গুরুকুল নার্সিং শিক্ষার্থীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান – মানব সেবায় অঙ্গীকার | নার্সিং শপথ [ Nightingale Pledge ]
![গুরুকুল নার্সিং শিক্ষার্থীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান – মানব সেবায় অঙ্গীকার | নার্সিং শপথ [ Nightingale Pledge ] 1 কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার শিপ্রা রানী-Shipra Rani, Nursing Supervisor of Kushtia Sadar Hospital](https://gurukul.edu.bd/wp-content/uploads/2019/04/IMG_2479-1024x683.jpg)
ক্যাম্পাস প্রেস রিলিজ : কুষ্টিয়ার গুরুকুল নার্সিং ইন্সটিটিউটে অনুষ্ঠিত হলো নার্সিং শিক্ষার্থীদের মর্যাদাপূর্ণ ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের সকল শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করেন। নার্সিং পেশায় প্রবেশের আগে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য এই শপথ গ্রহণ একটি বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া, যা তাদের পেশাগত দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও সততার প্রতিশ্রুতিকে দৃঢ় করে। একজন নার্স হবার জন্য আপনাকে অবশ্যই আধুনিক নার্সিং সেবার অগ্রদূত ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল এর নামে “ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল অঙ্গীকার” আনুষ্ঠানিক ভাবে পাঠ করার মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করতে হয়। ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল – আধুনিক নার্সিংয়ের অগ্রদূত শপথটি নেওয়া হয় আধুনিক নার্সিং সেবার পথিকৃৎ ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল-এর নামে। তিনি শুধু একজন দক্ষ নার্সই ছিলেন না, বরং একজন লেখক ও পরিসংখ্যানবিদ হিসেবেও বিশ্বখ্যাত। “দ্য লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প” নামে পরিচিত নাইটিঙ্গেল ১৮৫৩-৫৪ সালে লন্ডনের Care of Sick Gentlewomen Institute-এর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৮৫৫ সালে তিনি নার্স প্রশিক্ষণের জন্য তহবিল সংগ্রহ শুরু করেন এবং ১৮৫৯ সালে ‘নাইটিঙ্গেল ফান্ড’-এর জন্য প্রায় ৪৫ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে তিনি ভারতবর্ষের গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা চালান, যা উন্নত স্বাস্থ্যসেবা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নার্সিং শপথের মূল প্রতিশ্রুতি ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল অঙ্গীকার শিক্ষার্থীদের মানব সেবা ও দায়িত্বশীলতার মানসিকতায় উদ্বুদ্ধ করে। শপথের মূল বিষয়গুলো হলো— জীবন পবিত্র ও কর্তব্যনিষ্ঠ রাখার অঙ্গীকার। অন্যায় ও ক্ষতিকর কাজ থেকে বিরত থাকা এবং কোনো ক্ষতিকর ওষুধ নিজে গ্রহণ বা অন্যকে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। রোগীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা। চিকিৎসকদের কাজে সততার সঙ্গে সহযোগিতা করা এবং রোগীর কল্যাণে সর্বশক্তি নিয়োগ করা। অনুষ্ঠানের বিশেষ মুহূর্ত শিক্ষার্থীরা প্রদীপ হাতে নিয়ে শপথ পাঠ করেন, যা নার্সিং পেশায় দায়িত্বশীলতা ও মানব সেবায় আজীবন নিয়োজিত থাকার প্রতীক। শপথ পাঠ করান কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার শিপ্রা রানী।এ সময় শিক্ষার্থীদের মাথায় নার্স ক্যাপ পরিয়ে দেন সেবা তত্ত্বাবধায়ক বিভু রানী রয়। নার্সিং শপথ বাক্যগুলো হল : [ ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল অঙ্গীকার। The Pledge of Florence Nightingale.] আমি নিষ্ঠার সহিত সৃষ্টিকর্তার নিকট এবং সমবেত মন্ডলী সমক্ষে শপথ করিতেছি যে, আমি পবিত্রতার সহিত জীবন যাপন করিবো এবং বিশ্বস্ততার সহিত আমার কর্তব্য সম্পাদন করিবো। I solemnly pledge myself before Allah(God) and in the presence of this assembly, to pass my life in purity and to practice my profession faithfully. আমি যাহা কিছু অন্যায় ও অশুভ তাহা হইতে বিরত থাকিবো এবং জ্ঞাতসারে ক্ষতিকর কোনো ঔষুধ নিজে গ্রহন করিবো না এবং অন্যকে ও দিবো না। I will abstain from whatever is deleterious and mischievous, and will not take or knowingly administer any harmful drug and do not give it to others. আমি আমার সর্বশক্তি দ্বারা আমার পেশাগত মান উন্নত রাখিবো এবং আমার কার্য্য উপলক্ষে যে সমস্ত ব্যক্তিগত বিষয় আমার জ্ঞাত হইবে তাহার গোপনীয়তা রক্ষা করিবো। I’ll do all in my power to maintain and elevate the standard of my profession, and will hold confidence all personal matters committed to my keeping. আমি সততার সহিত চিকিৎসক কে তাহার কার্য্যে সহযোগিতা করিবো এবং আমার সেবাধীন রোগীদের কল্যানে নিজেকে সম্পূর্ণরুপে নিয়োজিত করিবো। With loyalty I will endeavour to aid the physician in his work, and devote myself to the welfare of those committed to my care. দিকনির্দেশনা ও শুভেচ্ছা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া সরকারি নার্সিং ইন্সটিটিউটের ইন্সট্রাক্টর ললিতা মণ্ডল। তিনি নার্সিং পেশার মানবিক দিক, দায়িত্ব ও পেশাগত মান বজায় রাখার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। তিনি বলেন “আমি বিশ্বাস করি যে আগুন হাতে নিয়ে উক্ত শপথ করার পরেও তা কোন নার্স ভূলবে / শপথ অমান্য করবে। তাই সকল নার্সের উচিত সঠিকভাবে শপথ পালন করা।” শপথ থেকে ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে যাত্রা শপথ গ্রহণের মাধ্যমে গুরুকুল নার্সিং ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিস ও সেবা প্রদানের যাত্রা শুরু করেন। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একজন নার্সের সারাজীবনের পেশাগত নৈতিকতার ভিত্তি। আরও দেখুন: ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি, বিএনএমসি
জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে গুরুকুল ফিল্ম সোসাইটি [ Gurukul Film Society ] ‘র উদ্বোধন
জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস ২০১৯ উপলক্ষে কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাসে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হলো গুরুকুল ফিল্ম সোসাইটি (Gurukul Film Society)। চলচ্চিত্রকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরতে এ আয়োজন করা হয়। স্লোগান: “চলচ্চিত্র বাঁচলে সংস্কৃতি বাঁচবে” অনুষ্ঠান আয়োজন: জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উম্মে হাবিবার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— জনাব শাহীন সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট হোসেন হীরক, উন্মুক্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কুষ্টিয়া ফিল্ম সোসাইটি এছাড়া অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গুরুকুলের অধ্যক্ষ জনাব আব্দুল্লাহ আল মাসুম এবং সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন সহকারী পরিচালক জনাব রাকিবুজ্জামান তানিম। অনুষ্ঠানে গুরুকুলের ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল শাখার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যা আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে। আলোচনা সভা “বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা এবং উত্তরণের উপায়” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা চলচ্চিত্রের সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ করেন। তাঁরা বলেন, চলচ্চিত্র কেবল বিনোদন নয়, এটি জাতির শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চেতনার প্রতিফলন। বাংলাদেশি চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে সৃজনশীল নির্মাণ, প্রযুক্তির ব্যবহার ও শিল্পীদের যথাযথ মূল্যায়ন জরুরি। একইসাথে নতুন প্রজন্মকে চলচ্চিত্র চর্চায় উৎসাহিত করার জন্য প্রতিষ্ঠানভিত্তিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন বক্তারা। গুরুকুল ফিল্ম সোসাইটির উদ্বোধন আলোচনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে গুরুকুল ফিল্ম সোসাইটির উদ্বোধন করা হয়। এ সোসাইটি ভবিষ্যতে— শিক্ষার্থীদের চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রশিক্ষণ দেবে শর্ট ফিল্ম ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণে সহায়তা করবে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও কর্মশালার আয়োজন করবে দেশীয় চলচ্চিত্র সংস্কৃতি রক্ষায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করবে গুরুকুল ফিল্ম সোসাইটির উদ্বোধন শুধু একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন গঠনের ঘটনা নয়; এটি গুরুকুল শিক্ষার্থীদের চলচ্চিত্র জগতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের প্রতিশ্রুতি। জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে গুরুকুল শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চারও এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম।
গুরুকুলে ১২তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন
২০১৯ সালের ২ এপ্রিল, যথাযোগ্য মর্যাদা ও তাৎপর্যের সঙ্গে ১২তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উদযাপন করল দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা পরিবার গুরুকুল। দিবসটি উপলক্ষে কুষ্টিয়া গুরুকুল ক্যাম্পাসে আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভা বিশ্ব অটিজম দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উম্মে হাবিবার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— খলিলুর রহমান মজু, সভাপতি, কুষ্টিয়া ফটোগ্রাফিক সোসাইটি মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক, কুষ্টিয়া প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় জনাব রাকিবুজ্জামান তানিম, সহকারী পরিচালক, গুরুকুল অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মাসুম, গুরুকুল সভায় গুরুকুলের ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল বিভাগের কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। অতিথিদের বক্তব্য আলোচনায় বক্তারা বলেন: অটিজমে আক্রান্তরা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের অবহেলা নয়, বরং সহযোগিতা ও সহমর্মিতা দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। অনেক সময় অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্নদের এমন কিছু অসাধারণ প্রতিভা থাকে যা সুস্থ মানুষদের মাঝেও বিরল। তাই পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একত্রে কাজ করে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং একটি সম্মানজনক অবস্থান গড়ে দিতে হবে। গুরুকুলের প্রতিশ্রুতি গুরুকুল দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি-কে প্রাধান্য দিয়ে আসছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি আবারও প্রমাণ করল যে, শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষের ভেতর সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমাজের সব মানুষের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করাই গুরুকুলের মূল লক্ষ্য। গুরুকুলে আয়োজিত ১২তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসের আলোচনা সভা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করেছে। এ ধরনের কর্মসূচি সমাজে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্নদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্বাধীনতা দিবসের মার্চ পাস্টে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে কুষ্টিয়া গুরুকুল
২৬ মার্চ, ২০১৯ – মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কুষ্টিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য মার্চ পাস্ট ও ডিসপ্লে প্রদর্শনী। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে অংশ নেয় জেলা শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান। গুরুকুলের অংশগ্রহণ এ আয়োজনে অংশ নেয় গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ এবং গুরুকুল গার্ল-ইন রোভার ইউনিট। সুসজ্জিত পোশাক, নিখুঁত শৃঙ্খলা এবং সুনিপুণ কায়দায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তারা দর্শক ও বিচারকদের মন জয় করে নেয়। ফলাফলে কলেজ গ্রুপে গুরুকুল রোভার স্কাউট মার্চ পাস্টে তৃতীয় স্থান অর্জন করে, যা প্রতিষ্ঠানটির জন্য গর্ব ও সম্মানের বিষয়। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন। তিনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং গুরুকুল দলের প্রশংসা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন— গুরুকুলের সহকারী পরিচালক রাকিবুজ্জামান তানিম অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মাসুম গুরুকুল রোভার সম্পাদক সোহাগ আহমেদ রোভার স্কাউটের সকল সদস্য মার্চ পাস্টের তাৎপর্য ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য, শৃঙ্খলা ও দলগত সমন্বয় রক্ষায় মার্চ পাস্টের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বাহিনীতে মার্চ পাস্টকে মৌলিক প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একইভাবে স্কাউট কার্যক্রমেও অতিথিদের সম্মান প্রদর্শন ও দলগত শৃঙ্খলা প্রদর্শনের জন্য মার্চ পাস্টের প্রচলন রয়েছে। গুরুকুল সবসময় শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক জ্ঞানেই নয়, বরং শারীরিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা ও দলগত নেতৃত্বের গুণাবলিতেও গড়ে তুলতে কাজ করে আসছে। স্বাধীনতা দিবসের মার্চ পাস্টে তৃতীয় স্থান অর্জন প্রমাণ করে যে গুরুকুল শিক্ষার্থীরা শুধু শিক্ষায় নয়, বরং শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও জাতীয় চেতনায় সমানভাবে সমৃদ্ধ।
মাতৃভাষা দিবসে ২০১৯ কুষ্টিয়ায় সর্ববৃহৎ র্যালি আয়োজন করল গুরুকুল

২১শে ফেব্রুয়ারি ২০১৯, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়া জুড়ে নানা আয়োজনের মধ্যে সবচেয়ে বড় র্যালি অনুষ্ঠিত হয় দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা পরিবার গুরুকুল-এর উদ্যোগে। এবারের শ্লোগান ছিল—“দাপ্তরিক সব কাজ আমরা বাংলায় করি, আপনি?” র্যালি ও শ্রদ্ধাঞ্জলি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক এবং আর.এস ট্রেড প্রধান উম্মে হাবিবার নেতৃত্বে সকাল থেকেই শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা র্যালিতে অংশ নেন। ৯ শতাধিক অংশগ্রহণকারী নিয়ে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় এ র্যালি কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাস (কালিশংকরপুর) থেকে শুরু হয়। শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে র্যালিটি এসে শেষ হয় কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে ভাষাশহীদদের স্মরণ করা হয়। আলোচনা সভা শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন— গুরুকুলের সহকারী পরিচালক জনাব রাকিবুজ্জামান তানিম অধ্যক্ষ জনাব এম. এ. মাসুম উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উম্মে হাবিবা গুরুকুলের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ মূল বক্তব্য আলোচনায় সহকারী পরিচালক রাকিবুজ্জামান তানিম বলেন: “১৯৫২ সালে সালাম, বরকত, জব্বার, রফিক, শফিউল্লাহসহ অসংখ্য বীর সন্তানের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা বাংলা ভাষার মর্যাদা ফিরে পেয়েছি। তাদের রক্তের ঋণেই আজ আমরা মাতৃভাষায় সাহিত্য, গান, কবিতা ও নাটক রচনা করছি। একুশ কেবল আমাদের নয়, এটি এখন বিশ্বব্যাপী ভাষার অধিকারের প্রতীক।” তিনি আরও যোগ করেন, ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে বিশ্বের সব প্রান্তে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে। দেশব্যাপী কর্মসূচি কুষ্টিয়ার পাশাপাশি ঢাকা, রাজবাড়ি, কুমারখালী ও খোকসা গুরুকুল ক্যাম্পাসেও একইসাথে মাতৃভাষা দিবসের নানা কর্মসূচি পালিত হয়। শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ছাড়াও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আলোচনা সভার মাধ্যমে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে। সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর প্রতিষ্ঠিত গুরুকুল এ বছরও প্রমাণ করল যে, শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ের ভেতর সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কুষ্টিয়ায় আয়োজিত এ র্যালি ও কর্মসূচি নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করেছে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৯ উদযাপন
“দাপ্তরিক সব কাজ আমরা বাংলায় করি, আপনি?” – এই অনুপ্রেরণামূলক স্লোগানকে সামনে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস–২০১৯ উদযাপন করল দেশের স্বনামধন্য শিক্ষা পরিবার গুরুকুল। র্যালি ও পুষ্পস্তবক অর্পণ ২০১৯ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি সকালে গুরুকুলের ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিকেল সেকশনের প্রায় নয় শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অংশগ্রহণে কুষ্টিয়ার ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি শুরু হয় কুষ্টিয়া গুরুকুল লালন সাঁই ক্যাম্পাস (কালিশংকরপুর) থেকে। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে শুরু হয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা। আলোচনা সভা র্যালি শেষে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন— গুরুকুলের সহকারী পরিচালক জনাব রাকিবুজ্জামান তানিম অধ্যক্ষ জনাব এম. এ. মাসুম উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও আর.এস ট্রেড প্রধান উম্মে হাবিবা গুরুকুলের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী আলোচনার মূল বক্তব্য সহকারী পরিচালক জনাব রাকিবুজ্জামান তানিম বলেন: “১৯৫২ সালে সালাম, বরকত, জব্বার, রফিক, শফিউল্লাহসহ অগণিত বীর সন্তান নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায়। তাদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীনভাবে বাংলায় কথা বলি, গান, কবিতা, নাটক ও সাহিত্য সৃষ্টি করি। একুশ শুধু বাংলাদেশে নয়—এটি এখন বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে মায়ের ভাষার অধিকার রক্ষার প্রতীক।” তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারি-কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে সারা বিশ্বে দিনটি পালিত হয়ে আসছে। দেশব্যাপী গুরুকুলের কার্যক্রম শুধু কুষ্টিয়া নয়, দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা, রাজবাড়ি, কুমারখালী ও খোকসা গুরুকুল ক্যাম্পাসেও বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। প্রতিটি ক্যাম্পাসেই শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। গুরুকুলের এই আয়োজন শুধু ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন নয়, বরং নতুন প্রজন্মের মাঝে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার জাগিয়ে তোলার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৯-এ গুরুকুল আবারও প্রমাণ করেছে যে—বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।
সাগরের নীল জলরাশিতে গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের বার্ষিক শিক্ষা সফর ২০১৯ সম্পন্ন
যান্ত্রিক জীবনের কর্মব্যস্ততা ও পড়াশোনার একঘেয়েমি কাটিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কুষ্টিয়া গুরুকুল শিক্ষা পরিবারের বার্ষিক শিক্ষা সফর-২০১৯ অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সাগরকন্যা’ খ্যাত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এই সফরে গুরুকুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক মিলে এক বিশাল মিলনমেলা বসেছিল। ভ্রমণসূচি ও যাত্রা গত ১২ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া থেকে শিক্ষা সফরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী এই সফরে গুরুকুলের ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেডিক্যাল শাখার বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আনন্দ নিশ্চিত করতে সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উৎসাহী অভিভাবকবৃন্দ। সূর্যোদয়ের স্নিগ্ধতায় দিনের শুরু সফরের প্রথম দিন ভোরে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয়ের মনোমুগ্ধকর ও বিরল দৃশ্য উপভোগের মাধ্যমে ভ্রমণের মূল কর্মসূচি শুরু হয়। বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে লাল সূর্যের উদয় হওয়ার দৃশ্যটি শিক্ষার্থীদের মাঝে এক অনন্য শিহরণ সৃষ্টি করে। এরপর দিনব্যাপী শিক্ষার্থীরা কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে। দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন: প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা কুয়াকাটা ও এর আশেপাশের মোট ৮টি গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল: কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত: দীর্ঘ বালুকাবেলায় সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে মিতালি। রাখাইন পল্লি: আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় জীবনধারা ও হস্তশিল্পের সাথে পরিচিত হওয়া। ঝাউবন ও ফাতরার বন: গহীন অরণ্য ও সমুদ্রের মিতালি উপভোগ। শুঁটকি পল্লি ও লাল কাঁকড়ার দ্বীপ: বাস্তুসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতির বাস্তব অভিজ্ঞতা। বাস্তব জ্ঞান ও দলগত সংহতি শিক্ষা সফর কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি শিক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ভ্রমণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরে ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রকৃতির বিচিত্র রূপ সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান লাভ করে। দলগতভাবে ভ্রমণ করায় তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, নেতৃত্ব ও বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। অনুভূতি ও সমাপনী ভ্রমণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জানায়, এ ধরণের আয়োজন পড়াশোনার ক্লান্তি দূর করে নতুন উদ্দীপনা জোগায়। গুরুকুল কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের আন্তরিক উপস্থিতি পুরো সফরটিকে নিরাপদ ও স্মরণীয় করে তোলে। ১৪ ফেব্রুয়ারি একরাশ মধুর স্মৃতি নিয়ে শিক্ষা সফর শেষে গুরুকুল পরিবার কুষ্টিয়ায় প্রত্যাবর্তন করে। আরও দেখুন: গুরুকুল নার্সিং ইন্সটিটিউট এর বার্ষিক প্রীতিভোজ অনুষ্ঠান-২০১৯
শারদীয় দুর্গাপূজা ২০১৮ উপলক্ষে ছুটির নোটিশ

বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপনী লগ্ন ‘বিজয়া দশমী’ উপলক্ষে ‘গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস’-এ আগামী ১৯ অক্টোবর ২০১৮ (শুক্রবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই দিন প্রতিষ্ঠানের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। প্লুরালিস্ট সোসাইটি ও গুরুকুলের অঙ্গীকার গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ বিনির্মাণে বিশ্বাসী। গুরুকুল পরিবার মনে করে, প্রতিটি ধর্মের উৎসবই আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সকল ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই গুরুকুলের শিক্ষার মূল ভিত্তি। দুর্গাপূজার এই ছুটি সেই বৈচিত্র্যের প্রতি বিনম্র সম্মান এবং সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার একটি প্রয়াস। ছুটির সময়সূচী ও কার্যক্রম প্রশাসন বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী: ছুটির তারিখ: ১৯ অক্টোবর ২০১৮ (শুক্রবার)। কার্যক্রম পুনরায় শুরু: ২০ অক্টোবর ২০১৮ (শনিবার) থেকে ক্যাম্পাসের সকল ক্লাস, পরীক্ষা এবং দাপ্তরিক কাজ পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী যথারীতি পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা ও নিরাপত্তা উৎসবের এই বিশেষ সময়ে গুরুকুল কর্তৃপক্ষ সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসবকালীন নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধনে একটি নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে বিজয়া দশমী উদযাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের বার্তা গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের প্রশাসন বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, “আমরা এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ লালন করি যেখানে প্রতিটি মানুষ তাদের স্ব-স্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে গর্বের সাথে বসবাস করতে পারে। এই বহুত্ববাদী চেতনা আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে। বিজয়া দশমীর এই ক্ষণে আমরা সকল ধর্মাবলম্বীদের মাঝে মৈত্রীর বন্ধন আরও দৃঢ় হওয়ার কামনা করি।” গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস পরিবারের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়াবাসীসহ সকলকে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমীর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। আরও দেখুন: গুরুকুল ক্যাম্পাসে দ্বীন ও ধর্ম বিষয়ক নীতিমালা
গুরুকুল ক্রীড়া কমিটি বিষয়ক নীতিমালা ২০১৮
গুরুকুল বিশ্বাস করে—শিক্ষার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য কেবল বইকেন্দ্রিক জ্ঞান নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ মানুষ গঠন। একজন শিক্ষার্থীর চরিত্র, মানসিকতা ও নেতৃত্বগুণ বিকাশের পাশাপাশি তার দেহ ও মনের সুস্থতা নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে গুরুকুলের শিক্ষা-দর্শনে খেলাধুলা ও শারীরিক অনুশীলনকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সহনশীলতা, দলগত চেতনা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তোলে। একই সঙ্গে এটি তাদের শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখে এবং মানসিক বিকাশে সহায়তা করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে গুরুকুল নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম আয়োজন করে এবং শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। গুরুকুল ক্রীড়া কমিটি বিষয়ক এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে যেন ক্রীড়া কার্যক্রমগুলোকে আরও সুশৃঙ্খল, ফলপ্রসূ ও স্থায়িত্বশীল করা যায়। এর মাধ্যমে গুরুকুলের প্রতিটি শিক্ষার্থী পূর্ণ মানুষ হয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা অর্জন করবে। ১. কমিটির গঠন গুরুকুল ক্রীড়া কমিটি নিম্নোক্ত কাঠামোয় ১ (এক) বছরের জন্য গঠিত হবে: সভাপতি: ১ জন সহ-সভাপতি: ২ জন সমন্বয়কারী: ১ জন সদস্য: ৩ জন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগে বা পরে বিদ্যমান কমিটি নতুন সদস্যদের প্রস্তাব গুরুকুল ট্রাস্টের নিকট উপস্থাপন করবে। ট্রাস্টের পক্ষে গুরুকুল প্রমুখের কার্যালয় যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন করবে। আমন্ত্রিত সদস্যরা দায়িত্ব গ্রহণ করলে কমিটির কার্যক্রম শুরু হবে। ২. কমিটির কার্যক্রম গুরুকুল ক্রীড়া কমিটি গুরুকুল পরিবারের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, সোসাইটি, সেবা ইউনিট ও অন্যান্য ইউনিটের ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান করবে। এর প্রধান দায়িত্বসমূহ হলো: ১। বার্ষিক ক্রীড়া বিষয়ক পরিকল্পনা প্রণয়ন।২। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য ত্রৈমাসিক সভা আয়োজন।৩। বাজেট অনুমোদন, ব্যয়ের নিরীক্ষণ ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ।৪। গুরুকুলের অভ্যন্তরে ক্রীড়া বিষয়ক অবদানের জন্য বার্ষিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নির্বাচন।৫। কুষ্টিয়া জেলা বা জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়া বিষয়ে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচন। ৩. সভাপতির দায়িত্ব ১। ত্রৈমাসিক ও বিশেষ সভার আহ্বান।২। সভায় সভাপতিত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতৃত্ব প্রদান।৩। কমিটির কার্যক্রম প্রত্যাশা অনুযায়ী সক্রিয় রাখতে সদস্যদের দিকনির্দেশনা প্রদান।৪। বাজেট অনুমোদন ও খরচ নিরীক্ষণ।৫। উপকমিটি গঠন ও পরিচালনা।৬। ক্রীড়া সম্পর্কিত সব অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন। ৪. সহ-সভাপতির দায়িত্ব ১। সভাপতির অনুপস্থিতিতে সভাপতির দায়িত্ব পালন।২। কমিটির কার্যক্রম সক্রিয় রাখতে সদস্যদের অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা প্রদান। ৫. সমন্বয়কারীর দায়িত্ব ১। সকল ইউনিটের সাথে পরামর্শক্রমে বার্ষিক ক্রীড়া পরিকল্পনার খসড়া তৈরি ও সভায় উপস্থাপন।২। সভাপতির অনুমোদনক্রমে সভা আহ্বান এবং কার্যবিবরণী প্রস্তুত ও সংরক্ষণ।৩। কমিটির সদস্যদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা।৪। বাজেটের খসড়া প্রস্তুত ও অনুমোদনের পর তা বাস্তবায়নে তত্ত্বাবধান।৫। ইউনিটগুলোর কার্যক্রম ও হিসাব বিবরণী সভায় উপস্থাপন।৬। উপকমিটিগুলোর কাজ তদারকি ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা।৭। কমিটির দাপ্তরিক কার্যাদি সম্পাদন ও দলিলাদি সংরক্ষণ। ৬. সদস্যদের দায়িত্ব ১। কমিটির সকল কার্যক্রমে সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান।২। সভাপতির অর্পিত দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন। গুরুকুল ক্রীড়া কমিটি হলো গুরুকুল পরিবারের ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনা ও বিকাশের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এই নীতিমালা অনুসরণ করে কমিটি গুরুকুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সকলের মাঝে শারীরিক সুস্থতা, দলগত চেতনা, নেতৃত্ব ও ক্রীড়া সংস্কৃতি বিকাশে অবদান রাখবে। কমিটির তালিকা: ১. গুরুকুল ক্রিড়া বিষয়ক কমিটি ২০১৯-২০২০।
গুরুকুলের ওয়েলকাম টিউন
গুরুকুলের কর্মীবৃন্দ নিচের নির্দেশনা অনুযায়ী গুরুকুলের ওয়েলকাম টিউন সেট করে নিতে পারবেন। গুরুকুলের ওয়েলকাম টিউন ওয়েলকাম টিউনের কোড: 7806110 – গুরুকুলে স্বাগতম (বংলা) 7806111 – Welcome to Gurukul (English) কিভাবে সেট করবেন ?: গ্রামীনফোনের গ্রাহকদের জন্য গুরুকুলের ওয়েলকাম টিউন: WT এর পরে “টিউনের কোড” লিখে 4000 নম্বরে মেসেজ পাঠাতে হবে। যেমন: WT 7806110 লিখে 4000 নম্বরে মেসেজ পাঠাতে হবে। বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য গুরুকুলের ওয়েলকাম টিউন: DOWN এর পরে “টিউনের কোড” লিখে 2222 নম্বরে মেসেজ পাঠাতে হবে। যেমন: DOWN 7806110 লিখে 2222 নম্বরে মেসেজ পাঠাতে হবে। রবির গ্রাহকদের জন্য গুরুকুলের ওয়েলকাম টিউন: GET এর পরে “টিউনের কোড” লিখে 8466 নম্বরে মেসেজ পাঠাতে হবে। যেমন: GET 7806110 লিখে 8466 নম্বরে মেসেজ পাঠাতে হবে। এয়ারটেল গ্রাহকদের জন্য গুরুকুলের ওয়েলকাম টিউন: CT এর পরে “টিউনের কোড” লিখে 3123 নম্বরে মেসেজ পাঠাতে হবে। যেমন: CT 7806110 লিখে 3123 নম্বরে মেসেজ পাঠাতে হবে। টেলিটক গ্রাহকদের জন্য গুরুকুলের ওয়েলকাম টিউন: TT এর পরে “টিউনের কোড” লিখে 5000 নম্বরে মেসেজ পাঠাতে হবে। যেমন: TT 7806110 লিখে নম্বরে 5000 মেসেজ পাঠাতে হবে।