মওলানা আবুল কালাম আজাদ-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা । ১১ নভেম্বর

মওলানা আবুল কালাম আজাদ-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। মওলানা আবুল কালাম আজাদ-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ১১ নভেম্বর। আজ আমরা এমন এক ক্ষণজন্মা মহাপুরুষের জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি একাধারে প্রখর ধীসম্পন্ন রাজনীতিবিদ, অনন্য সুবক্তা, দূরদর্শী শিক্ষাবিদ এবং সাংবাদিক। তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব—মওলানা আবুল কালাম আজাদ। উপস্থিত সুধী, মওলানা আবুল কালাম আজাদ ১৮৮৮ সালের ১১ নভেম্বর সৌদি আরবের মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল মুহিউদ্দিন আহমেদ, তবে তিনি ‘আবুল কালাম’ নামেই বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান এবং তাঁর কলম থেকে নির্গত তেজস্বী লেখার কারণে তিনি ‘আজাদ’ ছদ্মনাম গ্রহণ করেন। খুব অল্প বয়সেই তিনি বিভিন্ন ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেন এবং তাঁর সম্পাদিত ‘আল হিলাল’ পত্রিকার মাধ্যমে ব্রিটিশবিরোধী জনমত গঠনে অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখেন। মওলানা আজাদ ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রবল প্রবক্তা ছিলেন এবং দেশভাগের ঘোর বিরোধী ছিলেন। ১৯২৩ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি নির্বাচিত হন। মহাত্মা গান্ধী তাঁকে অভিহিত করেছিলেন ‘প্লাটোর সমান মেধার অধিকারী’ (A man of the calibre of Plato) হিসেবে। প্রিয় সুধী, স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে মওলানা আজাদের অবদান অনস্বীকার্য। আজকের আধুনিক ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি তাঁরই হাতে গড়া। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির মুক্তি সম্ভব নয়। তাঁর নেতৃত্বেই ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’ (IIT) এবং ‘ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন’ (UGC) এর মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে ওঠে। শিক্ষার প্রসারে তাঁর এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁর জন্মদিনটিকে ভারতে ‘জাতীয় শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৯২ সালে তাঁকে মরণোত্তর ‘ভারতরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই মহান জ্ঞানতাপসের নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর ত্যাগ ও শিক্ষার দর্শন সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন মওলানা আজাদের মতো জ্ঞানের সন্ধানে ব্রতী হয়ে একটি আলোকিত ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ে তুলতে পারি। মওলানা আবুল কালাম আজাদ তাঁর কর্ম ও প্রজ্ঞার মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
কবি জয় গোস্বামী-এর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা । ১০ নভেম্বর

কবি জয় গোস্বামী-এর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। কবি জয় গোস্বামী-এর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ১০ নভেম্বর। আজ আমরা এমন এক কবির জন্মদিন উদযাপন করছি, যিনি গত কয়েক দশকে বাংলা কবিতার শরীরে এক অলৌকিক মায়া আর অসাধারণ গদ্যছন্দের কারুকাজ বুনে দিয়েছেন। যিনি ‘পাগলী তোমার সঙ্গে’ কিংবা ‘উন্মাদিনী’র কবি—আমাদের প্রিয় জয় গোস্বামী। উপস্থিত সুধী, জয় গোস্বামী ১৯৫৪ সালের ১০ নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর শৈশব ও কৈশোরের বড় একটি সময় কেটেছে নদীয়া জেলার রানাঘাটে। তাঁর বাবা মধুসূদন গোস্বামী ছিলেন একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী। খুব অল্প বয়স থেকেই কবি এক বিচিত্র জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন, আর সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর কবিতাকে করেছে ঋদ্ধ ও সংবেদনশীল। সত্তরের দশকে যখন তিনি লিখতে শুরু করেন, তখন থেকেই তাঁর কলম প্রচলিত ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল। তাঁর কবিতার চিত্রকল্প ও শব্দবিন্যাস পাঠককে এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে নিয়ে যায়। ১৯৯৭ সালে তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘যত্রতত্র’ এবং পরবর্তীতে ২০০০ সালে ‘পাগলী তোমার সঙ্গে’ কাব্যের জন্য তিনি অর্জন করেন মর্যাদাপূর্ণ ‘সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার’। এছাড়া তিনি দুইবার ‘আনন্দ পুরস্কার’ সহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তাঁর কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ ও উপন্যাসসমূহ বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ: ‘ক্রিসমাস ও শীতের সনেটগুচ্ছ’ ‘হাঁসখালি থেকে আসা একদল পরীরা’ ‘যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল’ ‘সেই সব শিয়ালরা’ (উপন্যাস) প্রিয় সুধী, জয় গোস্বামী এমন একজন কবি, যিনি আমাদের চারপাশের অতি সাধারণ মুহূর্তগুলোকে অলৌকিক করে তোলেন। তাঁর কবিতায় প্রেম যেমন তীব্র, তেমনি সমাজের অসংগতি আর মানুষের একাকিত্বের হাহাকারও সমানভাবে মূর্ত। তিনি কেবল নিভৃতচারী কবি নন, বরং তাঁর কলম সবসময় মানবতার পক্ষে সোচ্চার। বাংলা কবিতার পাঠকদের কাছে তিনি এক ধ্রুবতারার মতো, যাঁর আলো নতুন প্রজন্মের কবিদের পথ দেখায়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে এই মহৎ কবির নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন কবির সেই সংবেদনশীল দৃষ্টি দিয়ে জীবন ও জগৎকে দেখতে শিখি এবং নিজেদের সাংস্কৃতিক চেতনাকে আরও উন্নত করি। কবি জয় গোস্বামী তাঁর অমর কাব্যকীর্তির মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যের ভুবনে চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
সুকুমার রায়-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা । ৩০ অক্টোবর
সুকুমার রায়-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। সুকুমার রায়-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ৩০ অক্টোবর। আজ আমরা এমন এক কালজয়ী স্রষ্টার জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি বাংলা সাহিত্যে ‘ননসেন্স রাইম’ বা আবোল-তাবোল ধারার প্রবর্তক। তিনি আমাদের শৈশবকে রাঙিয়ে দেওয়া সেই প্রিয় মানুষ, যার কল্পনার জগতে হুকোমুখো হ্যাংলা থেকে শুরু করে কাঠবুড়োরা ভিড় করে। তিনি আর কেউ নন—সুকুমার রায়। উপস্থিত সুধী, সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক ও মুদ্রণ বিশেষজ্ঞ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী এবং মা বিধুমুখী দেবী। উল্লেখ্য যে, বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় তাঁরই সুযোগ্য পুত্র। সুকুমার রায় কেবল একজন লেখক বা কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন উচ্চশিক্ষিত বিজ্ঞানী ও আলোকচিত্র শিল্পী। তিনি ইংল্যান্ড থেকে প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র হিসেবে রসায়ন ও পদার্থবিদ্যায় স্নাতক করার পর মুদ্রণ বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। সুকুমার রায়ের সাহিত্য মানেই কেবল নিছক হাসি নয়, বরং গভীর হিউমার আর যুক্তির এক অপূর্ব মেলবন্ধন। তাঁর ‘আবোল-তাবোল’, ‘হ-য-ব-র-ল’, ‘পাগলা দাশু’ এবং ‘খাই-খাই’ বাংলা সাহিত্যের এমন অমূল্য সম্পদ যা ছোট-বড় সকল পাঠককে সমানভাবে আনন্দ দেয়। তাঁর সৃষ্টিতে আমরা পাই এক আশ্চর্য অদ্ভুত দুনিয়া, যা আমাদের প্রথাগত চিন্তার বাইরে নিয়ে যায়। তাঁর কালজয়ী কিছু পঙক্তি আজও আমাদের মুখে মুখে ঘোরে: “হাঁস ছিল সজারু, (ব্যাকরণ মানি না) হয়ে গেল হাঁসজারু কেমনে তা জানি না।” “বদ্যিনাথ তলায় গো, আছে এক তিল্লাই রে…” মজার ব্যাপার হলো, তাঁর ব্যঙ্গাত্মক লেখাগুলোর গভীরে সমাজ ও মানুষের আচরণের সূক্ষ্ম সমালোচনা লুকিয়ে থাকতো। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে তিনি মারা গেলেও তাঁর রেখে যাওয়া কাজ আজও বাংলা সাহিত্যের আকাশে ধ্রুবতারার মতো উজ্জ্বল। প্রিয় সুধী, সুকুমার রায় আমাদের শিখিয়েছেন কল্পনার ডানা মেলে দিতে এবং গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে চিন্তা করতে। তাঁর জীবন ও সাহিত্য আমাদের সৃজনশীল হতে অনুপ্রাণিত করে। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই অনন্য স্রষ্টার নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন সুকুমার রায়ের সেই অনাবিল আনন্দ আর সৃজনশীলতাকে আমাদের জীবনে ধারণ করতে পারি। সুকুমার রায় তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রতিটি বাঙালির শৈশবে ও হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
পাবলো পিকাসো-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা । ২৫ অক্টোবর

পাবলো পিকাসো-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। পাবলো পিকাসো-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ২৫ অক্টোবর। আজ আমরা বিংশ শতাব্দীর শিল্পকলা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, আধুনিক চিত্রকলার জাদুকর পাবলো পিকাসো-এর জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি। তিনি এমন একজন শিল্পী ছিলেন যিনি ক্যানভাসে সুন্দরের প্রচলিত সংজ্ঞাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়ে নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি উপহার দিয়েছিলেন। উপস্থিত সুধী, পাবলো পিকাসো ১৮৮১ সালের ২৫ অক্টোবর স্পেনের মালাগা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম ছিল অবিশ্বাস্য রকমের দীর্ঘ, তবে বিশ্ব তাঁকে এক নামেই চেনে—পিকাসো। তাঁর বাবা হোসে রুইজ ব্লাস্কো নিজেও একজন চিত্রশিল্পী ও শিক্ষক ছিলেন। শৈশব থেকেই পিকাসোর প্রতিভা ছিল বিস্ময়কর। বলা হয়ে থাকে, কথা বলা শেখার আগেই তিনি ছবি আঁকতে শিখেছিলেন। পিকাসোর শিল্পজীবন ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। তিনি কেবল চিত্রশিল্পী ছিলেন না; তিনি একাধারে ভাস্কর, ছাপচিত্র শিল্পী, মৃৎশিল্পী এবং মঞ্চ নকশাকার। শিল্পকলার ইতিহাসে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত তাঁর উদ্ভাবিত ‘কিউবিজম’ বা ঘনকবাদ আন্দোলনের জন্য। তাঁর আঁকা ছবিগুলোকে বিভিন্ন কালখণ্ডে ভাগ করা হয়, যার মধ্যে ‘ব্লু পিরিয়ড’ (Blue Period) এবং ‘রোজ পিরিয়ড’ (Rose Period) অত্যন্ত বিখ্যাত। তাঁর কালজয়ী সৃষ্টির মধ্যে ১৯৩৭ সালে আঁকা ‘গুয়ের্নিকা’ (Guernica) চিত্রকর্মটি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং যুদ্ধের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী শিল্প-প্রতিবাদ হিসেবে স্বীকৃত। প্রিয় সুধী, পিকাসো তাঁর দীর্ঘ ৯১ বছরের জীবনে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, “প্রতিটি শিশুই একজন শিল্পী, সমস্যা হলো বড় হওয়ার পরও কীভাবে শিল্পী থাকা যায় তা নিয়ে।” তাঁর কাজ আমাদের শেখায় প্রথাগত নিয়ম ভেঙে কীভাবে সৃজনশীলতার নতুন দুয়ার উন্মোচন করা যায়। তিনি ছিলেন আধুনিকতার প্রতীক, যিনি শিল্পের মাধ্যমে সমসাময়িক রাজনীতি ও মানবিক সংকটকে তুলে ধরেছেন। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে এই মহান শিল্পীকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন পিকাসোর অদম্য সৃজনশীলতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবনকে বৈচিত্র্যময় ও অর্থবহ করে তুলতে পারি। পাবলো পিকাসো তাঁর অমর তুলির টানে বিশ্বের শিল্পমনা মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ৭ সেপ্টেম্বর। আজ আমরা এমন এক কালজয়ী কথাশিল্পীর জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি গত শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যকে এক নতুন আধুনিকতা ও প্রাণপ্রাচুর্য দান করেছিলেন। তিনি আমাদের প্রিয় ‘নীললোহিত’, আমাদের প্রিয় ‘সনাতন পাঠক’—অমর সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। উপস্থিত সুধী, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৩৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ফরিদপুর জেলার (বর্তমান বাংলাদেশ) মাদারীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। দেশভাগের পর তাঁদের পরিবার কলকাতায় চলে গেলেও তাঁর লেখায় ও হৃদয়ে বাংলাদেশ সবসময় এক বিশেষ স্থান জুড়ে ছিল। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার ও সাংবাদিক। বাংলা সাহিত্যে ১৯৫০-এর দশকে যে নতুন কাব্যধারার সূচনা হয়েছিল, তিনি ছিলেন তার অন্যতম পথিকৃৎ এবং বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ‘কৃত্তিবাস’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্মের ব্যপ্তি বিশাল। তাঁর ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘সেই সময়’ ও ‘প্রথম আলো’ বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একা এবং কয়েকজন’ বাংলা কবিতার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। তিনি কেবল বড়দের জন্যই লেখেননি; তাঁর সৃষ্ট কিশোর গোয়েন্দা চরিত্র ‘কাকাবাবু’ আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে রোমাঞ্চের স্বাদ দিচ্ছে। ১৯৮৫ সালে তিনি ‘সেই সময়’ উপন্যাসের জন্য ভারতের জাতীয় ‘সাহিত্য অকাদেমি’ পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর জনপ্রিয় সৃষ্টির কিছু পঙক্তি ও চরিত্র আজও আমাদের মুখে মুখে ঘোরে: “কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটল, কেউ কথা রাখেনি” “নীরা, এই জানলার কাছে এসে দাঁড়াও” কাকাবাবু ও সন্তুর সেই রোমাঞ্চকর অভিযানগুলো। প্রিয় সুধী, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন আপাদমস্তক একজন সংস্কৃতিবান ও আধুনিক মানুষ। তিনি দুই বাংলার সাহিত্যিক ও পাঠকদের মাঝে এক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর লেখনীতে যেমন ফুটে উঠেছে নাগরিক জীবনের প্রেম ও একাকিত্ব, তেমনি উঠে এসেছে ইতিহাসের বিশাল ক্যানভাস। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে ইতিহাসের ধূসর পাতা থেকে প্রাণবন্ত মানুষগুলোকে খুঁজে আনতে হয়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই কথাশিল্পীর নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন তাঁর নির্ভীক ও আধুনিক সাহিত্যবোধ থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবনকে জ্ঞান ও মননশীলতায় আলোকিত করতে পারি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর অবিনশ্বর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস (বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী) উপলক্ষে বক্তৃতা

জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা শোকের আবহে বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। জাতীয় শোক দিবস (বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী) উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আজকের এই শোকাতুর দিবসের সশ্রদ্ধ অভিবাদন। আজ ১৫ আগস্ট। আমাদের জাতীয় শোক দিবস। আজ থেকে ৫১ বছর আগে ১৯৭৫ সালের এই অভিশপ্ত ভোরে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আজ আমরা গভীর শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সেই মহান নেতাকে, যাঁর আঙুলের ইশারায় একটি পরাধীন জাতি পেয়েছিল মুক্তির স্বাদ। উপস্থিত সুধী, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই কালরাত্রিতে কেবল একজন ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়নি, বরং হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনা ও স্বপ্নকে। ঘাতকদের বুলেটে সেদিন শাহাদাত বরণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তাঁর তিন পুত্র—শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসেরসহ পরিবারের অনেক সদস্য। এমনকি ঘাতকরা রেহাই দেয়নি বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদকেও। দেশের বাইরে থাকায় সেদিন প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা—আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধু ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর সারাটি জীবন কেটেছে বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৬-র ছয় দফা, ৬৯-র গণঅভ্যুত্থান এবং ৭১-র মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ধাপে তিনি ছিলেন আমাদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা। তাঁর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। তিনি কেবল বাংলাদেশের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশ্ব মানবতার কণ্ঠস্বর। কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ঠিকই বলেছিলেন, “আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু আমি শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতায় তিনিই হিমালয়।” প্রিয় সুধী, বঙ্গবন্ধু আমাদের একটি মানচিত্র দিয়েছেন, একটি পতাকা দিয়েছেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল ‘সোনার বাংলা’ গড়ার—যেখানে কোনো ক্ষুধা থাকবে না, দারিদ্র্য থাকবে না, থাকবে না কোনো বৈষম্য। ঘাতকরা তাঁকে সশরীরে আমাদের মাঝ থেকে ছিনিয়ে নিলেও তাঁর আদর্শ ও চেতনাকে মুছে ফেলতে পারেনি। আজ বাংলাদেশ যখন বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে, তখনই তাঁর সেই স্বপ্নগুলো পূর্ণতা পাচ্ছে। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই শোকাতুর আয়োজনে বারবার আমাদের জাতির পিতার নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস জানি এবং তাঁর ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন আমাদের কর্মের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সেই কাঙ্ক্ষিত ‘সোনার বাংলা’ গড়ার কারিগর হতে পারি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর কর্ম ও আদর্শের মধ্য দিয়ে বাঙালির হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
কবি শহীদ কাদরী-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা
কবি শহীদ কাদরী-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। কবি শহীদ কাদরী-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ১৪ই আগস্ট। আজ আমরা এমন এক কবির জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি দেশবিভাগোত্তর বাংলা কবিতায় নাগরিক জীবন, আধুনিকতা এবং নিঃসঙ্গতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি আমাদের আধুনিক কবিতার প্রবাদপ্রতিম পুরুষ—কবি শহীদ কাদরী। উপস্থিত সুধী, শহীদ কাদরী ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট কলকাতার পার্ক সার্কাসে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর তিনি সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন। তিনি ছিলেন পঞ্চাশের দশকের অন্যতম প্রভাবশালী কবি। যদিও তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা মাত্র চারটি, কিন্তু বাংলা কবিতায় তাঁর গভীরতা ও প্রভাব অপরিসীম। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো— ‘উত্তরাধিকার’, ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’, ‘কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই’ এবং ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’। শহীদ কাদরী ছিলেন মূলত নগর-মনস্কতার কবি। ঢাকা শহরের অলিগলি, নাগরিক যন্ত্রণা আর আধুনিক মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধ তাঁর কলমে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। ১৯৭৩ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ২০১১ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। দীর্ঘ প্রবাস জীবনেও তাঁর হৃদয়ে বাংলাদেশ এবং বাংলা ভাষা সর্বদা প্রদীপ্ত ছিল। প্রিয় সুধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ছিল অটুট। তাঁর ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’ কবিতাটি আমাদের জাতীয় চেতনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। যেখানে তিনি যুদ্ধ ও সংঘাতের বিপরীতে প্রেমের জয়গান গেয়েছেন: “ভয় নেই / আমি এমন ব্যবস্থা করব / যাতে সেনাবাহিনীর বদলে / চারা গাছগুলো অভিবাদন করবে তোমাকে” তাঁর কবিতার সেই কালজয়ী পঙক্তিগুলো আজও প্রতিটি তরুণের মনে আশার আলো জ্বালায়। তিনি ছিলেন একজন রুচিশীল ও প্রগতিশীল মানুষ, যাঁর জীবনবোধ আমাদের শেখায় কীভাবে প্রতিকূলতার মাঝেও শিল্পের শুদ্ধতা বজায় রাখতে হয়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার কবির নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন এই মহান শিল্পীর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের কৃষ্টি ও মাতৃভাষাকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় লালন করতে পারি। কবি শহীদ কাদরী তাঁর অবিনশ্বর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রতিটি বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
নেলসন ম্যান্ডেলা-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা

নেলসন ম্যান্ডেলা-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। নেলসন ম্যান্ডেলা-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ আমরা এমন এক ব্যক্তিত্বের জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি অদম্য সাহস, ক্ষমা এবং মানবিকতার এক জীবন্ত কিংবদন্তি। যিনি শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য আর বর্ণবাদের অন্ধকার থেকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে মুক্ত করে বিশ্বকে দেখিয়েছেন সহনশীলতার নতুন পথ। তিনি আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় নেতা—নেলসন ম্যান্ডেলা। উপস্থিত সুধী, নেলসন ম্যান্ডেলা ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার এমভেজো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব নাম ছিল রোলিহ্লাহ্লা ম্যান্ডেলা। কর্মবৈচিত্র্যের দিক দিয়ে তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের এক অকুতোভয় সব্যসাচী প্রতিভা—যিনি একাধারে আইনজীবী, রাজনৈতিক নেতা এবং শান্তিকামী বিশ্বনাগরিক। আজ তাঁর জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায় স্মরণ করা প্রয়োজন। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কারণে তাঁকে দীর্ঘ ২৭ বছর কারাবরণ করতে হয়েছিল। কিন্তু জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ তাঁর আদর্শকে আরও উজ্জ্বল করেছিল। ১৯৯০ সালে কারামুক্ত হওয়ার পর তিনি যখন ক্ষমতায় আসীন হলেন, তখন তিনি প্রতিহিংসার পথ বেছে নেননি। বরং ‘সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন’ (Truth and Reconciliation Commission) গঠনের মাধ্যমে শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের এক সুতোয় গেঁথে গড়ে তুলেছিলেন ‘রেইনবো নেশন’ বা রংধনু জাতি। ১৯৯৩ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন এবং ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। প্রিয় সুধী, নেলসন ম্যান্ডেলার সাথে বাংলাদেশের এক বিশেষ আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আমাদের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছিলেন। সেই সময় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা হলো বিশ্বকে পরিবর্তন করার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। ম্যান্ডেলার অনেক কালজয়ী উক্তি আজও সারা বিশ্বে অনুপ্রেরণা জোগায়: “পৃথিবীর কোনো মানুষই অন্য মানুষকে তার গায়ের রঙের কারণে ঘৃণা করে জন্মায় না। মানুষকে ঘৃণা করা শিখতে হয়, আর যদি তারা ঘৃণা করা শিখতে পারে, তবে তাদের ভালোবাসাও শেখানো সম্ভব।” তিনি কেবল নিজের দেশের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন পৃথিবীর প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠস্বর। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, বিজয় মানে কেবল জয়লাভ নয়, বরং প্রতিটি পতনের পর আবার উঠে দাঁড়ানো। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই মহান নেতার নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর আদর্শ সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন এই মহাপ্রাণের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে পারি। নেলসন ম্যান্ডেলা তাঁর কর্ম ও আদর্শের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
১১ই জুলাই: সেক্টর কমান্ডার্স ডে উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা

১১ই জুলাই ‘সেক্টর কমান্ডার্স ডে’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। ১১ই জুলাই: সেক্টর কমান্ডার্স ডে উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই ঐতিহাসিক ১১ই জুলাই ‘সেক্টর কমান্ডার্স ডে’-র বিনম্র শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা। আজ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে শুরু হয়েছিল এক মহাকাব্যিক সামরিক মহড়া, যা ‘সেক্টর কমান্ডার্স কনফারেন্স ১৯৭১’ নামে পরিচিত। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের (প্রবাসী সরকার) প্রধান কার্যালয় বা ওয়ার টাইম হেডকোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহৃত হতো ছিল সেই ৮ থিয়েটার রোড। ১১ই জুলাই থেকে ১৭ই জুলাই পর্যন্ত চলা সেই ঐতিহাসিক সম্মেলনের শুরুর দিনটিকে স্মরণ করে গুরুকুল আজ পালন করছে ‘সেক্টর কমান্ডার্স ডে’। উপস্থিত সুধী, ১৯৭১ সালের মার্চের পর থেকে সারা দেশে যে বিচ্ছিন্ন ও বিশৃঙ্খল প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, তাকে একটি সুশৃঙ্খল যুদ্ধের রূপ দিতে এই সম্মেলনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এই কনফারেন্সের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সেক্টরের জন্য একজন করে যোগ্য কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর নেতৃত্বে এই দিন থেকেই মুক্তিবাহিনীর ‘চেইন অব কমান্ড’ বা প্রশাসনিক কাঠামো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুজিবনগর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কর্নেল এম. এ. জি. ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি (C-in-C) হিসেবে পুনঃনিয়োগ দেয়। এই দিনেই লেঃ কর্নেল আবদুর রবকে সেনাবাহিনী প্রধান এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকারকে উপ-প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই কনফারেন্সটি ১১ জুলাই শুরু হয়ে ১৭ জুলাই পর্যন্ত চলেছিল, যেখানে কমান্ডারদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া এবং যুদ্ধ কৌশল চূড়ান্ত করা হয়। আজ এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি সেই বীর সেনানী সেক্টর কমান্ডারদের: ১ নম্বর সেক্টর: মেজর জিয়াউর রহমান (পরবর্তীতে মেজর রফিকুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন)। ২ নম্বর সেক্টর: মেজর খালেদ মোশাররফ (পরবর্তীতে মেজর এ.টি.এম হায়দার দায়িত্ব পালন করেন)। ৩ নম্বর সেক্টর: মেজর কে.এম. শফিউল্লাহ (পরবর্তীতে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান দায়িত্ব পালন করেন)। ৪ নম্বর সেক্টর: মেজর সি.আর. দত্ত। ৫ নম্বর সেক্টর: মেজর মীর শওকত আলী। ৬ নম্বর সেক্টর: উইং কমান্ডার এম. খাদেমুল বাশার। ৭ নম্বর সেক্টর: মেজর নাজমুল হক (পরবর্তীতে মেজর কাজী নুরুজ্জামান দায়িত্ব পালন করেন)। ৮ নম্বর সেক্টর: মেজর আবু ওসমান চৌধুরী (পরবর্তীতে মেজর এম.এ. মঞ্জুর দায়িত্ব পালন করেন)। ৯ নম্বর সেক্টর: মেজর এম.এ. জলিল (পরবর্তীতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন মেজর এম.এ. মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন)। ১০ নম্বর সেক্টর: এটি ছিল নৌ-সেক্টর, যা সরাসরি প্রধান সেনাপতির অধীনে ছিল। ১১ নম্বর সেক্টর: মেজর আবু তাহের (পরবর্তীতে মেজর এম. হামিদুল্লাহ খান দায়িত্ব পালন করেন)। সেক্টর কমান্ডারদের এই সম্মেলনেই যুদ্ধের কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সাধারণ মানুষ ও তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত গেরিলা বাহিনী এবং সম্মুখ সমরের যোদ্ধাদের মাঝে সমন্বয় সাধনের জন্য এটি ছিল এক মাইলফলক। বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধ থেকে একটি সুসংগঠিত সামরিক বাহিনীতে রূপান্তরিত হওয়ার সেই ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনালগ্ন ছিল আজকের এই ১১ই জুলাই। আমাদের বীর সেক্টর কমান্ডারদের সেই দূরদর্শী সিদ্ধান্তই বাংলাদেশের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল। প্রিয় সুধী, একটি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের জন্য কেবল আবেগ নয়, প্রয়োজন হয় সুশৃঙ্খল নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক শক্তি। আমাদের মুক্তিবাহিনীর এই সাংগঠনিক কাঠামো আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এই দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন— “১৯৭১ সালের সেক্টর কমান্ডারদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস কেবল একটি সামরিক পরিকল্পনা ছিল না, এটি ছিল বাঙালির লড়াকু সংস্কৃতির এক সুশৃঙ্খল বহিঃপ্রকাশ। একজন মানুষ যখন তাঁর দেশের ইতিহাসের এই বীরত্বগাথা ও রণকৌশলকে হৃদয়ে ধারণ করে নিজের জীবনকে সুশৃঙ্খল করে তোলে, তখনই সে প্রকৃত ও ওয়েল-ফর্মড মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। আমরা যদি আমাদের এই মুক্তি সংগ্রামের সাংগঠনিক ইতিহাসকে ভুলে যাই, তবে আমাদের জাতীয় পরিচয় অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাই আমরা মুক্তিবাহিনীর সেই চেইন অব কমান্ড এবং সেক্টর কমান্ডারদের ত্যাগের ইতিহাসকে প্রতিনিয়ত আমাদের জাতীয় জীবনে চর্চা করতে চাই।” সেই দর্শনে দীক্ষিত হয়েই আমরা আজ এই ‘সেক্টর কমান্ডার্স ডে’ পালন করছি। আমরা বিশ্বাস করি, সেক্টর কমান্ডারদের সেই সাহস ও শৃঙ্খলার শিক্ষা আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য দেশপ্রেমের এক অনন্য পাঠ হয়ে থাকবে। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে আমাদের সকল সেক্টর কমান্ডার এবং অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি এবং তাঁদের সুস্বাস্থ্য ও আত্মার শান্তি কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। সেই সাথে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ সম্ভ্রমহারা মা-বোনকে। গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি বাংলাদেশের জাতির পিতা ও মুক্তিযুদ্ধের সুপ্রিম কমান্ডার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদসহ মুক্তিযুদ্ধকালীন সকল নেতৃত্ব এবং জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করা সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। আজ আমরা অঙ্গীকার করি—আমরা যেন তাঁদের সেই ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এই স্বাধীন বাংলাদেশকে একটি সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। বাংলাদেশের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জয় হোক। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
কবি নির্মলেন্দু গুণ-এর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা, ২১ জুন

কবি নির্মলেন্দু গুণ-এর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। কবি নির্মলেন্দু গুণ-এর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ আমরা এমন এক কবির জন্মদিন উদযাপন করছি, যাঁর কবিতার শব্দে বারুদ আছে, আছে প্রেমের গভীর আকুতি এবং রাজনীতির অমোঘ সত্য। তিনি আমাদের আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অবিনাশী কণ্ঠস্বর, গণমানুষের কবি—নির্মলেন্দু গুণ। উপস্থিত সুধী, নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালের ২১ জুন নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম সুখেন্দুবিকাশ গুণ এবং মায়ের নাম বিনাপাণি গুণ। কর্মবৈচিত্র্যের দিক দিয়ে তিনি একাধারে কবি, সাংবাদিক এবং একজন দক্ষ চিত্রশিল্পী। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ প্রকাশিত হওয়ার পরেই তিনি বাংলা সাহিত্যে তাঁর শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেন। আজ একটি বিশেষ বিষয়ে আলোকপাত করা প্রয়োজন। নির্মলেন্দু গুণ সেই বিরল সাহসীদের একজন, যিনি ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক ঘটনার পর যখন সারা দেশে এক স্তব্ধতা নেমে এসেছিল, তখন বুক ফুলিয়ে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কবিতা লিখেছিলেন। তাঁর সেই কালজয়ী কবিতা ‘হুলিয়া’ বা ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’—বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তাঁর পঙক্তিগুলো আমাদের জাতীয় চেতনার অংশ হয়ে আছে। প্রিয় সুধী, কবির সৃষ্টিতে প্রেম ও রাজনীতি সমান্তরালভাবে চলে। তিনি কেবল রাজপথের কবি নন, তিনি হৃদয়ের গভীরতম অনুভূতিরও রূপকার। তাঁর লেখনীতে যেমন উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের বঞ্চনার কথা, তেমনি ফুটে উঠেছে রূপসী বাংলার নিসর্গ। তাঁর জনপ্রিয় কিছু পঙক্তি আজও আমাদের মুখে মুখে ফেরে: “স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো” “আমি যখন মেজাজ হারিয়ে ফেলি, তখন তুমি আকাশ হয়ে যাও” “হাত বাড়িয়ে দাও, আমি তোমার আঙুল ছুঁতে চাই” তিনি তাঁর অসামান্য সাহিত্যকর্মের জন্য ১৯৮২ সালে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ এবং ২০০১ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হন। ২০১৬ সালে তিনি লাভ করেন ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’। কবির জীবন আমাদের শিখিয়েছে আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে কীভাবে শিল্পের মাধ্যমে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই মহৎ কবির নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন এই অকুতোভয় কবির জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের ভাষা, দেশ এবং সংস্কৃতির প্রতি আজীবন অনুগত থাকতে পারি। কবি নির্মলেন্দু গুণ তাঁর কালজয়ী কবিতার মধ্য দিয়ে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা