শারদীয় দুর্গাপূজা ২০১৯ উপলক্ষে ছুটির নোটিশ

বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে ‘গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস’-এ একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ০৮ অক্টোবর ২০১৯ (মঙ্গলবার) বিজয়া দশমী উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। প্লুরালিস্ট সোসাইটি ও গুরুকুলের দর্শন গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি সকল ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের একটি অনন্য ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ। গুরুকুল বিশ্বাস করে, উৎসবের আনন্দ সর্বজনীন এবং এটি আমাদের পারস্পরিক মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। শারদীয় দুর্গাপূজার এই ছুটি সেই বৈচিত্র্যের প্রতি বিনম্র সম্মান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংস্কৃতিক চর্চারই একটি অংশ। ছুটির সময়সূচী ও কার্যক্রম প্রশাসন বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী: ছুটির তারিখ: ০৮ অক্টোবর ২০১৯ (মঙ্গলবার)। কার্যক্রম পুনরায় শুরু: ০৯ অক্টোবর ২০১৯ (বুধবার) থেকে ক্যাম্পাসের সকল ক্লাস, পরীক্ষা এবং দাপ্তরিক কাজ পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী যথারীতি পরিচালিত হবে। নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার নির্দেশনা উৎসবের এই বিশেষ সময়ে গুরুকুল কর্তৃপক্ষ সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদযাপনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রেখে আনন্দঘন পরিবেশে বিজয়া দশমী উদযাপনের মাধ্যমেই একটি সুস্থ সমাজ গঠন সম্ভব বলে মনে করে কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের বার্তা গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের প্রশাসন বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, “আমরা এমন একটি পরিবেশ লালন করি যেখানে প্রতিটি মানুষ তাদের স্ব-স্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে গর্বের সাথে বসবাস করতে পারে। এই বহুত্ববাদী সমাজ ব্যবস্থা আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।” গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস পরিবারের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়াবাসীসহ সকলকে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমীর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। আরও দেখুন: গুরুকুল ক্যাম্পাসে দ্বীন ও ধর্ম বিষয়ক নীতিমালা
গুরুকুলে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী পালিত

উপমহাদেশের সমাজ সংস্কারের পুরোধা ব্যক্তিত্ব এবং বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কুষ্টিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘গুরুকুল’-এ এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিল গভীর শ্রদ্ধায় মোড়ানো আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রতিষ্ঠানের বাংলা বিভাগের শিক্ষক লাবণী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং ঐশী রহমানের সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ড. সরওয়ার মুর্শেদ। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. সরওয়ার মুর্শেদ বিদ্যাসাগরের জীবন ও দর্শনের ওপর আলোকপাত করে বলেন, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কেবল একজন ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একাধারে সমাজ সংস্কারক, বিদ্যানুরাগী, নারী কল্যাণকামী ও এক মহান মানবতাবাদী সত্তা। তাঁর মতো নির্ভীক ও সমাজহিতৈষী মানুষের আদর্শ বর্তমান ঘুণে ধরা সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সাহসের কারণে চরম দারিদ্র্যকে জয় করে তিনি যেভাবে সমাজের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন, তা আজও আমাদের জন্য ধ্রুবতারার মতো কাজ করে। বিদ্যাসাগরের শিক্ষানুরাগ ও নারী জাগরণের বিষয়টি অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। বক্তারা স্মরণ করেন যে, তিনি ছিলেন উপমহাদেশের প্রথম নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের পথপ্রদর্শক। বিশেষ করে নারী শিক্ষার বিস্তার এবং বিধবা বিবাহ প্রচলনের মাধ্যমে তিনি তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজের মূলে আঘাত করেছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক শাহীন সরকার এবং গুরুকুলের সহকারী পরিচালক রাকিবুজ্জামান তানিম। তারা বলেন, বিদ্যাসাগরের ‘দয়ার সাগর’ হয়ে ওঠার পেছনে ছিল মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে গুরুকুল কালচারাল ক্লাবের আয়োজনে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। কবিতা আবৃত্তি, সংগীত ও ক্ষুদ্র নাটিকার মাধ্যমে বিদ্যাসাগরের সংগ্রামী জীবনের বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলা হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। পুরো আয়োজনটি যেন একালের প্রজন্মের কাছে বিদ্যাসাগরের মানবিক ও জ্ঞানদীপ্ত চেতনাকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটি সার্থক প্রচেষ্টায় পরিণত হয়।
কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ক্যাম্পেইনের সমাপণী অনুষ্ঠিত গুরুকুলে

“সবাই হলে সচেতন, ডেঙ্গু রুখতে কতক্ষণ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং গুরুকুল শিক্ষা পরিবার-এর সক্রিয় অংশগ্রহণে মাসব্যাপী পরিচালিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের সফল সমাপ্তি ঘটেছে। শনিবার বিকেল ৩:০০ টায় গুরুকুল অডিটোরিয়ামে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের সমাপনী ঘোষণা করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্য ও দিকনির্দেশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন কুষ্টিয়ার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক জনাব আসলাম হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন: “ডেঙ্গু কেবল একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, এটি মোকাবিলায় সামাজিক সচেতনতা অপরিহার্য। নিজ বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। সচেতন নাগরিক হিসেবে সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে ডেঙ্গুমুক্ত কুষ্টিয়া গড়তে।” উপস্থিত অতিথিবৃন্দ সমাপনী অনুষ্ঠানে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও জনস্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন: এ.বি.এম. আরিফুল ইসলাম, এনডিসি, কুষ্টিয়া। ড. আমানুর আমান, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক। রাকিবুজ্জামান তানিম, সহকারী পরিচালক, গুরুকুল। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রোভার স্কাউট সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ক্যাম্পেইন কার্যক্রমের একনজরে বিগত এক মাস ধরে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এতে গুরুকুল রোভার স্কাউট গ্রুপ সহ কুষ্টিয়ার বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। ক্যাম্পেইনের প্রধান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে ছিল: ১. জনাকীর্ণ এলাকায় লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং। ২. বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা। ৩. সাধারণ মানুষকে জমাটবদ্ধ পানির কুফল ও এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র সম্পর্কে সচেতন করা। গুরুকুলের দর্শন ও সামাজিক দায়বদ্ধতা গুরুকুল বিশ্বাস করে যে, একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ গঠনে শিক্ষার পাশাপাশি জনসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এই ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে গুরুকুলের শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে সামাজিক দায়িত্ব পালনের শিক্ষা গ্রহণ করেছে, যা তাদের প্রকৃত মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। ভিডিও রিপোর্ট ও বিশেষ আলোচনা ক্যাম্পেইনের সমাপনী অনুষ্ঠানের ভিডিও রিপোর্ট দেখুন এখানে: https://youtu.be/aQUK-tPn__Q ডেঙ্গু সচেতনতা বিষয়ে গুরুকুল লাইভের বিশেষ আলোচনা দেখুন: https://youtu.be/58-HOjZr8xI অনুষ্টানের ভিডিও রিপোর্ট: ডেঙ্গু সচেতনতা বিষয়ে দেখুন গুরুকুল লাইভের ডিডিও:
গুরুকুল ক্রীড়া বিষয়ক কমিটি ২০১৯-২০২০ গঠিত: নেতৃত্বে ইকবাল মাহমুদ ও রাকিবুজ্জামান তানিম
কুষ্টিয়ার অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘গুরুকুল’-এর শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার প্রসার ঘটাতে ‘গুরুকুল ক্রীড়া বিষয়ক কমিটি ২০১৯-২০২০’ [Gurukul Sports Affairs Committee 2019-2020] ঘোষণা করা হয়েছে। গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর নবগঠিত এই কমিটির অনুমোদন প্রদান করেছেন। কমিটির কাঠামো ও নেতৃত্ব নবগঠিত এই কমিটিতে কুষ্টিয়ার ক্রীড়া ও ব্যবসায়িক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির বিন্যাস নিম্নরূপ: সভাপতি: জনাব ইকবাল মাহমুদ (সহ-সাধারণ সম্পাদক, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, কুষ্টিয়া এবং পরিচালক, চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, কুষ্টিয়া)। সদস্য-সচিব: জনাব রাকিবুজ্জামান তানিম (সহকারী পরিচালক, কুষ্টিয়া গুরুকুল), তিনি গুরুকুল প্রমুখ কর্তৃক সরাসরি মনোনীত হয়েছেন। সদস্যবৃন্দ: প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত হয়েছেন জনাব কামরুজ্জামান আলিম, বশির আহমেদ এবং কিরণ কর্মকার। কমিটির মেয়াদ ও লক্ষ্য বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই কমিটি আগামী ১ বছরের মেয়াদের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। তবে শর্তানুসারে, পরবর্তী কমিটি নির্বাচিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বর্তমান কমিটিই তাদের অর্পিত যাবতীয় দায়-দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন। ক্রীড়া উন্নয়নে গুরুকুলের দর্শন গুরুকুল কর্তৃপক্ষ মনে করে, কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং একজন শিক্ষার্থীকে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। নবগঠিত এই কমিটির মূল লক্ষ্য হবে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন, আন্তঃবিভাগীয় টুর্নামেন্ট পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীদের জেলা ও জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া আসরে অংশগ্রহণের উপযোগী করে তোলা। গুরুত্ব ও তাৎপর্য সভাপতি হিসেবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অভিজ্ঞ সংগঠক ইকবাল মাহমুদ যুক্ত হওয়ায় গুরুকুলের ক্রীড়া কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সদস্য-সচিব রাকিবুজ্জামান তানিমের সমন্বয়ে এই কমিটি শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা অন্বেষণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। নবগঠিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই কমিটি তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে গুরুকুলের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব গড়ে তুলবে।
গুরুকুল ইফতার সমাবেশ ২০১৯

কুষ্টিয়ার শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্যতম বিদ্যাপীঠ গুরুকুল-এর ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক রচিত হলো। প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় এবং জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার শহরের প্রাণকেন্দ্র ‘আলো কমিউনিটি সেন্টারে’ অত্যন্ত উৎসবমুখর ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এই ইফতার ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন হয়। বিশাল ছাত্র সমাবেশ ও উপস্থিতি ইফতার সমাবেশে প্রধান আকর্ষণ ছিল গুরুকুলের শিক্ষার্থীদের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ। গুরুকুলের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক, বিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর-এর উপস্থিতিতে মাহফিলটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের মোট ৮০০ শিক্ষার্থী এই সমাবেশে অংশ নেন, যা গুরুকুলের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। অতিথি বৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সমাবেশে কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন: ডা. আমিনুল হক রতন, সাংগঠনিক সম্পাদক, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ। জিয়াউল ইসলাম স্বপন, সাধারণ সম্পাদক, কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগ এবং চেয়ারম্যান, কয়া ইউনিয়ন পরিষদ। ড. আমানুর আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, কুষ্টিয়া জেলা শাখা। ইকবাল মাহমুদ, অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক, জেলা ক্রীড়া সংস্থা। আমিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক, জেলা শিল্পকলা একাডেমি। শাহিন সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা শিল্পকলা একাডেমি। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সম্পা মাহমুদ। অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ গুরুকুলের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। মাহফিলে শুভেচ্ছা বক্তব্যে গুরুকুলের কর্ণধার সুফি ফারুক মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রতিষ্ঠানের সমৃদ্ধি ও সকল শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন গুরুকুলের চেয়ারম্যান আজিজা আহমেদ এবং সহকারী পরিচালক রাকিবুজ্জামান তানিম। ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে দেশ, জাতি এবং গুরুকুল পরিবারের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাত শেষে ৮০০-এর অধিক প্রাণোচ্ছল শিক্ষার্থীর সাথে আমন্ত্রিত অতিথিরা একই পাতে ইফতারে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। গুরুকুল নিউজ ডেস্ক
গুরুকুলে বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস ২০১৯ উদযাপিত: প্রতিপাদ্য ‘ভালোবাসা’

মানবিক সেবার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে কুষ্টিয়ার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুরুকুলে যথাযোগ্য মর্যাদায় এবং নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘বিশ্ব রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট দিবস ২০১৯’ পালন করা হয়েছে। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘ভালোবাসা’ (#Love), যা আর্তমানবতার সেবায় স্বেচ্ছাসেবকদের নিঃস্বার্থ ত্যাগের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। র্যালি ও বর্ণাঢ্য আয়োজন দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে দিনের শুরুতেই গুরুকুল যুব রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সদস্যদের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি গুরুকুল ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুনের মাধ্যমে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের মূলমন্ত্র সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেন। ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা কর্মসূচিতে বক্তারা রেড ক্রিসেন্ট ও রেড ক্রস আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এবং শান্তিতে প্রথম নোবেল বিজয়ী হেনরি ডুনান্টের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ১৮২৮ সালের ৮ মে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে তাঁর জন্ম। মানবসেবায় তাঁর অনন্য অবদান ও আদর্শকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী তাঁর জন্মদিনটি এই বিশেষ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। মানবিক শিক্ষায় গুরুকুলের দর্শন গুরুকুল কর্তৃপক্ষ জানায়, কেবল একাডেমিক শিক্ষাই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মাঝে মানবিক মূল্যবোধ ও সেবার মানসিকতা তৈরি করা গুরুকুলের অন্যতম লক্ষ্য। যুব রেড ক্রিসেন্ট সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, গুরুকুলের শিক্ষার্থীরা যেকোনো দুর্যোগ ও মানবিক প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত। যুব স্বেচ্ছাসেবকদের অঙ্গীকার র্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, “হেনরি ডুনান্টের সেবার দর্শনকে বুকে নিয়ে গুরুকুলের যুব স্বেচ্ছাসেবকরা আর্তমানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবে। ‘ভালোবাসা’ প্রতিপাদ্যটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের প্রতি মমতা ও ভালোবাসাই পারে একটি সুন্দর পৃথিবী গড়তে।” অনুষ্ঠানে গুরুকুলের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং যুব রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ ২০১৯ [ সাজেক ভ্যালি ]
![বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ ২০১৯ [ সাজেক ভ্যালি ] 9 গুরুকুল কর্মীদের সাজেক ভ্রমন-Sajeek travel to Gurukul staff](https://gurukul.edu.bd/wp-content/uploads/2019/04/DSC07104-1024x682.jpg)
প্রকৃতির অপার বিস্ময় আর মেঘেদের সাথে মিতালীর টানে গুরুকুল শিক্ষা পরিবার-এর বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ-২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়েছে পাহাড়ের রাণী রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালিতে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে গুরুকুলের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আনন্দ যাত্রা শুরু হয়। প্রতিবেদন: মেঘের উপত্যকায় গুরুকুল—বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ ২০১৯ প্রকৃতির অপার বিস্ময় আর মেঘেদের সাথে মিতালীর টানে গুরুকুল শিক্ষা পরিবার-এর বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ-২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়েছে পাহাড়ের রাণী রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালিতে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে গুরুকুলের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এই আনন্দ যাত্রা শুরু হয়। ভৌগোলিক অবস্থান ও যাত্রাপথ রাঙ্গামাটি জেলার সর্ব উত্তরে মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত সাজেক ভ্যালি যেন এক টুকরো স্বর্গ। এর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙ্গামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম এবং পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে অবস্থিত এই উপত্যকায় পৌঁছাতে পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ আর সবুজের সমারোহ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। ভ্রমণ অভিজ্ঞতা ও প্রকৃতির বৈচিত্র্য ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ পর্যন্ত ২ রাত ৩ দিনের এই ভ্রমণে গুরুকুল পরিবার সাজেকের সর্বত্র মেঘ, পাহাড় আর সবুজের দারুণ মিতালী প্রত্যক্ষ করে। প্রকৃতির রূপ: সাজেকের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এখানে ২৪ ঘণ্টায় প্রকৃতির তিনটি রূপের দেখা মেলে। কখনো তপ্ত রোদ, হঠাৎ ঝমঝমে বৃষ্টি, আর পরক্ষণেই চারপাশ ঢেকে যায় সাদা মেঘের চাদরে। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: সাজেকের তিনটি হেলিপ্যাড থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের যে অপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়, তা সত্যিই অবর্ণনীয়। মেঘের ওপর দিয়ে সূর্যের প্রথম আভা যেন এক অপার্থিব অনুভূতি তৈরি করে। প্লুরালিস্ট সোসাইটি ও আদিবাসী জীবন গুরুকুল বিশ্বাস করে যে, জ্ঞান কেবল শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রকৃতির সান্নিধ্য ও বৈচিত্র্যের মাঝেও প্রকৃত শিক্ষা নিহিত। সাজেকের আদিবাসীরা অত্যন্ত বন্ধুসুলভ ও অতিথি পরায়ণ। তাঁদের সরল জীবনযাত্রা ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আমাদের ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ গঠনের দর্শনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে মেলামেশার মাধ্যমে গুরুকুল পরিবার পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার শিক্ষা লাভ করেছে। পাহাড়ের বুকে কাটানো এই দিনগুলো গুরুকুলের সকল সদস্যদের মধ্যে কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করেছে। এককথায়, অসাধারণ এই আনন্দ ভ্রমণটি সবার হৃদয়ে একটি চিরস্থায়ী স্মৃতি হয়ে থাকবে।
গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ ১৪২৬

“মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা”—এই চিরন্তন আহ্বানকে বুকে ধারণ করে ‘গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস’-এ অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪২৬। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এই লার্নিং নেটওয়ার্কের কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, শেকড়ের টান ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ ১৪২৬ মঙ্গল শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অভিযাত্রা দিনের শুরু হয় ভোরের স্নিগ্ধতায় বৈশাখী রাগের মূর্ছনায়। সকাল ৮টায় গুরুকুল লার্নিং নেটওয়ার্কের কুষ্টিয়াস্থ লালন সাঁই ক্যাম্পাস থেকে বের করা হয় বর্ণিল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। কুষ্টিয়া শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণকালে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা লোকজ মোটিফ, বিভিন্ন মুখোশ এবং অসাম্প্রদায়িক শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড শহরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শোভাযাত্রা শেষে লালন সাঁই ক্যাম্পাসে শুরু হয় মূল উৎসবের আমেজ। ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের বিশেষ দিকসমূহ: ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ ক্রীড়া: হাড়িভাঙা, মোরগ লড়াই ও দড়ি টানাটানির মতো বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ খেলাধুলার মাধ্যমে যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে উৎসবে মেতে ওঠেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সাংস্কৃতিক আসর: নেটওয়ার্কের নিজস্ব শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় বৈশাখী গান, লালনগীতি এবং কালজয়ী কবিতা আবৃত্তিতে মুখরিত হয় পুরো ক্যাম্পাস। পান্তা-ইলিশের আসর: বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে পরিবেশন করা হয় পান্তা-ইলিশ ও নানা পদের ভর্তা। প্রমুখের বাণী: বহুত্ববাদ ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন অনুষ্ঠানে গুরুকুল লার্নিং নেটওয়ার্কের প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর তাঁর বিশেষ বাণীতে নববর্ষের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন: “পহেলা বৈশাখ কেবল একটি উৎসব নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয় ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার নবায়ন। গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ বিনির্মাণে বিশ্বাসী। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিতে বিশ্বমানের পেশাজীবী হওয়ার পাশাপাশি নিজের শেকড় ও সংস্কৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করুক। প্রতি বছর কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দিই যে—আমাদের বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তি।” ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা উল্লেখ্য যে, গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে আসছে। এটি এখন এই নেটওয়ার্কের বার্ষিক ক্যালেন্ডারের অন্যতম অবিচ্ছেদ্য ও বিশেষ গুরুত্বের অংশ। মেডিকেল (ম্যাটস ও নার্সিং) এবং ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনের ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই মিলনমেলা প্রমাণ করে যে, এটি কেবল একটি লার্নিং নেটওয়ার্ক নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্রও বটে। সমাপনী ও আগামীর প্রত্যাশা সাংস্কৃতিক কমিটির তদারকিতে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি ঘটে। অংশগ্রহণকারী ৩ শতাধিক প্রাণের এই স্পন্দন জানান দিচ্ছিল যে, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্কের কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের জন্য বয়ে আনবে নতুন সম্ভাবনা, দক্ষতা ও অর্জনের নতুন বার্তা।
জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০১৮ পেল গুরুকুল

তারুণ্যের আলোয় ঝলসে উঠল জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের মঞ্চ। সারাদেশের প্রায় আড়াই হাজার সংগঠনের মধ্য থেকে বাছাইকৃত ৩০টি শ্রেষ্ঠ সংগঠনকে সম্মান জানানো হয় এ আয়োজনে। সাভারের শেখ হাসিনা যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিজয়ী সংগঠনগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান গুরুকুল। দক্ষতা উন্নয়নে (স্কিল ডেভেলপমেন্ট) বিশেষ অবদানের জন্য গুরুকুলকে এ বছর নির্বাচিত করা হয়। গুরুকুলের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানের কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের উপাধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল মাসুম। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন গুরুকুলের শিক্ষক জান্নাত তাসনিম শোভা। গুরুকুলের প্রতিষ্ঠাতা সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর দীর্ঘদিন ধরে তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিকাশে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা, প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। ২০১৪ সালের নভেম্বরে ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন’ (সিআরআই)-এর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ইয়াং বাংলা প্ল্যাটফর্ম থেকেই জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড প্রদান শুরু হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তরুণদের অসাধারণ অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার ধারাবাহিকতায় এ পুরস্কার তৃতীয়বারের মতো দেওয়া হলো। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক সাব্বির বিন শামসসহ বিশিষ্টজনেরা। দিনব্যাপী আয়োজনে অংশ নেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত তরুণ সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এদিকে, গুরুকুল জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির আনন্দে তাদের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে দিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে বিজয় উদযাপন করে। এ অর্জনকে তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছে গুরুকুল পরিবার, যারা দক্ষ ও সচেতন নাগরিক গড়ে তুলে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে অঙ্গীকারবদ্ধ।
বঙ্গবন্ধুর ৯৯ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন
গুরুকুলে বঙ্গবন্ধুর ৯৯ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপিত হয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি,বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্ম বার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালিত হল তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুকের প্রতিষ্ঠান গুরুকুলে। জাতির পিতার কর্ম এবং জীবনী নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান, দোয়া মাহফিল এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী ও শিশুদিবসের অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া শহর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এড. গোলাম মওলা এবং কুষ্টিয়া আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি আলম আরা জুঁই। গুরুকুলের সহকারী পরিচালক রাকিবুজ্জামান তানিমের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন গুরুকুলের অধ্যক্ষ, সকল ট্রেড প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ শত শত শিক্ষার্থী। আব্দুল্লাহ আল মাসুমের সঞ্চালনায় আমন্ত্রিত অতিথি আওয়ামিলীগ নেতা এড. গোলাম মওলা তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু এক বিশাল ব্যক্তিত্ব যার কথা ও অবদান আমরা কোনো দিন ভুলতে পারবো না, তিনি প্রবাসে সবাইকে দেশকে ভালোবাসতে ও বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত সোনার বাংলা গড়ার জন্য সবাইকে এক সাথে কাজ করতে আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন ও স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ে বক্তব্য রাখেন গুরুকুলের সহকারী পরিচালক জনাব রাকিবুজ্জামান তানিম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের সকলের, যার নেতৃত্বে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি তাকে নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকতে পারে না৷ তিনি হচ্ছেন সকলের উর্ধে মহান নেতা। জাতির জনক দীর্ঘকাল ৪৬৬২ দিন কারাবরন ও নির্যাতন সহ্য করে আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন, সেই মহান নেতাকে হারিয়ে জাতির যে ক্ষতি হয়েছে তা কখনো পূরণ হবার নয়। বাঙালির প্রাণপুরুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি থেকে তিনি বিভিন্ন দিক তুলে ধরে আলোচনা করেন এবং উপস্থিত সকলকেই একবার হলেও বইটি পড়ার জন্য আহ্বান জানান৷