গুরুকুল ক্যাম্পাস লার্নিং নেটওয়ার্ক, GCLN

পাবলো পিকাসো-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা । ২৫ অক্টোবর

পাবলো পিকাসো

পাবলো পিকাসো-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। পাবলো পিকাসো-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ২৫ অক্টোবর। আজ আমরা বিংশ শতাব্দীর শিল্পকলা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, আধুনিক চিত্রকলার জাদুকর পাবলো পিকাসো-এর জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি। তিনি এমন একজন শিল্পী ছিলেন যিনি ক্যানভাসে সুন্দরের প্রচলিত সংজ্ঞাকে ভেঙে চুরমার করে দিয়ে নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি উপহার দিয়েছিলেন। উপস্থিত সুধী, পাবলো পিকাসো ১৮৮১ সালের ২৫ অক্টোবর স্পেনের মালাগা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম ছিল অবিশ্বাস্য রকমের দীর্ঘ, তবে বিশ্ব তাঁকে এক নামেই চেনে—পিকাসো। তাঁর বাবা হোসে রুইজ ব্লাস্কো নিজেও একজন চিত্রশিল্পী ও শিক্ষক ছিলেন। শৈশব থেকেই পিকাসোর প্রতিভা ছিল বিস্ময়কর। বলা হয়ে থাকে, কথা বলা শেখার আগেই তিনি ছবি আঁকতে শিখেছিলেন। পিকাসোর শিল্পজীবন ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। তিনি কেবল চিত্রশিল্পী ছিলেন না; তিনি একাধারে ভাস্কর, ছাপচিত্র শিল্পী, মৃৎশিল্পী এবং মঞ্চ নকশাকার। শিল্পকলার ইতিহাসে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত তাঁর উদ্ভাবিত ‘কিউবিজম’ বা ঘনকবাদ আন্দোলনের জন্য। তাঁর আঁকা ছবিগুলোকে বিভিন্ন কালখণ্ডে ভাগ করা হয়, যার মধ্যে ‘ব্লু পিরিয়ড’ (Blue Period) এবং ‘রোজ পিরিয়ড’ (Rose Period) অত্যন্ত বিখ্যাত। তাঁর কালজয়ী সৃষ্টির মধ্যে ১৯৩৭ সালে আঁকা ‘গুয়ের্নিকা’ (Guernica) চিত্রকর্মটি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং যুদ্ধের ভয়াবহতার বিরুদ্ধে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী শিল্প-প্রতিবাদ হিসেবে স্বীকৃত। প্রিয় সুধী, পিকাসো তাঁর দীর্ঘ ৯১ বছরের জীবনে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, “প্রতিটি শিশুই একজন শিল্পী, সমস্যা হলো বড় হওয়ার পরও কীভাবে শিল্পী থাকা যায় তা নিয়ে।” তাঁর কাজ আমাদের শেখায় প্রথাগত নিয়ম ভেঙে কীভাবে সৃজনশীলতার নতুন দুয়ার উন্মোচন করা যায়। তিনি ছিলেন আধুনিকতার প্রতীক, যিনি শিল্পের মাধ্যমে সমসাময়িক রাজনীতি ও মানবিক সংকটকে তুলে ধরেছেন। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে এই মহান শিল্পীকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন পিকাসোর অদম্য সৃজনশীলতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবনকে বৈচিত্র্যময় ও অর্থবহ করে তুলতে পারি। পাবলো পিকাসো তাঁর অমর তুলির টানে বিশ্বের শিল্পমনা মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ৭ সেপ্টেম্বর। আজ আমরা এমন এক কালজয়ী কথাশিল্পীর জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি গত শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যকে এক নতুন আধুনিকতা ও প্রাণপ্রাচুর্য দান করেছিলেন। তিনি আমাদের প্রিয় ‘নীললোহিত’, আমাদের প্রিয় ‘সনাতন পাঠক’—অমর সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। উপস্থিত সুধী, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৩৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ফরিদপুর জেলার (বর্তমান বাংলাদেশ) মাদারীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। দেশভাগের পর তাঁদের পরিবার কলকাতায় চলে গেলেও তাঁর লেখায় ও হৃদয়ে বাংলাদেশ সবসময় এক বিশেষ স্থান জুড়ে ছিল। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার ও সাংবাদিক। বাংলা সাহিত্যে ১৯৫০-এর দশকে যে নতুন কাব্যধারার সূচনা হয়েছিল, তিনি ছিলেন তার অন্যতম পথিকৃৎ এবং বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ‘কৃত্তিবাস’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্যকর্মের ব্যপ্তি বিশাল। তাঁর ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘সেই সময়’ ও ‘প্রথম আলো’ বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একা এবং কয়েকজন’ বাংলা কবিতার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। তিনি কেবল বড়দের জন্যই লেখেননি; তাঁর সৃষ্ট কিশোর গোয়েন্দা চরিত্র ‘কাকাবাবু’ আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে রোমাঞ্চের স্বাদ দিচ্ছে। ১৯৮৫ সালে তিনি ‘সেই সময়’ উপন্যাসের জন্য ভারতের জাতীয় ‘সাহিত্য অকাদেমি’ পুরস্কারে ভূষিত হন। তাঁর জনপ্রিয় সৃষ্টির কিছু পঙক্তি ও চরিত্র আজও আমাদের মুখে মুখে ঘোরে: “কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটল, কেউ কথা রাখেনি” “নীরা, এই জানলার কাছে এসে দাঁড়াও” কাকাবাবু ও সন্তুর সেই রোমাঞ্চকর অভিযানগুলো। প্রিয় সুধী, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন আপাদমস্তক একজন সংস্কৃতিবান ও আধুনিক মানুষ। তিনি দুই বাংলার সাহিত্যিক ও পাঠকদের মাঝে এক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর লেখনীতে যেমন ফুটে উঠেছে নাগরিক জীবনের প্রেম ও একাকিত্ব, তেমনি উঠে এসেছে ইতিহাসের বিশাল ক্যানভাস। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে ইতিহাসের ধূসর পাতা থেকে প্রাণবন্ত মানুষগুলোকে খুঁজে আনতে হয়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই কথাশিল্পীর নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন তাঁর নির্ভীক ও আধুনিক সাহিত্যবোধ থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের জীবনকে জ্ঞান ও মননশীলতায় আলোকিত করতে পারি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর অবিনশ্বর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস (বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী) উপলক্ষে বক্তৃতা

Gurukul observes National Mourning Day | গুরুকুলে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন

জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা শোকের আবহে বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। জাতীয় শোক দিবস (বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকী) উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আজকের এই শোকাতুর দিবসের সশ্রদ্ধ অভিবাদন। আজ ১৫ আগস্ট। আমাদের জাতীয় শোক দিবস। আজ থেকে ৫১ বছর আগে ১৯৭৫ সালের এই অভিশপ্ত ভোরে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আজ আমরা গভীর শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সেই মহান নেতাকে, যাঁর আঙুলের ইশারায় একটি পরাধীন জাতি পেয়েছিল মুক্তির স্বাদ। উপস্থিত সুধী, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই কালরাত্রিতে কেবল একজন ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়নি, বরং হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনা ও স্বপ্নকে। ঘাতকদের বুলেটে সেদিন শাহাদাত বরণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তাঁর তিন পুত্র—শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসেরসহ পরিবারের অনেক সদস্য। এমনকি ঘাতকরা রেহাই দেয়নি বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদকেও। দেশের বাইরে থাকায় সেদিন প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা—আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধু ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর সারাটি জীবন কেটেছে বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৬-র ছয় দফা, ৬৯-র গণঅভ্যুত্থান এবং ৭১-র মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ধাপে তিনি ছিলেন আমাদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা। তাঁর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। তিনি কেবল বাংলাদেশের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিশ্ব মানবতার কণ্ঠস্বর। কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো ঠিকই বলেছিলেন, “আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু আমি শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতায় তিনিই হিমালয়।” প্রিয় সুধী, বঙ্গবন্ধু আমাদের একটি মানচিত্র দিয়েছেন, একটি পতাকা দিয়েছেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল ‘সোনার বাংলা’ গড়ার—যেখানে কোনো ক্ষুধা থাকবে না, দারিদ্র্য থাকবে না, থাকবে না কোনো বৈষম্য। ঘাতকরা তাঁকে সশরীরে আমাদের মাঝ থেকে ছিনিয়ে নিলেও তাঁর আদর্শ ও চেতনাকে মুছে ফেলতে পারেনি। আজ বাংলাদেশ যখন বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে, তখনই তাঁর সেই স্বপ্নগুলো পূর্ণতা পাচ্ছে। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই শোকাতুর আয়োজনে বারবার আমাদের জাতির পিতার নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস জানি এবং তাঁর ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন আমাদের কর্মের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সেই কাঙ্ক্ষিত ‘সোনার বাংলা’ গড়ার কারিগর হতে পারি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর কর্ম ও আদর্শের মধ্য দিয়ে বাঙালির হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা

কবি শহীদ কাদরী-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা

কবি শহীদ কাদরী-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। কবি শহীদ কাদরী-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ ১৪ই আগস্ট। আজ আমরা এমন এক কবির জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি দেশবিভাগোত্তর বাংলা কবিতায় নাগরিক জীবন, আধুনিকতা এবং নিঃসঙ্গতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি আমাদের আধুনিক কবিতার প্রবাদপ্রতিম পুরুষ—কবি শহীদ কাদরী। উপস্থিত সুধী, শহীদ কাদরী ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট কলকাতার পার্ক সার্কাসে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর তিনি সপরিবারে ঢাকায় চলে আসেন। তিনি ছিলেন পঞ্চাশের দশকের অন্যতম প্রভাবশালী কবি। যদিও তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা মাত্র চারটি, কিন্তু বাংলা কবিতায় তাঁর গভীরতা ও প্রভাব অপরিসীম। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো— ‘উত্তরাধিকার’, ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’, ‘কোথাও কোনো ক্রন্দন নেই’ এবং ‘আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও’। শহীদ কাদরী ছিলেন মূলত নগর-মনস্কতার কবি। ঢাকা শহরের অলিগলি, নাগরিক যন্ত্রণা আর আধুনিক মানুষের বিচ্ছিন্নতাবোধ তাঁর কলমে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। ১৯৭৩ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ২০১১ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। দীর্ঘ প্রবাস জীবনেও তাঁর হৃদয়ে বাংলাদেশ এবং বাংলা ভাষা সর্বদা প্রদীপ্ত ছিল। প্রিয় সুধী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা ছিল অটুট। তাঁর ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’ কবিতাটি আমাদের জাতীয় চেতনার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। যেখানে তিনি যুদ্ধ ও সংঘাতের বিপরীতে প্রেমের জয়গান গেয়েছেন: “ভয় নেই / আমি এমন ব্যবস্থা করব / যাতে সেনাবাহিনীর বদলে / চারা গাছগুলো অভিবাদন করবে তোমাকে” তাঁর কবিতার সেই কালজয়ী পঙক্তিগুলো আজও প্রতিটি তরুণের মনে আশার আলো জ্বালায়। তিনি ছিলেন একজন রুচিশীল ও প্রগতিশীল মানুষ, যাঁর জীবনবোধ আমাদের শেখায় কীভাবে প্রতিকূলতার মাঝেও শিল্পের শুদ্ধতা বজায় রাখতে হয়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার কবির নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন এই মহান শিল্পীর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের কৃষ্টি ও মাতৃভাষাকে সর্বোচ্চ মর্যাদায় লালন করতে পারি। কবি শহীদ কাদরী তাঁর অবিনশ্বর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রতিটি বাঙালি পাঠকের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা

নেলসন ম্যান্ডেলা-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা

নেলসন ম্যান্ডেলা

নেলসন ম্যান্ডেলা-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। নেলসন ম্যান্ডেলা-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ আমরা এমন এক ব্যক্তিত্বের জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি অদম্য সাহস, ক্ষমা এবং মানবিকতার এক জীবন্ত কিংবদন্তি। যিনি শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য আর বর্ণবাদের অন্ধকার থেকে দক্ষিণ আফ্রিকাকে মুক্ত করে বিশ্বকে দেখিয়েছেন সহনশীলতার নতুন পথ। তিনি আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় নেতা—নেলসন ম্যান্ডেলা। উপস্থিত সুধী, নেলসন ম্যান্ডেলা ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার এমভেজো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব নাম ছিল রোলিহ্লাহ্লা ম্যান্ডেলা। কর্মবৈচিত্র্যের দিক দিয়ে তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের এক অকুতোভয় সব্যসাচী প্রতিভা—যিনি একাধারে আইনজীবী, রাজনৈতিক নেতা এবং শান্তিকামী বিশ্বনাগরিক। আজ তাঁর জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায় স্মরণ করা প্রয়োজন। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কারণে তাঁকে দীর্ঘ ২৭ বছর কারাবরণ করতে হয়েছিল। কিন্তু জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ তাঁর আদর্শকে আরও উজ্জ্বল করেছিল। ১৯৯০ সালে কারামুক্ত হওয়ার পর তিনি যখন ক্ষমতায় আসীন হলেন, তখন তিনি প্রতিহিংসার পথ বেছে নেননি। বরং ‘সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন’ (Truth and Reconciliation Commission) গঠনের মাধ্যমে শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের এক সুতোয় গেঁথে গড়ে তুলেছিলেন ‘রেইনবো নেশন’ বা রংধনু জাতি। ১৯৯৩ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন এবং ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। প্রিয় সুধী, নেলসন ম্যান্ডেলার সাথে বাংলাদেশের এক বিশেষ আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আমাদের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছিলেন। সেই সময় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, শিক্ষা হলো বিশ্বকে পরিবর্তন করার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। ম্যান্ডেলার অনেক কালজয়ী উক্তি আজও সারা বিশ্বে অনুপ্রেরণা জোগায়: “পৃথিবীর কোনো মানুষই অন্য মানুষকে তার গায়ের রঙের কারণে ঘৃণা করে জন্মায় না। মানুষকে ঘৃণা করা শিখতে হয়, আর যদি তারা ঘৃণা করা শিখতে পারে, তবে তাদের ভালোবাসাও শেখানো সম্ভব।” তিনি কেবল নিজের দেশের নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন পৃথিবীর প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের কণ্ঠস্বর। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, বিজয় মানে কেবল জয়লাভ নয়, বরং প্রতিটি পতনের পর আবার উঠে দাঁড়ানো। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই মহান নেতার নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর আদর্শ সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন এই মহাপ্রাণের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে পারি। নেলসন ম্যান্ডেলা তাঁর কর্ম ও আদর্শের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা

১১ই জুলাই: সেক্টর কমান্ডার্স ডে উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামো

১১ই জুলাই ‘সেক্টর কমান্ডার্স ডে’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। ১১ই জুলাই: সেক্টর কমান্ডার্স ডে উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই ঐতিহাসিক ১১ই জুলাই ‘সেক্টর কমান্ডার্স ডে’-র বিনম্র শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা। আজ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে কলকাতার ৮ নম্বর থিয়েটার রোডে শুরু হয়েছিল এক মহাকাব্যিক সামরিক মহড়া, যা ‘সেক্টর কমান্ডার্স কনফারেন্স ১৯৭১’ নামে পরিচিত। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের (প্রবাসী সরকার) প্রধান কার্যালয় বা ওয়ার টাইম হেডকোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহৃত হতো ছিল সেই ৮ থিয়েটার রোড। ১১ই জুলাই থেকে ১৭ই জুলাই পর্যন্ত চলা সেই ঐতিহাসিক সম্মেলনের শুরুর দিনটিকে স্মরণ করে গুরুকুল আজ পালন করছে ‘সেক্টর কমান্ডার্স ডে’। উপস্থিত সুধী, ১৯৭১ সালের মার্চের পর থেকে সারা দেশে যে বিচ্ছিন্ন ও বিশৃঙ্খল প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, তাকে একটি সুশৃঙ্খল যুদ্ধের রূপ দিতে এই সম্মেলনের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এই কনফারেন্সের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সেক্টরের জন্য একজন করে যোগ্য কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর নেতৃত্বে এই দিন থেকেই মুক্তিবাহিনীর ‘চেইন অব কমান্ড’ বা প্রশাসনিক কাঠামো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়। ১১ জুলাই অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুজিবনগর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কর্নেল এম. এ. জি. ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি (C-in-C) হিসেবে পুনঃনিয়োগ দেয়। এই দিনেই লেঃ কর্নেল আবদুর রবকে সেনাবাহিনী প্রধান এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকারকে উপ-প্রধান সেনাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই কনফারেন্সটি ১১ জুলাই শুরু হয়ে ১৭ জুলাই পর্যন্ত চলেছিল, যেখানে কমান্ডারদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া এবং যুদ্ধ কৌশল চূড়ান্ত করা হয়। আজ এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি সেই বীর সেনানী সেক্টর কমান্ডারদের: ১ নম্বর সেক্টর: মেজর জিয়াউর রহমান (পরবর্তীতে মেজর রফিকুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন)। ২ নম্বর সেক্টর: মেজর খালেদ মোশাররফ (পরবর্তীতে মেজর এ.টি.এম হায়দার দায়িত্ব পালন করেন)। ৩ নম্বর সেক্টর: মেজর কে.এম. শফিউল্লাহ (পরবর্তীতে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান দায়িত্ব পালন করেন)। ৪ নম্বর সেক্টর: মেজর সি.আর. দত্ত। ৫ নম্বর সেক্টর: মেজর মীর শওকত আলী। ৬ নম্বর সেক্টর: উইং কমান্ডার এম. খাদেমুল বাশার। ৭ নম্বর সেক্টর: মেজর নাজমুল হক (পরবর্তীতে মেজর কাজী নুরুজ্জামান দায়িত্ব পালন করেন)। ৮ নম্বর সেক্টর: মেজর আবু ওসমান চৌধুরী (পরবর্তীতে মেজর এম.এ. মঞ্জুর দায়িত্ব পালন করেন)। ৯ নম্বর সেক্টর: মেজর এম.এ. জলিল (পরবর্তীতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন মেজর এম.এ. মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন)। ১০ নম্বর সেক্টর: এটি ছিল নৌ-সেক্টর, যা সরাসরি প্রধান সেনাপতির অধীনে ছিল। ১১ নম্বর সেক্টর: মেজর আবু তাহের (পরবর্তীতে মেজর এম. হামিদুল্লাহ খান দায়িত্ব পালন করেন)।   সেক্টর কমান্ডারদের এই সম্মেলনেই যুদ্ধের কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সাধারণ মানুষ ও তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত গেরিলা বাহিনী এবং সম্মুখ সমরের যোদ্ধাদের মাঝে সমন্বয় সাধনের জন্য এটি ছিল এক মাইলফলক। বিচ্ছিন্ন প্রতিরোধ থেকে একটি সুসংগঠিত সামরিক বাহিনীতে রূপান্তরিত হওয়ার সেই ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনালগ্ন ছিল আজকের এই ১১ই জুলাই। আমাদের বীর সেক্টর কমান্ডারদের সেই দূরদর্শী সিদ্ধান্তই বাংলাদেশের বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছিল। প্রিয় সুধী, একটি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের জন্য কেবল আবেগ নয়, প্রয়োজন হয় সুশৃঙ্খল নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক শক্তি। আমাদের মুক্তিবাহিনীর এই সাংগঠনিক কাঠামো আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর এই দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন— “১৯৭১ সালের সেক্টর কমান্ডারদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস কেবল একটি সামরিক পরিকল্পনা ছিল না, এটি ছিল বাঙালির লড়াকু সংস্কৃতির এক সুশৃঙ্খল বহিঃপ্রকাশ। একজন মানুষ যখন তাঁর দেশের ইতিহাসের এই বীরত্বগাথা ও রণকৌশলকে হৃদয়ে ধারণ করে নিজের জীবনকে সুশৃঙ্খল করে তোলে, তখনই সে প্রকৃত ও ওয়েল-ফর্মড মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। আমরা যদি আমাদের এই মুক্তি সংগ্রামের সাংগঠনিক ইতিহাসকে ভুলে যাই, তবে আমাদের জাতীয় পরিচয় অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তাই আমরা মুক্তিবাহিনীর সেই চেইন অব কমান্ড এবং সেক্টর কমান্ডারদের ত্যাগের ইতিহাসকে প্রতিনিয়ত আমাদের জাতীয় জীবনে চর্চা করতে চাই।” সেই দর্শনে দীক্ষিত হয়েই আমরা আজ এই ‘সেক্টর কমান্ডার্স ডে’ পালন করছি। আমরা বিশ্বাস করি, সেক্টর কমান্ডারদের সেই সাহস ও শৃঙ্খলার শিক্ষা আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য দেশপ্রেমের এক অনন্য পাঠ হয়ে থাকবে। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে আমাদের সকল সেক্টর কমান্ডার এবং অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি এবং তাঁদের সুস্বাস্থ্য ও আত্মার শান্তি কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। সেই সাথে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ সম্ভ্রমহারা মা-বোনকে। গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি বাংলাদেশের জাতির পিতা ও মুক্তিযুদ্ধের সুপ্রিম কমান্ডার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদসহ মুক্তিযুদ্ধকালীন সকল নেতৃত্ব এবং জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করা সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। আজ আমরা অঙ্গীকার করি—আমরা যেন তাঁদের সেই ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এই স্বাধীন বাংলাদেশকে একটি সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। বাংলাদেশের সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জয় হোক। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা

কবি নির্মলেন্দু গুণ-এর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা, ২১ জুন

নির্মলেন্দু গুণ

কবি নির্মলেন্দু গুণ-এর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। কবি নির্মলেন্দু গুণ-এর জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ আমরা এমন এক কবির জন্মদিন উদযাপন করছি, যাঁর কবিতার শব্দে বারুদ আছে, আছে প্রেমের গভীর আকুতি এবং রাজনীতির অমোঘ সত্য। তিনি আমাদের আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অবিনাশী কণ্ঠস্বর, গণমানুষের কবি—নির্মলেন্দু গুণ। উপস্থিত সুধী, নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালের ২১ জুন নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম সুখেন্দুবিকাশ গুণ এবং মায়ের নাম বিনাপাণি গুণ। কর্মবৈচিত্র্যের দিক দিয়ে তিনি একাধারে কবি, সাংবাদিক এবং একজন দক্ষ চিত্রশিল্পী। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ প্রকাশিত হওয়ার পরেই তিনি বাংলা সাহিত্যে তাঁর শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেন। আজ একটি বিশেষ বিষয়ে আলোকপাত করা প্রয়োজন। নির্মলেন্দু গুণ সেই বিরল সাহসীদের একজন, যিনি ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের বিয়োগান্তক ঘটনার পর যখন সারা দেশে এক স্তব্ধতা নেমে এসেছিল, তখন বুক ফুলিয়ে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কবিতা লিখেছিলেন। তাঁর সেই কালজয়ী কবিতা ‘হুলিয়া’ বা ‘স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো’—বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তাঁর পঙক্তিগুলো আমাদের জাতীয় চেতনার অংশ হয়ে আছে। প্রিয় সুধী, কবির সৃষ্টিতে প্রেম ও রাজনীতি সমান্তরালভাবে চলে। তিনি কেবল রাজপথের কবি নন, তিনি হৃদয়ের গভীরতম অনুভূতিরও রূপকার। তাঁর লেখনীতে যেমন উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের বঞ্চনার কথা, তেমনি ফুটে উঠেছে রূপসী বাংলার নিসর্গ। তাঁর জনপ্রিয় কিছু পঙক্তি আজও আমাদের মুখে মুখে ফেরে: “স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো” “আমি যখন মেজাজ হারিয়ে ফেলি, তখন তুমি আকাশ হয়ে যাও” “হাত বাড়িয়ে দাও, আমি তোমার আঙুল ছুঁতে চাই” তিনি তাঁর অসামান্য সাহিত্যকর্মের জন্য ১৯৮২ সালে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ এবং ২০০১ সালে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হন। ২০১৬ সালে তিনি লাভ করেন ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’। কবির জীবন আমাদের শিখিয়েছে আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে কীভাবে শিল্পের মাধ্যমে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই মহৎ কবির নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন এই অকুতোভয় কবির জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের ভাষা, দেশ এবং সংস্কৃতির প্রতি আজীবন অনুগত থাকতে পারি। কবি নির্মলেন্দু গুণ তাঁর কালজয়ী কবিতার মধ্য দিয়ে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা

বেগম সুফিয়া কামাল-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা, ২০ জুন

বেগম সুফিয়া কামাল-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। বেগম সুফিয়া কামাল-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ আমরা এমন এক মহীয়সী নারীর জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যিনি বাঙালির সকল প্রগতিশীল আন্দোলন এবং নারী জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি আমাদের প্রাণের মমতায় আগলে রাখা ‘জননী সাহসিকা’—কবি বেগম সুফিয়া কামাল। উপস্থিত সুধী, সুফিয়া কামাল ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম সৈয়দ আবদুল বারী এবং মায়ের নাম সৈয়দা সাবেরা খাতুন। এমন এক সময়ে তিনি জন্মেছিলেন যখন মুসলিম নারীদের শিক্ষার পরিবেশ ছিল অত্যন্ত প্রতিকূল। কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হন এবং বেগম রোকেয়ার আদর্শকে ধারণ করে সমাজ সংস্কারে আত্মনিয়োগ করেন। কর্মবৈচিত্র্যের দিক দিয়ে তিনি ছিলেন এক অনন্য সব্যসাচী ব্যক্তিত্ব। তিনি কেবল একজন কবিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৬১-র রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী প্রতিরোধ আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। যুদ্ধের দিনগুলোতে অবরুদ্ধ ঢাকায় থেকেও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে সহায়তা করেছেন এবং পরবর্তীতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে তোলা আন্দোলনেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। ১৯৬৯ সালে গঠিত ‘মহিলা পরিষদ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী হিসেবে তিনি আমৃত্যু নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াই করে গেছেন। প্রিয় সুধী, সুফিয়া কামালের কবিতা ও গদ্য আমাদের সাহিত্যভাণ্ডারকে ঋদ্ধ করেছে। তাঁর লেখনীতে ফুটে উঠেছে প্রকৃতি, দেশপ্রেম এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষের কথা। তাঁর কালজয়ী গ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘সাঁঝের মায়া’, ‘মায়া কাজল’, ‘মন ও জীবন’ এবং ‘একাত্তরের ডায়েরি’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কবির সেই অমোঘ পঙক্তি আজও আমাদের প্রেরণা দেয়: “আমাদের এই দেশে হবে সেই ছেলে কবে/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?” সুফিয়া কামাল ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূর্ত প্রতীক। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে মাথা নত না করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়। ১৯৮১ সালে যখন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী পালনে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তিনি সেই রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে নেমেছিলেন। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার এই মহীয়সী নারীর নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর ত্যাগ ও আদর্শ সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন এই জননী সাহসিকার জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের দেশপ্রেম ও মানবিকতাকে আজীবন অক্ষুণ্ণ রাখতে পারি। বেগম সুফিয়া কামাল তাঁর কর্ম এবং আদর্শের মধ্য দিয়ে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা

কাজী নজরুল ইসলাম-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা । ২৪ মে

কাজী নজরুল ইসলাম

কাজী নজরুল ইসলাম-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। কাজী নজরুল ইসলাম-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। আজ এগারোই জ্যৈষ্ঠ। আজ আমরা এমন এক আগ্নেয়গিরির জন্মজয়ন্তী উদযাপন করছি, যার কলম পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার গান গেয়েছে, যার সুর বাঙালির হৃদয়ে সাহসের সঞ্চার করেছে। তিনি আমাদের জাতীয় কবি, আমাদের চিরকালের বিদ্রোহী কবি—কাজী নজরুল ইসলাম। উপস্থিত সুধী, কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে (বাংলা পঞ্জিকা মতে ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জীবন ছিল এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের গল্প। অতি দারিদ্র্যের কারণে তাঁর শৈশব কেটেছে ‘দুখু মিয়া’ হয়ে, কাজ করেছেন লেটোর দলে, এমনকি রুটির দোকানেও। কিন্তু কোনো প্রতিকূলতাই তাঁর ভেতরের প্রতিভাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। কর্মবৈচিত্র্যের দিক দিয়ে তিনি ছিলেন এক অতুলনীয় সব্যসাচী—তিনি একাধারে কবি, সাংবাদিক, সংগীতজ্ঞ, নাট্যকার এবং সৈনিক। আজ একটি বিশেষ বিষয়ে আলোকপাত করা প্রয়োজন। নজরুল কেবল প্রেমের কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন সাম্যের কবি। ১৯২২ সালে তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতা প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলা সাহিত্যে এক অভূতপূর্ব আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তাঁর কলম ছিল কামানের গোলার মতো শক্তিশালী। ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতার জন্য তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছিল, কিন্তু শিকল পরে তিনি গেয়েছেন শিকল ভাঙার গান। প্রিয় সুধী, নজরুলের অবদান কেবল সাহিত্যে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি বাংলা সংগীতের এক বিশাল ভাণ্ডার তৈরি করে দিয়ে গেছেন। প্রায় ৩০০০-এর বেশি গান রচনা করেছেন তিনি, যা ‘নজরুল গীতি’ নামে পরিচিত। ধ্রুপদী রাগাশ্রয়ী গান থেকে শুরু করে গজল, শ্যামাসংগীত এবং বিশেষ করে ইসলামী সংগীত রচনায় তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। আজও আমাদের প্রতিটি জাতীয় উৎসবে তাঁর সেই কালজয়ী সৃষ্টিসমূহ নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করে: “বল বীর— বল উন্নত মম শির!” “কারার ঐ লৌহকপাট, ভেঙে ফেল কর রে লোপাট” “ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশির ঈদ” “মোর প্রিয়া হবে এসো রানী, দেব খোঁপায় তারার ফুল” ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে কবিকে সপরিবারে বাংলাদেশে আনা হয় এবং তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনা আজও আমাদের দেশপ্রেমের শ্রেষ্ঠ পাথেয়। আমাদের গুরুকুল প্রমুখ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর সব সময় বলেন— ‘বড় মানুষদের সম্পর্কে জানো, তাঁদের নিয়ে পড়ো, তাঁদের কথা ভাবো এবং তাঁদের জন্য দোয়া-দরুদ পড়ো, প্রার্থনা করো। এটা এজন্য নয় যে এতে তাঁদের উপকার হবে; বরং পড়ো তোমার নিজের জন্য, যেন ওইসব খুবসুরত আলোকিত নামের আলোকরশ্মি তোমার মনের ওপর পড়ে এবং তোমার জীবন আলোকিত হয়’। সেই রেওয়াজে আমরা আজ এই সুন্দর আয়োজনে বারবার আমাদের জাতীয় কবির নাম নিই, তাঁকে স্মরণ করি, তাঁর সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানি এবং তাঁর জন্য সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—আমরা যেন নজরুলের বিদ্রোহী ও মানবিক জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারি। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর অবিনশ্বর কর্মের মধ্য দিয়ে প্রতিটি বাঙালির রক্তে ও চেতনায় চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় নজরুল! জয় গুরুকুল! আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা

আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা । ১২ মে

১২ মে - আন্তর্জাতিক নার্স দিবস রচনা

আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকল আয়োজনের মধ্যে শিক্ষার্থীরা বক্তৃতা করে। একজন শিক্ষার্থীর বক্তৃতা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আপলোড করে রাখা হলো। আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উদযাপন উপলক্ষে বক্তৃতা সম্মানিত ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, আপনাদের সবাইকে গুরুকুলের পক্ষ থেকে জানাই আন্তর্জাতিক নার্স দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা। আজ ১২ মে, ২০২৬। সমগ্র বিশ্বে আজ অত্যন্ত মর্যাদার সাথে পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক নার্স দিবস’। আজকের এই দিনটি কেবল একটি তারিখ নয়, বরং এটি মানবসেবার এক অনন্য প্রতীকের জন্মদিন। ১৮২০ সালের আজকের এই দিনে ইতালির ফ্লোরেন্সে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আধুনিক নার্সিং পরিষেবার অগ্রদূত ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং বিশ্বের সকল নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সেবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই এই দিবসটি পালন করা হয়। উপস্থিত সুধী, ইতিহাসের দিকে তাকালে আমরা দেখি, আন্তর্জাতিক ধাত্রী পরিষদ (ICN) ১৯৬৫ সাল থেকে এই দিনটি পালন করে আসছে। তবে ১৯৭৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ১২ মে দিনটিকে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল আমাদের শিখিয়েছেন যে, নার্সিং কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি মহান ব্রত বা সেবা। তিনি ছিলেন ‘দ্য লেডি উইথ দ্য ল্যাম্প’, যিনি ক্রিমিয়ার যুদ্ধে প্রদীপ হাতে সেবা দিয়ে মানবতার এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছিলেন। প্রিয় সুধী, প্রতি বছর এই দিবসের একটি নির্দিষ্ট প্রতিপাদ্য থাকে যা আমাদের আগামীর পথ দেখায়। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক নার্স দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে: “আমাদের নার্স। আমাদের ভবিষ্যৎ। ক্ষমতায়িত নার্সরাই জীবন বাঁচান” (Our Nurses. Our Future. Empowered Nurses Save Lives)। এই প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর হলেন আমাদের নার্সরা। তাঁদের যদি আধুনিক শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উপযুক্ত পরিবেশে ক্ষমতায়িত করা যায়, তবে তাঁরা আরও নিপুণভাবে মানুষের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হবেন। সেই দর্শনে দীক্ষিত হয়েই আমরা আজ ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের মতো মহান ‘আলোকবর্তিকা’র জীবনী চর্চা করি। আমরা বিশ্বাস করি, নার্সদের নিঃস্বার্থ সেবা ও মমত্ববোধ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরাও নিজেদের জীবনকে পরোপকারে নিয়োজিত করতে পারি। একজন নার্স যখন ক্ষমতায়িত হয়ে এবং হাসিমুখে রোগীর সেবা করেন, তখন সেখানে কেবল চিকিৎসা হয় না, বরং মানবতার এক জয়গান গীত হয়। সেই রেওয়াজে আমরা আজ বিশ্বের সকল নার্স ও ধাত্রীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই এবং তাঁদের সুস্বাস্থ্য কামনায় সম্মিলিত প্রার্থনা করি। আর সেই সাথে অঙ্গীকার করি—সেবা ও ত্যাগের যে আদর্শ ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল রেখে গেছেন, তা যেন আমাদের প্রাত্যহিক জীবনেও প্রতিফলিত হয়। ধন্যবাদ সবাইকে। জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু! জয় গুরুকুল! * বক্তৃতাটি ২০২৬ সালের জন্য আপডেট করা হলো। আরও দেখুন: গুরুকুলের গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও গুণীজন স্মরণ পঞ্জিকা