা সূফী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় বখশী আব্দুর রশীদ চিৎকার করে জনতার উদ্দেশ্য বলেন যে, ’তোমরা চিৎকার চেঁচামেচি কেন করছো? তোমাদের বাড়িতে কি খাবারের অভাব পড়েছে। চলে যাও। এটা তোমাদের চিন্তার বিষয় না। খুঁজে বের করা আমাদের দায়িত্ব। যেভাবে এটা অদৃশ্য হয়ে গেছে সেভাবেই এটার পুনরাবির্র্ভাব ঘটবে। “বখশী রশীদের এই উদ্ধত আচরণ জনতাকে আরও বিক্ষুব্ধ করে তুলে ও তারা রশীদকে ধাওয়া করার পাশাপাশি ধ্বংসাত্বক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। এসময় আরেকটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, আব্দুর রশীদ পালিয়ে কোথি বাগ(Kothi Bagh) পুলিশ স্টেশনে লুকিয়ে আছে। এসময় জনতা পুলিশ স্টেশন ঘেরাও করলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে এবং এতে ৩ জন নিহত ও প্রায় ৩০০ জন আহত হয়। এ ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী দলীয় নেতাদেরফতারগ্রেকরে। ফলে শ্রীনগর ও অন্যান্য শহরে ব্যাপক বিক্ষোভের সূচনা হয়।৪ এদিকে ১৯৬৪ সালের ৪ জানুয়ারি কাশ্মীরের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শামসুদ্দীন ঘোষণা করেন যে, হজরতবাল হতে অপহৃত রসুলুল্লাহর পবিত্র কেশ উদ্ধার করা গিয়েছে।৫ কিন্তু তা সত্বেও জনরোষ সম্পূর্ণ প্রশমিত হয়নি এবং অনেকে এ তথ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।৬ ভারতের শ্রীনগরে অবস্থিত হজরতবাল মসজিদ থেকে মুহম্মদের পবিত্র স্মৃতি অপহরণে বিষয় নিয়ে যখন জম্মু ও কাশ্মীরে ব্যাপক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ চলমান তখন পূর্ব পাকিস্তানেও এর প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এসময় পূর্ব পাকিস্তান ইসলামিক বোর্ডের উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য আব্দুল হাই পূর্ব পাকিস্তানে ওহিন্দুঅ-মুসলিমদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা
ভাষা ও মাতৃভাষা: বাংলা ভাষার স্বরূপ, প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য
ভাষা মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ এবং ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। সৃষ্টির আদিকাল থেকে মানুষ নিজের আনন্দ, বেদনা, ক্ষোভ কিংবা প্রয়োজন অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যে সুসংবদ্ধ ধ্বনি বা সংকেত ব্যবহার করে আসছে, তার নামই ভাষা। নিচে ভাষা বিষয়ক প্রাথমিক জ্ঞান—বিশেষ করে ভাষার সংজ্ঞা, মাতৃভাষা এবং বাংলা ভাষার প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। ভাষা ও মাতৃভাষা: বাংলা ভাষার স্বরূপ, প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য ১. ভাষার সংজ্ঞা: ভাবের শৈল্পিক প্রকাশ ভাষা হলো নির্দিষ্ট জনসমাজে মানুষের মনের ভাব প্রকাশের জন্য বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত অর্থবোধক ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টি। বিভিন্ন ভাষাবিজ্ঞানী ভাষাকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। ভাষাবিজ্ঞানী ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে: “মনের ভাব প্রকাশের জন্য বাগযন্ত্রের সাহায্যে উচ্চারিত ধ্বনির দ্বারা নিষ্পন্ন কোনো বিশেষ জনসমাজে ব্যবহৃত, স্বতন্ত্রভাবে অবস্থিত তথা বাক্যে প্রযুক্ত শব্দসমষ্টিকে ভাষা বলে।” সহজ কথায়, আমরা মুখ দিয়ে যা বলি তা-ই ভাষা নয়; সেই ধ্বনিকে অবশ্যই অর্থপূর্ণ হতে হবে এবং একটি নির্দিষ্ট জনসমাজে তার সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে। ভাষা পরিবর্তনশীল। দেশ, কাল ও পরিবেশ ভেদে ভাষার রূপ বদলায়। পৃথিবীর সকল মানুষের ভাষা এক নয় বলেই আজ বিশ্বে কয়েক হাজার ভাষার অস্তিত্ব বিদ্যমান। ২. মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শিকড় মাতৃভাষা হলো সেই ভাষা, যা শিশু জন্মের পর থেকে তার মায়ের কোলে বেড়ে ওঠার সময় প্রথম শেখে। এটি কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি মানুষের চিন্তা, আবেগ এবং অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষ তার মাতৃভাষাতেই সবচেয়ে স্বচ্ছভাবে চিন্তা করতে পারে এবং স্বপ্ন দেখে। একটি শিশুর বিকাশে মাতৃভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। মাতৃভাষার মাধ্যমেই শিশু তার চারপাশের জগৎকে চিনতে শুরু করে। এটি হলো তার স্বকীয়তা ও সংস্কৃতির ধারক। ইউনেস্কো কর্তৃক ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বের সকল জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষার অধিকার ও মর্যাদাকে সম্মান জানানো হয়েছে। ৩. মাতৃভাষা হিসেবে বাংলা বাঙালি জাতির কাছে তার মাতৃভাষা ‘বাংলা’ কেবল একটি ভাষা নয়, এটি এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ইতিহাস। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালিরা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এই ভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছে। বাংলা ভাষা আজ বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভাষা। প্রায় ৩০ কোটি মানুষের এই ভাষাটি জনসংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীতে চতুর্থ বা পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। এটি বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামের একাংশের মানুষের প্রধান ভাষা। বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার, বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল বিজয় এবং কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী চেতনা এই ভাষাকে বিশ্বদরবারে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। মাতৃভাষা হিসেবে বাংলা আমাদের আত্মপরিচয়ের মূল ভিত্তি। ৪. বাংলা ভাষার প্রকৃতি ও উৎস বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে হাজার বছর আগে। এটি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা বংশের অন্তর্গত। মূলত সংস্কৃত থেকে প্রাকৃত এবং প্রাকৃত থেকে অপভ্রংশের পথ ধরে বাংলা ভাষার বিবর্তন ঘটেছে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, বাংলা ভাষার উদ্ভব হয়েছে ‘গৌড়ীয় প্রাকৃত’ থেকে, অন্যদিকে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে এর উৎস ‘মাগধী প্রাকৃত’। বাংলা ভাষার প্রকৃতি অত্যন্ত উদার ও নমনীয়। এর নিজস্ব ব্যাকরণিক কাঠামো থাকলেও এটি যুগে যুগে বিভিন্ন বিদেশি শব্দকে (যেমন: আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ) আপন করে নিয়েছে। এই গ্রহণ করার ক্ষমতা বাংলাকে এক প্রাণবন্ত ও গতিশীল ভাষায় রূপান্তরিত করেছে। ৫. বাংলা ভাষার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ বাংলা ভাষার নিজস্ব কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা একে অন্যান্য ভাষা থেকে আলাদা করে তোলে: ধ্বনিগত বৈচিত্র্য: বাংলা ভাষায় স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনির চমৎকার বিন্যাস রয়েছে। বিশেষ করে ‘চন্দ্রবিন্দু’র নাসিক্য উচ্চারণ এবং তদ্ভব শব্দের প্রাধান্য এর শ্রুতিমধুরতা বৃদ্ধি করে। শব্দসম্ভার: বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে: তৎসম, অর্ধ-তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর ফলে বাংলা ভাষা বিশাল শব্দসম্ভারে সমৃদ্ধ। ক্রিয়াপদ ও লিঙ্গভেদ: বাংলা ভাষায় ক্রিয়াপদ সাধারণত বাক্যের শেষে বসে। মজার বিষয় হলো, বাংলায় সর্বনাম বা ক্রিয়াপদের ক্ষেত্রে কোনো লিঙ্গভেদ নেই। যেমন: ‘সে যায়’—এখানে ‘সে’ ছেলে বা মেয়ে উভয়কেই বোঝাতে পারে। মৌখিক ও রৈখিক রূপ: বাংলা ভাষার দুটি প্রধান রীতি রয়েছে—সাধু ও চলিত। বর্তমানে চলিত রীতির ব্যবহারই সর্বাধিক। এছাড়া আঞ্চলিক বৈচিত্র্য বা উপভাষার দিক থেকেও বাংলা অত্যন্ত সমৃদ্ধ (যেমন: চট্টগ্রামের ভাষা, সিলেটি ভাষা ইত্যাদি)। অক্ষরভিত্তিক লিখন পদ্ধতি: বাংলা বর্ণমালা একটি বিশেষ লিখন পদ্ধতির অনুসারী। এর স্বরবর্ণের কার-চিহ্নগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে যুক্ত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করে, যা লিখন শৈলীতে সৌন্দর্য যোগ করে। ভাষা হলো একটি প্রবহমান নদীর মতো। বাংলা ভাষা সেই প্রাচীন কাল থেকে শুরু করে আজ অবধি আপন মহিমায় টিকে আছে এবং সমৃদ্ধ হচ্ছে। মাতৃভাষা হিসেবে বাংলা আমাদের হৃদয়ের গভীরতম অনুভূতির বাহন। এর সঠিক চর্চা, বানান সচেতনতা এবং মর্যাদা রক্ষা করা প্রতিটি বাঙালির নৈতিক দায়িত্ব। ভাষার প্রকৃতি ও ব্যাকরণিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমেই আমরা আমাদের এই মহান সম্পদকে বিশ্বব্যাপী আরও ছড়িয়ে দিতে পারি।