সলিল চৌধুরীর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা

সলিল চৌধুরী-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। সলিল চৌধুরী-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ১৯ নভেম্বর। আজ আমরা এমন এক কালজয়ী প্রতিভা ও সুরস্রষ্টার জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি ভারতীয় সংগীতের ব্যাকরণ ও বিন্যাসকে এক বৈপ্লবিক আধুনিকতায় ঋদ্ধ করেছেন। তিনি আমাদের প্রিয় সলিলদা—বিখ্যাত সংগীত পরিচালক, সুরকার, গীতিকার এবং গল্পকার সলিল চৌধুরী। উপস্থিত সুধী, সলিল চৌধুরী ১৯২৫ সালের ১৯ নভেম্বর দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার গাজিপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব কেটেছে আসামের চা বাগানে, যেখানে বাবার সংগ্রহে থাকা পাশ্চাত্য উচ্চাঙ্গ সংগীত এবং চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনের সুর তাঁর সংগীত সত্তাকে সমৃদ্ধ করেছিল। জ্যাঠাতো ভাই নিখিল চৌধুরীর ঐক্যবাদন দল ‘মিলন পরিষদ’-এর মাধ্যমে সংগীতের জগতে তাঁর হাতেখড়ি। পরবর্তীতে কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজ থেকে স্নাতক করার সময় থেকেই তিনি রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে ওঠেন এবং ভারতীয় গণনাট্য সংঘ বা আইপিটিএ (IPTA)-এ যোগ দেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি ‘গাঁয়ের বধু’র মতো গান সুর করে বাংলা সংগীতে এক নতুন ধারার সূচনা করেছিলেন। তাঁর সৃজনশীলতায় বাংলা গান পেয়েছিল ‘রানার’, ‘বিচারপতি’ এবং ‘অবাক পৃথিবী’র মতো কালজয়ী সব গণসংগীত। সলিল চৌধুরী কেবল বাংলাতেই নয়, হিন্দি, মালয়ালম, তামিল, তেলুগু ও মারাঠীসহ বিভিন্ন ভাষায় ৭৫টিরও বেশি হিন্দি ও ৪০টির বেশি বাংলা চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেছেন। ১৯৫৩ সালে তাঁরই লেখা ছোটগল্প ‘রিকসাওয়ালা’ অবলম্বনে বিমল রায় নির্মাণ করেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘দো ভিঘা জামিন’, যা কান চলচ্চিত্র উৎসবে আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে তাঁর কর্মজীবনকে এক বিশ্বজনীন মাত্রা দান করে। প্রিয় সুধী, সলিল চৌধুরীর সংগীতে ভারতীয় উচ্চাঙ্গ সংগীত এবং পাশ্চাত্য উচ্চাঙ্গ সংগীতের এক অসামান্য মেলবন্ধন লক্ষ করা যায়। মোৎজার্টের সিম্ফোনি থেকে শুরু করে শপ্যাঁর কাজ—সবকিছুকেই তিনি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ভারতীয় গানের সাথে মিশিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি কেবল সুরকার ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ যন্ত্রীও; বাঁশি, পিয়ানো ও এসরাজ বাজানোয় তিনি ছিলেন পারদর্শী। ১৯৫৮ সালে ‘মধুমতি’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার সেরা সংগীত পরিচালকের পুরস্কার পান এবং ১৯৮৮ সালে লাভ করেন ‘সংগীত নাটক একাডেমী পুরস্কার’। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে সলিল চৌধুরীর নাম নিই, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন তাঁর নির্ভীক জীবনবোধ ও শিল্পের প্রতি নিরন্তর সাধনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আরও উন্নত করতে পারি। সলিল চৌধুরী তাঁর অবিনশ্বর সুর ও সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রতিটি সংগীতানুরাগী মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
নবান্ন ও হেমন্ত উৎসব উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা ( ১লা অগ্রহায়ণ বা নভেম্বরের ১৫/১৬ তারিখ)
নবান্ন ও হেমন্ত উৎসব উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। নবান্ন ও হেমন্ত উৎসব উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই হেমন্তের শিশিরভেজা প্রীতি ও নবান্নের শুভেচ্ছা। আজ আমরা সমবেত হয়েছি বাঙালির প্রাণের মেলা, ঋতুচক্রের এক অপূর্ব সন্ধিক্ষণ ‘হেমন্ত উৎসব’ ও ‘নবান্ন’ উদযাপন করতে। যখন কার্তিকের কুয়াশাভেজা ভোর পেরিয়ে ১লা অগ্রহায়ণ আমাদের দুয়ারে কড়া নাড়ে, তখন বাংলার দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ সোনালি রঙে সেজে ওঠে। আর সেই সাথে শুরু হয় বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য—নবান্ন। উপস্থিত সুধী, হেমন্ত ঋতুটি হলো শান্তি ও সমৃদ্ধির ঋতু। বর্ষার উন্মাদনা আর শীতের জড়তার মাঝে হেমন্ত আসে এক শান্ত স্নিগ্ধতা নিয়ে। এই ঋতুর সবচেয়ে বড় অলঙ্কার হলো নবান্ন। ‘নবান্ন’ শব্দের অর্থ ‘নতুন অন্ন’। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালি কৃষক যখন মাঠের আমন ধান কেটে প্রথম ঘরে তোলে, তখন সেই চাল দিয়ে তৈরি করা হয় প্রথম আহার। বাড়ির আঙিনায় ঢেঁকির শব্দে মুখর হয়ে ওঠে পাড়া-মহল্লা। ঘরে ঘরে নতুন চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি হয় হরেক রকমের পিঠা, পায়েস, ক্ষীর আর মুড়ি-মুড়কি। নবান্ন কেবল একটি ভোজন উৎসব নয়; এটি আমাদের যূথবদ্ধ জীবনের প্রতীক। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে গ্রামে গ্রামে মেলা বসে, নাগরদোলা ঘোরে, জারি-সারি ও বাউল গানের আসর বসে। উঠোনে আলপনা আঁকা হয়, আর নতুন ধানের সুবাসে আত্মীয়-স্বজনের আগমনে মুখর হয়ে ওঠে প্রতিটি গৃহকোণ। রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ভাষায়: “আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে— এই বাংলায় / হয়তো মানুষ নয়— হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে; / হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে।” প্রিয় সুধী, আজকের এই যান্ত্রিক ও নাগরিক জীবনে আমরা যখন নিজেদের শেকড় হারিয়ে ফেলছি, তখন এই উৎসবগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা কে। আমাদের সংস্কৃতিই আমাদের মেরুদণ্ড। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর প্রায়শই একটি অত্যন্ত গভীর কথা বলেন— “প্রতিজন মানুষের নৃতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় এমন এক ধরণের পরিচয় যা বদলানো যায় না। একজন মানুষ তার নিজের সেই সংস্কৃতি যখন চর্চা করে এবং তা উন্নত করতে কাজ করে, তখন সেই সংস্কৃতি তাকে পরিপূর্ণ এবং ‘ওয়েল ফর্মড’ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে। আপনি নিজের সংস্কৃতির সাথে যুক্ত থাকলে বিশ্বের অন্য জাতিগোষ্ঠীর কাছে সম্মানিত হবেন। কিন্তু নিজের সংস্কৃতি বাদ দিয়ে অন্য সংস্কৃতির চর্চা করলে তা কখনোই আপনাকে পূর্ণ মানুষ হতে দেবে না। তাই আমরা বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতিগুলোর চর্চা ও প্রতিনিয়ত উন্নয়ন করতে কাজ করতে চাই।” সেই দর্শনে দীক্ষিত হয়েই আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে আমাদের কৃষ্টিকে নতুনভাবে চিনে নিতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের এই নবান্ন, আমাদের এই পিঠা-পুলির উৎসব—এসবই আমাদের জাতিগত অস্তিত্ব। আমরা যখন বিশ্বনাগরিক হওয়ার স্বপ্ন দেখি, তখন আমাদের এই অনন্য বাঙালি সংস্কৃতিই হবে বিশ্বের দরবারে আমাদের শ্রেষ্ঠ পরিচয়। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই নবান্ন ও হেমন্ত উৎসবে আমাদের কৃষিজীবী মানুষের সমৃদ্ধি কামনা করি এবং সমৃদ্ধ আগামীর প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন আধুনিকতার মোহে আমাদের শেকড় আর আমাদের ঐতিহ্যের এই সোনার বাংলাকে কখনো ভুলে না যাই। হেমন্তের এই শান্ত শ্রী আর নবান্নের এই অকৃত্রিম আনন্দ প্রতিটি মানুষের মনে স্থায়ী হয়ে থাকুক। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
মওলানা আবুল কালাম আজাদ-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা । ১১ নভেম্বর

মওলানা আবুল কালাম আজাদ-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। মওলানা আবুল কালাম আজাদ-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ১১ নভেম্বর। আজ আমরা এমন এক ক্ষণজন্মা মহাপুরুষের জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি একাধারে প্রখর ধীসম্পন্ন রাজনীতিবিদ, অনন্য সুবক্তা, দূরদর্শী শিক্ষাবিদ এবং সাংবাদিক। তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব—মওলানা আবুল কালাম আজাদ। উপস্থিত সুধী, মওলানা আবুল কালাম আজাদ ১৮৮৮ সালের ১১ নভেম্বর সৌদি আরবের মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল মুহিউদ্দিন আহমেদ, তবে তিনি ‘আবুল কালাম’ নামেই বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান এবং তাঁর কলম থেকে নির্গত তেজস্বী লেখার কারণে তিনি ‘আজাদ’ ছদ্মনাম গ্রহণ করেন। খুব অল্প বয়সেই তিনি বিভিন্ন ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেন এবং তাঁর সম্পাদিত ‘আল হিলাল’ পত্রিকার মাধ্যমে ব্রিটিশবিরোধী জনমত গঠনে অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখেন। মওলানা আজাদ ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক জীবন্ত কিংবদন্তি। তিনি হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রবল প্রবক্তা ছিলেন এবং দেশভাগের ঘোর বিরোধী ছিলেন। ১৯২৩ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি নির্বাচিত হন। মহাত্মা গান্ধী তাঁকে অভিহিত করেছিলেন ‘প্লাটোর সমান মেধার অধিকারী’ (A man of the calibre of Plato) হিসেবে। প্রিয় সুধী, স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে মওলানা আজাদের অবদান অনস্বীকার্য। আজকের আধুনিক ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি তাঁরই হাতে গড়া। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির মুক্তি সম্ভব নয়। তাঁর নেতৃত্বেই ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’ (IIT) এবং ‘ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন’ (UGC) এর মতো বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে ওঠে। শিক্ষার প্রসারে তাঁর এই অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁর জন্মদিনটিকে ভারতে ‘জাতীয় শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৯২ সালে তাঁকে মরণোত্তর ‘ভারতরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই মহান জ্ঞানতাপসের নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর ত্যাগ ও শিক্ষার দর্শন সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন মওলানা আজাদের মতো জ্ঞানের সন্ধানে ব্রতী হয়ে একটি আলোকিত ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়ে তুলতে পারি। মওলানা আবুল কালাম আজাদ তাঁর কর্ম ও প্রজ্ঞার মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
কবি জয় গোস্বামী-এর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা । ১০ নভেম্বর

কবি জয় গোস্বামী-এর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। কবি জয় গোস্বামী-এর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ১০ নভেম্বর। আজ আমরা এমন এক কবির জন্মদিন উদযাপন করছি, যিনি গত কয়েক দশকে বাংলা কবিতার শরীরে এক অলৌকিক মায়া আর অসাধারণ গদ্যছন্দের কারুকাজ বুনে দিয়েছেন। যিনি ‘পাগলী তোমার সঙ্গে’ কিংবা ‘উন্মাদিনী’র কবি—আমাদের প্রিয় জয় গোস্বামী। উপস্থিত সুধী, জয় গোস্বামী ১৯৫৪ সালের ১০ নভেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর শৈশব ও কৈশোরের বড় একটি সময় কেটেছে নদীয়া জেলার রানাঘাটে। তাঁর বাবা মধুসূদন গোস্বামী ছিলেন একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী। খুব অল্প বয়স থেকেই কবি এক বিচিত্র জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন, আর সেই অভিজ্ঞতাই তাঁর কবিতাকে করেছে ঋদ্ধ ও সংবেদনশীল। সত্তরের দশকে যখন তিনি লিখতে শুরু করেন, তখন থেকেই তাঁর কলম প্রচলিত ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল। তাঁর কবিতার চিত্রকল্প ও শব্দবিন্যাস পাঠককে এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে নিয়ে যায়। ১৯৯৭ সালে তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘যত্রতত্র’ এবং পরবর্তীতে ২০০০ সালে ‘পাগলী তোমার সঙ্গে’ কাব্যের জন্য তিনি অর্জন করেন মর্যাদাপূর্ণ ‘সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার’। এছাড়া তিনি দুইবার ‘আনন্দ পুরস্কার’ সহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তাঁর কালজয়ী কাব্যগ্রন্থ ও উপন্যাসসমূহ বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ: ‘ক্রিসমাস ও শীতের সনেটগুচ্ছ’ ‘হাঁসখালি থেকে আসা একদল পরীরা’ ‘যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল’ ‘সেই সব শিয়ালরা’ (উপন্যাস) প্রিয় সুধী, জয় গোস্বামী এমন একজন কবি, যিনি আমাদের চারপাশের অতি সাধারণ মুহূর্তগুলোকে অলৌকিক করে তোলেন। তাঁর কবিতায় প্রেম যেমন তীব্র, তেমনি সমাজের অসংগতি আর মানুষের একাকিত্বের হাহাকারও সমানভাবে মূর্ত। তিনি কেবল নিভৃতচারী কবি নন, বরং তাঁর কলম সবসময় মানবতার পক্ষে সোচ্চার। বাংলা কবিতার পাঠকদের কাছে তিনি এক ধ্রুবতারার মতো, যাঁর আলো নতুন প্রজন্মের কবিদের পথ দেখায়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে এই মহৎ কবির নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন কবির সেই সংবেদনশীল দৃষ্টি দিয়ে জীবন ও জগৎকে দেখতে শিখি এবং নিজেদের সাংস্কৃতিক চেতনাকে আরও উন্নত করি। কবি জয় গোস্বামী তাঁর অমর কাব্যকীর্তির মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যের ভুবনে চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
সুকুমার রায়-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা । ৩০ অক্টোবর
সুকুমার রায়-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। সুকুমার রায়-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ৩০ অক্টোবর। আজ আমরা এমন এক কালজয়ী স্রষ্টার জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি বাংলা সাহিত্যে ‘ননসেন্স রাইম’ বা আবোল-তাবোল ধারার প্রবর্তক। তিনি আমাদের শৈশবকে রাঙিয়ে দেওয়া সেই প্রিয় মানুষ, যার কল্পনার জগতে হুকোমুখো হ্যাংলা থেকে শুরু করে কাঠবুড়োরা ভিড় করে। তিনি আর কেউ নন—সুকুমার রায়। উপস্থিত সুধী, সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ছিলেন প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক ও মুদ্রণ বিশেষজ্ঞ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী এবং মা বিধুমুখী দেবী। উল্লেখ্য যে, বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় তাঁরই সুযোগ্য পুত্র। সুকুমার রায় কেবল একজন লেখক বা কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন উচ্চশিক্ষিত বিজ্ঞানী ও আলোকচিত্র শিল্পী। তিনি ইংল্যান্ড থেকে প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র হিসেবে রসায়ন ও পদার্থবিদ্যায় স্নাতক করার পর মুদ্রণ বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। সুকুমার রায়ের সাহিত্য মানেই কেবল নিছক হাসি নয়, বরং গভীর হিউমার আর যুক্তির এক অপূর্ব মেলবন্ধন। তাঁর ‘আবোল-তাবোল’, ‘হ-য-ব-র-ল’, ‘পাগলা দাশু’ এবং ‘খাই-খাই’ বাংলা সাহিত্যের এমন অমূল্য সম্পদ যা ছোট-বড় সকল পাঠককে সমানভাবে আনন্দ দেয়। তাঁর সৃষ্টিতে আমরা পাই এক আশ্চর্য অদ্ভুত দুনিয়া, যা আমাদের প্রথাগত চিন্তার বাইরে নিয়ে যায়। তাঁর কালজয়ী কিছু পঙক্তি আজও আমাদের মুখে মুখে ঘোরে: “হাঁস ছিল সজারু, (ব্যাকরণ মানি না) হয়ে গেল হাঁসজারু কেমনে তা জানি না।” “বদ্যিনাথ তলায় গো, আছে এক তিল্লাই রে…” মজার ব্যাপার হলো, তাঁর ব্যঙ্গাত্মক লেখাগুলোর গভীরে সমাজ ও মানুষের আচরণের সূক্ষ্ম সমালোচনা লুকিয়ে থাকতো। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে তিনি মারা গেলেও তাঁর রেখে যাওয়া কাজ আজও বাংলা সাহিত্যের আকাশে ধ্রুবতারার মতো উজ্জ্বল। প্রিয় সুধী, সুকুমার রায় আমাদের শিখিয়েছেন কল্পনার ডানা মেলে দিতে এবং গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে চিন্তা করতে। তাঁর জীবন ও সাহিত্য আমাদের সৃজনশীল হতে অনুপ্রাণিত করে। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই অনন্য স্রষ্টার নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন সুকুমার রায়ের সেই অনাবিল আনন্দ আর সৃজনশীলতাকে আমাদের জীবনে ধারণ করতে পারি। সুকুমার রায় তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রতিটি বাঙালির শৈশবে ও হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
পাবলো পিকাসো-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা । ২৫ অক্টোবর

পাবলো পিকাসো-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। পাবলো পিকাসো-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ২৫ অক্টোবর। আজ আমরা বিংশ শতাব্দীর শিল্পকলা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, আধুনিক চিত্রকলার জাদুকর পাবলো পিকাসো-এর জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি। তিনি এমন একজন শিল্পী ছিলেন যিনি ক্যানভাসে সুন্দরের প্রচলিত সংজ্ঞাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়ে নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি উপহার দিয়েছিলেন। উপস্থিত সুধী, পাবলো পিকাসো ১৮৮১ সালের ২৫ অক্টোবর স্পেনের মালাগা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম ছিল অবিশ্বাস্য রকমের দীর্ঘ, তবে বিশ্ব তাঁকে এক নামেই চেনে—পিকাসো। তাঁর বাবা হোসে রুইজ ব্লাস্কো নিজেও একজন চিত্রশিল্পী ও শিক্ষক ছিলেন। শৈশব থেকেই পিকাসোর প্রতিভা ছিল বিস্ময়কর। বলা হয়ে থাকে, কথা বলা শেখার আগেই তিনি ছবি আঁকতে শিখেছিলেন। পিকাসোর শিল্পজীবন ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। তিনি কেবল চিত্রশিল্পী ছিলেন না; তিনি একাধারে ভাস্কর, ছাপচিত্র শিল্পী, মৃৎশিল্পী এবং মঞ্চ নকশাকার। শিল্পকলার ইতিহাসে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত তাঁর উদ্ভাবিত ‘কিউবিজম’ বা ঘনকবাদ আন্দোলনের জন্য। তাঁর আঁকা ছবিগুলোকে বিভিন্ন কালখণ্ডে ভাগ করা হয়, যার মধ্যে ‘ব্লু পিরিয়ড’ (Blue Period) এবং ‘রোজ পিরিয়ড’ (Rose Period) অত্যন্ত বিখ্যাত। তাঁর কালজয়ী সৃষ্টির মধ্যে ১৯৩৭ সালে আঁকা ‘গুয়ের্নিকা’ (Guernica) চিত্রকর্মটি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং যুদ্ধের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী শিল্প-প্রতিবাদ হিসেবে স্বীকৃত। প্রিয় সুধী, পিকাসো তাঁর দীর্ঘ ৯১ বছরের জীবনে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, “প্রতিটি শিশুই একজন শিল্পী, সমস্যা হলো বড় হওয়ার পরও কীভাবে শিল্পী থাকা যায় তা নিয়ে।” তাঁর কাজ আমাদের শেখায় প্রথাগত নিয়ম ভেঙে কীভাবে সৃজনশীলতার নতুন দুয়ার উন্মোচন করা যায়। তিনি ছিলেন আধুনিকতার প্রতীক, যিনি শিল্পের মাধ্যমে সমসাময়িক রাজনীতি ও মানবিক সংকটকে তুলে ধরেছেন। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে এই মহান শিল্পীকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন পিকাসোর অদম্য সৃজনশীলতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবনকে বৈচিত্র্যময় ও অর্থবহ করে তুলতে পারি। পাবলো পিকাসো তাঁর অমর তুলির টানে বিশ্বের শিল্পমনা মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
শারদীয় দুর্গাপূজা ২০১০ উপলক্ষে ছুটির নোটিশ

বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সমাপনী লগ্ন ‘বিজয়া দশমী’ উপলক্ষে ‘গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস’-এ আগামী ১৭ অক্টোবর ২০১০ (রবিবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই দিন প্রতিষ্ঠানের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। প্লুরালিস্ট সোসাইটি ও গুরুকুলের দর্শন গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস একটি ‘প্লুরালিস্ট সোসাইটি’ বা বহুত্ববাদী সমাজ বিনির্মাণে বিশ্বাসী। গুরুকুল মনে করে, একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনা হবে এমন এক মিলনমেলা যেখানে সকল ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষ তাদের স্ব-স্ব বিশ্বাস ও সংস্কৃতি নিয়ে পরম শ্রদ্ধার সাথে সহাবস্থান করবে। শারদীয় দুর্গাপূজার এই ছুটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বিরতি নয়, বরং প্রতিটি সম্প্রদায়ের উৎসবকে সমান মর্যাদা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার একটি সনিষ্ঠ প্রয়াস। ছুটির বিস্তারিত সময়সূচী প্রশাসন বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী: ছুটির তারিখ: ১৭ অক্টোবর ২০১০ (রবিবার)। কার্যক্রম পুনরায় শুরু: ১৮ অক্টোবর ২০১০ (সোমবার) থেকে ক্যাম্পাসের সকল ক্লাস, পরীক্ষা এবং দাপ্তরিক কাজ পূর্বনির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী যথারীতি পরিচালিত হবে। নিরাপত্তা ও ভ্রাতৃত্বের নির্দেশনা উৎসবকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও উৎসবের পবিত্রতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীকে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপনের জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে। গুরুকুল বিশ্বাস করে, উৎসবের আনন্দ যখন বৈষম্যহীনভাবে সকলের মাঝে ভাগ করে নেওয়া হয়, তখনই একটি সুন্দর ও সহনশীল সমাজ গড়ে ওঠে। কর্তৃপক্ষের বার্তা গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাসের প্রশাসন বিভাগ জানিয়েছে, “গুরুকুল পরিবার বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্যে বিশ্বাস করে। আমাদের ক্যাম্পাসে সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানই আমাদের প্রকৃত শিক্ষার পরিচয়। বিজয়া দশমীর এই পুণ্য তিথিতে আমরা সকল ধর্মাবলম্বীদের মাঝে মৈত্রী ও সংহতির জয়গান গাই।” গুরুকুল কুষ্টিয়া ক্যাম্পাস পরিবারের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়াবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমীর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। আরও দেখুন: গুরুকুল ক্যাম্পাসে দ্বীন ও ধর্ম বিষয়ক নীতিমালা
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ৭ সেপ্টেম্বর। আজ আমরা এমন এক কালজয়ী কথাশিল্পীর জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি গত শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যকে এক নতুন আধুনিকতা ও প্রাণপ্রাচুর্য দান করেছিলেন। তিনি আমাদের প্রিয় ‘নীললোহিত’, আমাদের প্রিয় ‘সনাতন পাঠক’—অমর সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। উপস্থিত সুধী, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৩৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ফরিদপুর জেলার (বর্তমান বাংলাদেশ) মাদারীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। দেশভাগের পর তাঁদের পরিবার কলকাতায় চলে গেলেও তাঁর লেখায় ও হৃদয়ে বাংলাদেশ সবসময় এক বিশেষ স্থান জুড়ে ছিল। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার ও সাংবাদিক। বাংলা সাহিত্যে ১৯৫০-এর দশকে যে নতুন কাব্যধারার সূচনা হয়েছিল, তিনি ছিলেন তার অন্যতম পথিকৃৎ এবং বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ‘কৃত্তিবাস’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্মের ব্যপ্তি বিশাল। তাঁর ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘সেই সময়’ ও ‘প্রথম আলো’ বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একা এবং কয়েকজন’ বাংলা কবিতার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। তিনি কেবল বড়দের জন্যই লেখেননি; তাঁর সৃষ্ট কিশোর গোয়েন্দা চরিত্র ‘কাকাবাবু’ আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে রোমাঞ্চের স্বাদ দিচ্ছে। ১৯৮৫ সালে তিনি ‘সেই সময়’ উপন্যাসের জন্য ভারতের জাতীয় ‘সাহিত্য অকাদেমি’ পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর জনপ্রিয় সৃষ্টির কিছু পঙক্তি ও চরিত্র আজও আমাদের মুখে মুখে ঘোরে: “কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটল, কেউ কথা রাখেনি” “নীরা, এই জানলার কাছে এসে দাঁড়াও” কাকাবাবু ও সন্তুর সেই রোমাঞ্চকর অভিযানগুলো। প্রিয় সুধী, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন আপাদমস্তক একজন সংস্কৃতিবান ও আধুনিক মানুষ। তিনি দুই বাংলার সাহিত্যিক ও পাঠকদের মাঝে এক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর লেখনীতে যেমন ফুটে উঠেছে নাগরিক জীবনের প্রেম ও একাকিত্ব, তেমনি উঠে এসেছে ইতিহাসের বিশাল ক্যানভাস। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে ইতিহাসের ধূসর পাতা থেকে প্রাণবন্ত মানুষগুলোকে খুঁজে আনতে হয়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই কথাশিল্পীর নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন তাঁর নির্ভীক ও আধুনিক সাহিত্যবোধ থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবনকে জ্ঞান ও মননশীলতায় আলোকিত করতে পারি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর অবিনশ্বর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস (বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী) উপলক্ষে বক্তৃতা

জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা শোকের আবহে বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। জাতীয় শোক দিবস (বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী) উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আজকের এই শোকাতুর দিবসের সশ্রদ্ধ অভিবাদন। আজ ১৫ আগস্ট। আমাদের জাতীয় শোক দিবস। আজ থেকে ৫১ বছর আগে ১৯৭৫ সালের এই অভিশপ্ত ভোরে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আজ আমরা গভীর শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সেই মহান নেতাকে, যাঁর আঙুলের ইশারায় একটি পরাধীন জাতি পেয়েছিল মুক্তির স্বাদ। উপস্থিত সুধী, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই কালরাত্রিতে কেবল একজন ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়নি, বরং হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনা ও স্বপ্নকে। ঘাতকদের বুলেটে সেদিন শাহাদাত বরণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তাঁর তিন পুত্র—শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসেরসহ পরিবারের অনেক সদস্য। এমনকি ঘাতকরা রেহাই দেয়নি বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদকেও। দেশের বাইরে থাকায় সেদিন প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা—আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধু ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর সারাটি জীবন কেটেছে বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৬-র ছয় দফা, ৬৯-র গণঅভ্যুত্থান এবং ৭১-র মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ধাপে তিনি ছিলেন আমাদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা। তাঁর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। তিনি কেবল বাংলাদেশের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশ্ব মানবতার কণ্ঠস্বর। কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ঠিকই বলেছিলেন, “আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু আমি শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতায় তিনিই হিমালয়।” প্রিয় সুধী, বঙ্গবন্ধু আমাদের একটি মানচিত্র দিয়েছেন, একটি পতাকা দিয়েছেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল ‘সোনার বাংলা’ গড়ার—যেখানে কোনো ক্ষুধা থাকবে না, দারিদ্র্য থাকবে না, থাকবে না কোনো বৈষম্য। ঘাতকরা তাঁকে সশরীরে আমাদের মাঝ থেকে ছিনিয়ে নিলেও তাঁর আদর্শ ও চেতনাকে মুছে ফেলতে পারেনি। আজ বাংলাদেশ যখন বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে, তখনই তাঁর সেই স্বপ্নগুলো পূর্ণতা পাচ্ছে। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই শোকাতুর আয়োজনে বারবার আমাদের জাতির পিতার নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস জানি এবং তাঁর ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন আমাদের কর্মের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সেই কাঙ্ক্ষিত ‘সোনার বাংলা’ গড়ার কারিগর হতে পারি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর কর্ম ও আদর্শের মধ্য দিয়ে বাঙালির হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা
কবি শহীদ কাদরী-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা
কবি শহীদ কাদরী-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। কবি শহীদ কাদরী-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ১৪ই আগস্ট। আজ আমরা এমন এক কবির জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি দেশবিভাগোত্তর বাংলা কবিতায় নাগরিক জীবন, আধুনিকতা এবং নিঃসঙ্গতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি আমাদের আধুনিক কবিতার প্রবাদপ্রতিম পুরুষ—কবি শহীদ কাদরী। উপস্থিত সুধী, শহীদ কাদরী ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট কলকাতার পার্ক সার্কাসে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর তিনি সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন। তিনি ছিলেন পঞ্চাশের দশকের অন্যতম প্রভাবশালী কবি। যদিও তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা মাত্র চারটি, কিন্তু বাংলা কবিতায় তাঁর গভীরতা ও প্রভাব অপরিসীম। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো— ‘উত্তরাধিকার’, ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’, ‘কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই’ এবং ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’। শহীদ কাদরী ছিলেন মূলত নগর-মনস্কতার কবি। ঢাকা শহরের অলিগলি, নাগরিক যন্ত্রণা আর আধুনিক মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধ তাঁর কলমে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। ১৯৭৩ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ২০১১ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। দীর্ঘ প্রবাস জীবনেও তাঁর হৃদয়ে বাংলাদেশ এবং বাংলা ভাষা সর্বদা প্রদীপ্ত ছিল। প্রিয় সুধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ছিল অটুট। তাঁর ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’ কবিতাটি আমাদের জাতীয় চেতনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। যেখানে তিনি যুদ্ধ ও সংঘাতের বিপরীতে প্রেমের জয়গান গেয়েছেন: “ভয় নেই / আমি এমন ব্যবস্থা করব / যাতে সেনাবাহিনীর বদলে / চারা গাছগুলো অভিবাদন করবে তোমাকে” তাঁর কবিতার সেই কালজয়ী পঙক্তিগুলো আজও প্রতিটি তরুণের মনে আশার আলো জ্বালায়। তিনি ছিলেন একজন রুচিশীল ও প্রগতিশীল মানুষ, যাঁর জীবনবোধ আমাদের শেখায় কীভাবে প্রতিকূলতার মাঝেও শিল্পের শুদ্ধতা বজায় রাখতে হয়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার কবির নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন এই মহান শিল্পীর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের কৃষ্টি ও মাতৃভাষাকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় লালন করতে পারি। কবি শহীদ কাদরী তাঁর অবিনশ্বর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রতিটি বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা